বিশ্ব জাকের মঞ্জিলসহ তিনস্থানে জানাজা: বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ
পৈত্রিক ভিটায় দাফন হলেন প্রিয়ভাজন দলিলউদ্দিন আহমেদ
- আপডেট সময় : ১০:৩২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 55
ফরিদপুরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের খাদেম, শহরের পশ্চিম খাবাসপুর নিবাসী অধ্যাপক দলিলউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছরেরও বেশি।
আজন্ম অজাতশত্রু, সদালাপী, নিরহংকারী, পরোপকারী ও বিনয়ী গুণের অধিকারী প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুর-৪ (সদরপুর-চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দৈনিক অগ্নিপ্রহর পরিবার প্রিয় এই অভিভাবকের শূন্যতায় গভীর শোক প্রকাশ করছে।
অধ্যাপক দলিলউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ফজলুর রহমানের বড় ভগ্নিপতি। তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান এম এম শহিদুল ইসলাম শাহীন দৈনিক অগ্নিপ্রহর পত্রিকার প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক।
জানা গেছে, গত বেশ কিছুদিন ধরে অধ্যাপক দলিলউদ্দিন আহমেদ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর থেকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের আগে ঢাকা থেকে তাঁর দেহ ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মিয়াপাড়া সড়কস্থ নিজ বাসভবনে আনা হয়। সেখানে বাসভবন সংলগ্ন বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের খাদেম মাওলানা রইছউদ্দিন মনির। জানাজার পূর্বে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরীজ সহ পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, সাধারণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুরের বাসভবন থেকে গাড়িবহরে তাঁর দেহ সদরপুরের আটরশী বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ সূফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ছাহেবের স্থলাভিষিক্ত আলহাজ খাজা মিয়া ভাইজান মুজাদ্দেদী সাহেবের নির্দেশ ও অনুমতি ক্রমে সেখানে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দরবার শরীফের মসজিদে ফজরের নামাজের পর মাওলানা নোমানীর ইমামতিতে জানাজা ও তরিকতের বিশেষ আমল শেষে দোয়া করা হয়। আপন মুর্শীদের প্রিয় জাকের ভাইগণ হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সকাল সোয়া ৬টার দিকে তাঁকে নিয়ে রওনা হওয়া হয় আমিরাবাদ গ্রামে পৈতৃক ভিটার উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন। পৈতৃক ভিটার উঠানে তৃতীয় দফা জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক দলিলউদ্দিন আহমেদের শ্যালক সরকারি কর্ম কমিশনের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। এ সময় সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশউদ্দিন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পৈতৃক ভিটার উঠানে তৃতীয় দফার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ সিরাজী। এরপর অশ্রুসিক্ত নয়নে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
মরহুম অধ্যাপক দলিলউদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালের ১৯ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনের প্রারম্ভ থেকে শেষাবধি তিনি আপন মুর্শীদ হযরত মাওলানা শাহসূফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ছাহেবের মুরীদ হিসেবে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ধর্মীয় রীতি-আচার অনুসরণ করে গেছেন। তাঁর বাবার নাম কোহেল মৃধা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ৩ কন্যা সহ নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, তাঁর এক শিশু কন্যা সহ দুই মেয়ে আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী দলিলউদ্দিন আহমেদ জীবন দশায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সদরপুর কলেজ, ঢাকার দোহারের মেঘুলা উচ্চ বিদ্যালয়, সদরপুরের বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয় ও ফরিদপুরের জোহরা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি সদরপুর কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের শোক প্রকাশ:
এক শোকবার্তায় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর নিবাসী অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক দলিলউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। আমি এই প্রবীণ শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন। আমিন।”



















