Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 282

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসের অধীনে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ)। শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় প্রায় ১৮ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ইংরেজি ভার্সনে আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদ্যমান ক্যাডেট কলেজগুলোর অনুরূপ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ, সুশৃঙ্খল, নৈতিকতাবোধসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি এ তথ্য জানান। এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি জানান, গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১২ আগস্ট থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত আরও কিছু উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে গার্লস উইং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ জানান, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নয়, বরং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, ক্রীড়া ও ডিজিটাল লিটারেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা হবে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে শুধু শিক্ষা বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অধ্যক্ষ। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কর্মসংস্থান, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন সেবা খাতের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে ফরিদপুরে মানসম্মত ও টেকসই আবাসিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক অবকাঠামো, আবাসিক পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরের শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে এখান থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন শেখ নাহিদ হাসান প্রত্যয় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক ও নান্দনিক বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রম ও আবাসিক সুবিধা ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসের অধীনে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ)। শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় প্রায় ১৮ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ইংরেজি ভার্সনে আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদ্যমান ক্যাডেট কলেজগুলোর অনুরূপ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ, সুশৃঙ্খল, নৈতিকতাবোধসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি এ তথ্য জানান। এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি জানান, গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১২ আগস্ট থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত আরও কিছু উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে গার্লস উইং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ জানান, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নয়, বরং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, ক্রীড়া ও ডিজিটাল লিটারেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা হবে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে শুধু শিক্ষা বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অধ্যক্ষ। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কর্মসংস্থান, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন সেবা খাতের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে ফরিদপুরে মানসম্মত ও টেকসই আবাসিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক অবকাঠামো, আবাসিক পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরের শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে এখান থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন শেখ নাহিদ হাসান প্রত্যয় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক ও নান্দনিক বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রম ও আবাসিক সুবিধা ঘুরিয়ে দেখানো হয়।