Bangladesh ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পর্কে করুণা করা ব্যক্তি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘৃণিত

তানিয়া হাসান
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 369

সম্পর্কে করুণা! এর সঠিক সংজ্ঞা কী? কারও প্রতি দয়া করা? বিষয়টি মোটেও এমন নয়। আমার মনে হয়, এর চেয়ে নির্দয়তা আর হতে পারে না। অসহায় মানুষকে দয়া করা যেতেই পারে এবং সেটা পুণ্যও বটে; কিছু কিছু ক্ষেত্রে করুণাও পুণ্যের। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে করুণা করা বীভৎসতা ব্যতীত কিছু নয়।

একজন মানুষকে আপনি প্রচণ্ড অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন, তাঁর উপস্থিতিতে চরম বিরক্তি অনুভব করেও তাঁকে সহ্য করাকেই আপাতদৃষ্টিতে করুণা বলা হয়। কী দরকার সম্পর্কে এমন ঘৃণিত জটিলতা তৈরি করার? যাকে পছন্দ করছেন না, তাকে সরাসরি বলে দিন; এতে বিপরীতের মানুষটি অন্তত প্রতারিত হবে না। সে ভাববে আপনি তাকে চাচ্ছেন, ভালোবাসছেন, সায় দিচ্ছেন এবং এই ভাবনা থেকে সে সম্পর্কের গভীর থেকে গভীরতম অধ্যায়ে পৌঁছাবে। অথচ আপনি তাকে একবিন্দুও পছন্দ করছেন না! তো আপনার করুণায় বিপরীত মানুষটির কি উপকার হচ্ছে, নাকি তীব্র ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন?

করুণা কি যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে? বন্ধুত্ব, প্রেম, প্রতিবেশী, দাম্পত্য পর্যন্ত অহরহ এমন হয়ে থাকে। তবে ভাই-বোন, বাবা-মা, সন্তান—এমন সম্পর্কে যদি কেউ করুণা করে, তাহলে তার ভয়াবহতা স্পর্শ করার মতো বিপর্যয় সম্ভবত পৃথিবীতে আর নেই। যার সাথে রক্তের সম্পর্ক নেই, যে সম্পর্ক ভাঙার এখতিয়ার আছে, সেখান থেকে কষ্ট বা অপমান নিয়ে হলেও আপনি সবটা জেনে বেরিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু নিজ রক্ত থেকে কোথায় পালাবেন? সত্যিই কি পালানো যায়? কোনোভাবেই যায় না।

সম্পর্কে করুণার কী প্রয়োজন? যাকে ভালো লাগবে না, তার থেকে দূরে থাকুন; তাকে বুঝিয়ে বলুন বা বুঝিয়ে দিন যে, তাকে আপনি চাচ্ছেন না। সাথে থাকবেন, সুযোগ দেবেন, সুযোগ নেবেন আর ঘৃণা করবেন—এটা তো হতে পারে না! এমন সম্পর্ক পতিতা ও খরিদ্দারের সম্পর্কের চেয়েও ঘৃণিত। পতিতাকে পছন্দ না করলেও তার সাথে মিলিত হয়, তবে সেখানে একটি সখ্যতা আছে; সেখানে সবটাই হয় জেনে-বুঝে, যা করুণাময় সম্পর্কে নেই।

​সম্পর্কে করুণা করা ব্যক্তি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘৃণিত।

লেখা সূত্র: ফেসবুক

 

সম্পর্কে করুণা করা ব্যক্তি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘৃণিত

আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

সম্পর্কে করুণা! এর সঠিক সংজ্ঞা কী? কারও প্রতি দয়া করা? বিষয়টি মোটেও এমন নয়। আমার মনে হয়, এর চেয়ে নির্দয়তা আর হতে পারে না। অসহায় মানুষকে দয়া করা যেতেই পারে এবং সেটা পুণ্যও বটে; কিছু কিছু ক্ষেত্রে করুণাও পুণ্যের। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে করুণা করা বীভৎসতা ব্যতীত কিছু নয়।

একজন মানুষকে আপনি প্রচণ্ড অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন, তাঁর উপস্থিতিতে চরম বিরক্তি অনুভব করেও তাঁকে সহ্য করাকেই আপাতদৃষ্টিতে করুণা বলা হয়। কী দরকার সম্পর্কে এমন ঘৃণিত জটিলতা তৈরি করার? যাকে পছন্দ করছেন না, তাকে সরাসরি বলে দিন; এতে বিপরীতের মানুষটি অন্তত প্রতারিত হবে না। সে ভাববে আপনি তাকে চাচ্ছেন, ভালোবাসছেন, সায় দিচ্ছেন এবং এই ভাবনা থেকে সে সম্পর্কের গভীর থেকে গভীরতম অধ্যায়ে পৌঁছাবে। অথচ আপনি তাকে একবিন্দুও পছন্দ করছেন না! তো আপনার করুণায় বিপরীত মানুষটির কি উপকার হচ্ছে, নাকি তীব্র ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন?

করুণা কি যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে? বন্ধুত্ব, প্রেম, প্রতিবেশী, দাম্পত্য পর্যন্ত অহরহ এমন হয়ে থাকে। তবে ভাই-বোন, বাবা-মা, সন্তান—এমন সম্পর্কে যদি কেউ করুণা করে, তাহলে তার ভয়াবহতা স্পর্শ করার মতো বিপর্যয় সম্ভবত পৃথিবীতে আর নেই। যার সাথে রক্তের সম্পর্ক নেই, যে সম্পর্ক ভাঙার এখতিয়ার আছে, সেখান থেকে কষ্ট বা অপমান নিয়ে হলেও আপনি সবটা জেনে বেরিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু নিজ রক্ত থেকে কোথায় পালাবেন? সত্যিই কি পালানো যায়? কোনোভাবেই যায় না।

সম্পর্কে করুণার কী প্রয়োজন? যাকে ভালো লাগবে না, তার থেকে দূরে থাকুন; তাকে বুঝিয়ে বলুন বা বুঝিয়ে দিন যে, তাকে আপনি চাচ্ছেন না। সাথে থাকবেন, সুযোগ দেবেন, সুযোগ নেবেন আর ঘৃণা করবেন—এটা তো হতে পারে না! এমন সম্পর্ক পতিতা ও খরিদ্দারের সম্পর্কের চেয়েও ঘৃণিত। পতিতাকে পছন্দ না করলেও তার সাথে মিলিত হয়, তবে সেখানে একটি সখ্যতা আছে; সেখানে সবটাই হয় জেনে-বুঝে, যা করুণাময় সম্পর্কে নেই।

​সম্পর্কে করুণা করা ব্যক্তি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘৃণিত।

লেখা সূত্র: ফেসবুক