আলফাডাঙ্গার বড়ভাগে ভাতিজার পর কুপিয়ে হত্যা চাচাকে
- আপডেট সময় : ১২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন্দলের জের ধরে আড়াই মাসের ব্যবধানে এক পরিবারের দ্বিতীয় সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসা আসামিরা এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন।
শনিবার ( সেপ্টেম্বর) রাতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে সশস্ত্র হামলায় রবিউল ইসলাম শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহত রবিউল ইসলাম পাশ্ববর্তী কাশিয়ানী বাজারে চায়ের ব্যবসা করতেন। দোকান বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে সহযাত্রীদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভ্যানচালক আনিচ বিশ্বাস জানান, ভ্যানটি চলন্ত থাকা অবস্থাতেই পেছনে রামদা ও চাইনিজ কুড়ালের মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা একযোগে আক্রমণ করে।
“রবিউল ইসলাম জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়,” বলেন ভ্যানচালক।
গুরুতর আহত মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) এবং লিটন খান (৪০)-কে উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোক্তার বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামে বিগত চার বছর ধরে দুটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য কেন্দ্রিক তীব্র কোন্দল চলছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তাঁর ছেলে স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি হুসাইন শেখ। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন আলাউদ্দিন শেখ ও শওকত শেখ।
গত ২৬ জুন এই সহিংসতার জের ধরেই নিহত হন আলাউদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩০)। শনিবার নিহত রবিউল ইসলাম ছিলেন ওই সুমন শেখের আপন চাচা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজম খান অভিযোগ করে বলেন, সুমন হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে প্রায় এক মাস আগে মূল আসামিরা এলাকায় ফেরেন। জামিনে মুক্ত হয়েই তাঁরা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে এটি পূর্বের হত্যাকাণ্ডের জেরে সংঘটিত বদলা-সংক্রান্ত অপরাধ বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
জামিনে মুক্ত আসামিদের দ্বারা একই পরিবারের ওপর পুনরাবৃত্তিমূলক আক্রমণের এই ঘটনাটি গ্রামীণ এলাকায় বিচারিক জামিনের নিরাপত্তা প্রভাব ও স্থানীয় পুলিশি নজরদারির ঘাটতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

















