Bangladesh ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ>>

অপারেশন ব্লুপ্রিন্ট

আবরার ফাহাদ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 149

কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স টিম বা ‘সিআইটি’ (CIT)-এর চিফ মেজর জেনারেল রাশেদ জামান-এর টেবিলে রাখা লাল ফাইলটার ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘অপারেশন ব্লুপ্রিন্ট’। ফাইলের ভেতরের তথ্যগুলো দেশের সর্বোচ্চ স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বসের উল্টো দিকে বসা এজেন্সির সেরা ম্যান, রানা সিনহার চোখে চিলতে কৌতূহল।

রাশেদ জামান পাইপটা অ্যাশট্রেতে রেখে গম্ভীর গলায় বললেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, সিনহা। দেশের সাম্প্রতিক কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে তাদের কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা ও জোন বাতিলের পর পর্দার আড়ালে এক ভয়ঙ্কর মেগা কিলিং মিশনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছে। তাদের টার্গেট—আগামী ডিসেম্বরের আগেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া।”

রানা সিনহা সোজা হয়ে বসল। “কিন্তু মিশনটা এক্সিকিউট করছে কে, স্যার?”

“৮১-র মে মাসের সেই অভিশপ্ত ট্র্যাজেডির কথা মনে আছে, সিনহা?” রাশেদ জামান-এর চোখে পুরোনো স্মৃতির ছায়া। “সেই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, মেজর (অব.) মুনতাসির মামুন এত বছর ওপাশের এক মেগাসিটিতে নাম ভাঁড়িয়ে আত্মগোপন করেছিল। কখনো ‘বিপ্লব সরকার’, কখনো ‘জয় ব্যানার্জী’ নাম নিয়ে সে ওখানকার গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বস্ত স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছিল। এক জরুরি সতর্কবার্তার পর আমাদের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স জানতে পেরেছে, মুনতাসির এবার এক অতি গোপন অ্যাসাসিনেশন মিশন নিয়ে ছদ্মবেশে দেশে ঢুকেছে।”

রানা সিনহা মৃদু হাসল, যার অর্থ—শিকার এবার তার হাতের নাগালে। “মুনতাসিরের বর্তমান লোকেশন?”

“বনানী। ওখানেই একটা সেফ হাউজে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের সাথে ওর ফাইনাল মিটিং হওয়ার কথা। ডিরেক্ট অ্যাকশনে যাও, সিনহা। তবে মনে রেখ, মুনতাসিরকে জ্যান্ত চাই। ও হচ্ছে ৮১ সালের সেই অমীমাংসিত অধ্যায়ের শেষ জীবিত সাক্ষী।”

বনানীর অ্যাকশন

রাত বারোটা। বনানীর ১১ নম্বর রোডের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে থামল একটি কালো এসইউভি। গাড়ি থেকে নিঃশব্দে নেমে এল রানা সিনহা। তার পরনে কালো ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, কোমরে সাইলেন্সর লাগানো আধুনিক পিস্তল।

কানের মাইক্রো-রিসিভারে সিআইটি (CIT) এবং ডিবির স্পেশাল কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অলরেডি এলাকাটা কর্ডন করে ফেলেছে।

বিল্ডিংয়ের চারতলার ফ্ল্যাটের বেলকনির কাঁচ গলে আবছা আলো আসছিল। সিনহা পাইপ বেয়ে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে ওপরে উঠে এল। কাঁচের স্লাইডিং ডোরের ওপাশে দাঁড়িয়ে দুজন লোক নিচু গলায় কথা বলছে। তাদের একজনের বয়স সত্তরের কোঠায় হলেও শরীর এখনো সামরিক ঋজুতা ধরে রেখেছে—মেজর (অব.) মুনতাসির মামুন।

“সব রেডি, স্যার,” ওপাশের আঞ্চলিক উচ্চারণে কথা বলল অন্যজন। “ডিসেম্বরের ডেডলাইনের আগেই কাজ শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি প্রোটোকল আমরা ব্রেক করেছি।”

মুনতাসিরের চোখে চাপা উত্তেজনা। সে জানত, একটু ভুল হলেই সব শেষ।

রানা সিনহা আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। কনুইয়ের এক প্রচণ্ড আঘাতে বেলকনির কাঁচ ভেঙে ঘরের ভেতর আছ্রে পড়ল সে।

রোল কমপ্লিট করে মুহূর্তের মধ্যে সে সোজাসুজি তার সামনে লক করল—তার নিখুঁত নিশানা সরাসরি তাক করা ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মুনতাসির মামুনের দিকে। চোখের পলকে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল সে।

