Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র

মূল আপত্তি আয়তনে নয়, সীমানা ও রঙের শেডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

মহাদেশগুলোর প্রকৃত ভৌগোলিক আয়তন সঠিকভাবে তুলে ধরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ (Equal Earth projection) মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়, একমাত্র বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভোটদানে বিরত থাকে ইউক্রেনসহ ৬টি দেশ। তবে মহাদেশগুলোর আকারের পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি না থাকলেও, বিতর্কিত ভূখণ্ডের সীমানা ও রঙের ভিন্নতার কারণে গভীর অস্বস্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত, ইউক্রেন ও জাপান।

নতুন প্রজেকশনের প্রয়োজনীয়তা

১৫৬৯ সালের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মূলত পশ্চিমা কেন্দ্রিক, যা মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রকৃত আকারের চেয়ে অনেক বড় দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, এই মানচিত্রে আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় সমান দেখায়, অথচ বাস্তবে আফ্রিকার ভেতরে গ্রিনল্যান্ডের মতো ১৪টি দেশ আঁটানো সম্ভব। মহাদেশগুলোর সঠিক আয়তন তুলে ধরতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ বাস্তবতার সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় জাতিসংঘ এটি গ্রহণের জোর তাগিদ দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংস্থাটি বাস্তব সমস্যা বাদ দিয়ে ষোড়শ শতাব্দীর বিতর্কিত বিষয়ের পেছনে সময় নষ্ট করছে।

তিন দেশের উদ্বেগের কারণসমূহ

  • ইউক্রেন: মানচিত্রে রাশিয়ার দখলে থাকা ‘ক্রিমিয়া’ উপদ্বীপের রঙ মূল ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের হলদেটে শেডের সাথে বেশি মিলে যায়। ভোটদানে বিরত থাকা ইউক্রেনের মতে, নীতিগত আপত্তি না থাকলেও এভাবে বিতর্কিত ভূখণ্ডের ভুল উপস্থাপন আন্তর্জাতিক মানচিত্রের ‘অপব্যবহার ও বিকৃতির’ সুযোগ তৈরি করবে।
  • জাপান: নতুন মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও বিতর্কিত ‘কুরিল দ্বীপপুঞ্জ’ এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে একই রঙ ব্যবহার করায় আপত্তি জানিয়েছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের দখল করা এই দ্বীপপুঞ্জকে জাপান নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা মানচিত্রের নির্মাতাদের কাছে সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
  • ভারত: ভারত এই মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, কাশ্মীর ও লাদাখের মতো সার্বভৌম ভূখণ্ডকে ভারতের নিজস্ব সরকারি মানচিত্র অনুসারেই দেখাতে হবে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই প্রস্তাবটি কোনো নির্দিষ্ট বিতর্কিত মানচিত্র প্রয়োগকে বাধ্য করে না।

সার্বিকভাবে, ঐতিহাসিক ভৌগোলিক অবিচার শুধরে বিশ্বের সঠিক আয়তন দেখানোর এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, সীমানা সম্পর্কিত রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল রঙের শেডের কারণে এটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র

মূল আপত্তি আয়তনে নয়, সীমানা ও রঙের শেডে

আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাদেশগুলোর প্রকৃত ভৌগোলিক আয়তন সঠিকভাবে তুলে ধরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ (Equal Earth projection) মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়, একমাত্র বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভোটদানে বিরত থাকে ইউক্রেনসহ ৬টি দেশ। তবে মহাদেশগুলোর আকারের পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি না থাকলেও, বিতর্কিত ভূখণ্ডের সীমানা ও রঙের ভিন্নতার কারণে গভীর অস্বস্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত, ইউক্রেন ও জাপান।

নতুন প্রজেকশনের প্রয়োজনীয়তা

১৫৬৯ সালের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মূলত পশ্চিমা কেন্দ্রিক, যা মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রকৃত আকারের চেয়ে অনেক বড় দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, এই মানচিত্রে আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় সমান দেখায়, অথচ বাস্তবে আফ্রিকার ভেতরে গ্রিনল্যান্ডের মতো ১৪টি দেশ আঁটানো সম্ভব। মহাদেশগুলোর সঠিক আয়তন তুলে ধরতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ বাস্তবতার সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় জাতিসংঘ এটি গ্রহণের জোর তাগিদ দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংস্থাটি বাস্তব সমস্যা বাদ দিয়ে ষোড়শ শতাব্দীর বিতর্কিত বিষয়ের পেছনে সময় নষ্ট করছে।

তিন দেশের উদ্বেগের কারণসমূহ

  • ইউক্রেন: মানচিত্রে রাশিয়ার দখলে থাকা ‘ক্রিমিয়া’ উপদ্বীপের রঙ মূল ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের হলদেটে শেডের সাথে বেশি মিলে যায়। ভোটদানে বিরত থাকা ইউক্রেনের মতে, নীতিগত আপত্তি না থাকলেও এভাবে বিতর্কিত ভূখণ্ডের ভুল উপস্থাপন আন্তর্জাতিক মানচিত্রের ‘অপব্যবহার ও বিকৃতির’ সুযোগ তৈরি করবে।
  • জাপান: নতুন মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও বিতর্কিত ‘কুরিল দ্বীপপুঞ্জ’ এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে একই রঙ ব্যবহার করায় আপত্তি জানিয়েছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের দখল করা এই দ্বীপপুঞ্জকে জাপান নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা মানচিত্রের নির্মাতাদের কাছে সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
  • ভারত: ভারত এই মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, কাশ্মীর ও লাদাখের মতো সার্বভৌম ভূখণ্ডকে ভারতের নিজস্ব সরকারি মানচিত্র অনুসারেই দেখাতে হবে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই প্রস্তাবটি কোনো নির্দিষ্ট বিতর্কিত মানচিত্র প্রয়োগকে বাধ্য করে না।

সার্বিকভাবে, ঐতিহাসিক ভৌগোলিক অবিচার শুধরে বিশ্বের সঠিক আয়তন দেখানোর এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, সীমানা সম্পর্কিত রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল রঙের শেডের কারণে এটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।