“হ্যান্ডস আপ!” সিনহার গমগমে গলা ঘর কাঁপিয়ে দিল।

মুনতাসিরের সঙ্গী পকেট থেকে অস্ত্র বের করার চেষ্টা করতেই সিনহার হাতের পিস্তল গর্জে উঠল। নিখুঁত নিশানা—লোকটার ডান কাঁধ ফুটো করে বুলেট বেরিয়ে গেল, অস্ত্র ছিটকে পড়ল মেঝেতে।

মুনতাসির পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু সিনহা চিতাবাঘের মতো লাফিয়ে গিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরল। এক জুডো থ্রো-তে মুনতাসিরকে মেঝেতে আছড়ে ফেলে তার হাত দুটো পিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিল সে।

ঠিক তখনই সিআইটি ও ডিবির বিশেষ দল দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করল।

মিশন কমপ্লিট

বনানীর সেই সেফ হাউজ থেকে যখন মুনতাসিরকে কড়া পাহারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সিনহা তখন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রাতের ঢাকার দিকে তাকিয়ে একটা cigarette ধরাল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাজানো মেগা প্ল্যানটি সিআইটি-র জালে পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সকালে সিআইটি চিফের চেম্বারে সিনহা যখন রিপোর্ট জমা দিচ্ছিল, টিভির টিকারগুলোতে তখন ব্রেকিং নিউজ চলছে—”বনানী থেকে গ্রেফতার ৮১-র ট্র্যাজেডির মূল আসামি মুনতাসির! প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর আন্তর্জাতিক মেগা কিলিং মিশন ব্যর্থ। আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে জাতীয় কমিশন গঠনের জোর দাবি।”

মেজর জেনারেল রাশেদ জামান টিভির দিকে তাকিয়ে সিনহাকে বললেন, “দুর্দান্ত কাজ করেছ, সিনহা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্লিপার সেলের পুরো নেটওয়ার্কটা উপড়ে ফেলা গেছে।”

রানা সিনহা তার ট্যাকটিক্যাল গগলসটা চোখে পরে মৃদু হেসে বলল, “দেশটা যখন আমাদের, স্যার, তখন এখানকার ইতিহাস নতুন করে ওলটপালট করার চেষ্টা করাটা যে কারো জন্যই বড্ড বিপজ্জনক।”

শেয়ার করুন

অপারেশন ব্লুপ্রিন্ট

আপডেট সময় : ০৪:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স টিম বা ‘সিআইটি’ (CIT)-এর চিফ মেজর জেনারেল রাশেদ জামান-এর টেবিলে রাখা লাল ফাইলটার ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘অপারেশন ব্লুপ্রিন্ট’। ফাইলের ভেতরের তথ্যগুলো দেশের সর্বোচ্চ স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বসের উল্টো দিকে বসা এজেন্সির সেরা ম্যান, রানা সিনহার চোখে চিলতে কৌতূহল।

রাশেদ জামান পাইপটা অ্যাশট্রেতে রেখে গম্ভীর গলায় বললেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, সিনহা। দেশের সাম্প্রতিক কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে তাদের কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা ও জোন বাতিলের পর পর্দার আড়ালে এক ভয়ঙ্কর মেগা কিলিং মিশনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছে। তাদের টার্গেট—আগামী ডিসেম্বরের আগেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া।”

রানা সিনহা সোজা হয়ে বসল। “কিন্তু মিশনটা এক্সিকিউট করছে কে, স্যার?”

“৮১-র মে মাসের সেই অভিশপ্ত ট্র্যাজেডির কথা মনে আছে, সিনহা?” রাশেদ জামান-এর চোখে পুরোনো স্মৃতির ছায়া। “সেই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, মেজর (অব.) মুনতাসির মামুন এত বছর ওপাশের এক মেগাসিটিতে নাম ভাঁড়িয়ে আত্মগোপন করেছিল। কখনো ‘বিপ্লব সরকার’, কখনো ‘জয় ব্যানার্জী’ নাম নিয়ে সে ওখানকার গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বস্ত স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছিল। এক জরুরি সতর্কবার্তার পর আমাদের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স জানতে পেরেছে, মুনতাসির এবার এক অতি গোপন অ্যাসাসিনেশন মিশন নিয়ে ছদ্মবেশে দেশে ঢুকেছে।”

রানা সিনহা মৃদু হাসল, যার অর্থ—শিকার এবার তার হাতের নাগালে। “মুনতাসিরের বর্তমান লোকেশন?”

“বনানী। ওখানেই একটা সেফ হাউজে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের সাথে ওর ফাইনাল মিটিং হওয়ার কথা। ডিরেক্ট অ্যাকশনে যাও, সিনহা। তবে মনে রেখ, মুনতাসিরকে জ্যান্ত চাই। ও হচ্ছে ৮১ সালের সেই অমীমাংসিত অধ্যায়ের শেষ জীবিত সাক্ষী।”

বনানীর অ্যাকশন

রাত বারোটা। বনানীর ১১ নম্বর রোডের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে থামল একটি কালো এসইউভি। গাড়ি থেকে নিঃশব্দে নেমে এল রানা সিনহা। তার পরনে কালো ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, কোমরে সাইলেন্সর লাগানো আধুনিক পিস্তল।

কানের মাইক্রো-রিসিভারে সিআইটি (CIT) এবং ডিবির স্পেশাল কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অলরেডি এলাকাটা কর্ডন করে ফেলেছে।

বিল্ডিংয়ের চারতলার ফ্ল্যাটের বেলকনির কাঁচ গলে আবছা আলো আসছিল। সিনহা পাইপ বেয়ে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে ওপরে উঠে এল। কাঁচের স্লাইডিং ডোরের ওপাশে দাঁড়িয়ে দুজন লোক নিচু গলায় কথা বলছে। তাদের একজনের বয়স সত্তরের কোঠায় হলেও শরীর এখনো সামরিক ঋজুতা ধরে রেখেছে—মেজর (অব.) মুনতাসির মামুন।

“সব রেডি, স্যার,” ওপাশের আঞ্চলিক উচ্চারণে কথা বলল অন্যজন। “ডিসেম্বরের ডেডলাইনের আগেই কাজ শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি প্রোটোকল আমরা ব্রেক করেছি।”

মুনতাসিরের চোখে চাপা উত্তেজনা। সে জানত, একটু ভুল হলেই সব শেষ।

রানা সিনহা আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। কনুইয়ের এক প্রচণ্ড আঘাতে বেলকনির কাঁচ ভেঙে ঘরের ভেতর আছ্রে পড়ল সে।

রোল কমপ্লিট করে মুহূর্তের মধ্যে সে সোজাসুজি তার সামনে লক করল—তার নিখুঁত নিশানা সরাসরি তাক করা ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মুনতাসির মামুনের দিকে। চোখের পলকে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল সে।

“হ্যান্ডস আপ!” সিনহার গমগমে গলা ঘর কাঁপিয়ে দিল।

মুনতাসিরের সঙ্গী পকেট থেকে অস্ত্র বের করার চেষ্টা করতেই সিনহার হাতের পিস্তল গর্জে উঠল। নিখুঁত নিশানা—লোকটার ডান কাঁধ ফুটো করে বুলেট বেরিয়ে গেল, অস্ত্র ছিটকে পড়ল মেঝেতে।

মুনতাসির পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু সিনহা চিতাবাঘের মতো লাফিয়ে গিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরল। এক জুডো থ্রো-তে মুনতাসিরকে মেঝেতে আছড়ে ফেলে তার হাত দুটো পিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিল সে।

ঠিক তখনই সিআইটি ও ডিবির বিশেষ দল দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করল।

মিশন কমপ্লিট

বনানীর সেই সেফ হাউজ থেকে যখন মুনতাসিরকে কড়া পাহারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সিনহা তখন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রাতের ঢাকার দিকে তাকিয়ে একটা cigarette ধরাল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাজানো মেগা প্ল্যানটি সিআইটি-র জালে পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সকালে সিআইটি চিফের চেম্বারে সিনহা যখন রিপোর্ট জমা দিচ্ছিল, টিভির টিকারগুলোতে তখন ব্রেকিং নিউজ চলছে—”বনানী থেকে গ্রেফতার ৮১-র ট্র্যাজেডির মূল আসামি মুনতাসির! প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর আন্তর্জাতিক মেগা কিলিং মিশন ব্যর্থ। আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে জাতীয় কমিশন গঠনের জোর দাবি।”

মেজর জেনারেল রাশেদ জামান টিভির দিকে তাকিয়ে সিনহাকে বললেন, “দুর্দান্ত কাজ করেছ, সিনহা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্লিপার সেলের পুরো নেটওয়ার্কটা উপড়ে ফেলা গেছে।”

রানা সিনহা তার ট্যাকটিক্যাল গগলসটা চোখে পরে মৃদু হেসে বলল, “দেশটা যখন আমাদের, স্যার, তখন এখানকার ইতিহাস নতুন করে ওলটপালট করার চেষ্টা করাটা যে কারো জন্যই বড্ড বিপজ্জনক।”