Bangladesh ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান

ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধস্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট অপসারণ করা হয়েছে। ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে প্রশস্ত করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এ অভিযান চালানো হয়। প্রথমদিনে শহরের হাড়কান্দিতে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে গোয়ালচামট ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন এলাকায় মহাসড়কের দুইপাশে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সড়কের পাশে থাকা কাঁচা-পাকা স্থাপনা, দোকানপাট ও হাট-বাজারের কাঁচাপাকা স্থাপনা বেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে মাইকিং করে এসব এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর পর্যন্ত ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। এখানে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণের জায়গার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগে থেকেই একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছিল। 

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বারবার সতর্ক করা হলেও তারা এসব স্থাপনা সরিয়ে নেননি। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক বিভাগের এসব জায়গা সাধারণ মানুষের চলাচল ও রাস্তা প্রশস্ত করার কাজে প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ফরিদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আজমির হোসেন বলেন, সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সড়ক বিভাগের জায়গা উদ্ধারের অভিযানে পুলিশ অংশ নিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য পুলিশ কাজ করছে। অভিযানের সময় র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে হাসপাতাল চত্বর ও সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে থাকা অস্থায়ী দোকানপাটসহ সওজের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অবৈধ দখল ও অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। উচ্ছেদের ফলে হাসপাতাল ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। উচ্ছেদ করা এলাকায় পুনরায় অবৈধ দখল বা দোকানপাট স্থাপন ঠেকাতে নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান

ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধস্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হলো

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট অপসারণ করা হয়েছে। ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে প্রশস্ত করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এ অভিযান চালানো হয়। প্রথমদিনে শহরের হাড়কান্দিতে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে গোয়ালচামট ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন এলাকায় মহাসড়কের দুইপাশে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সড়কের পাশে থাকা কাঁচা-পাকা স্থাপনা, দোকানপাট ও হাট-বাজারের কাঁচাপাকা স্থাপনা বেকু মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে মাইকিং করে এসব এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর পর্যন্ত ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। এখানে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণের জায়গার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগে থেকেই একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছিল। 

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বারবার সতর্ক করা হলেও তারা এসব স্থাপনা সরিয়ে নেননি। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক বিভাগের এসব জায়গা সাধারণ মানুষের চলাচল ও রাস্তা প্রশস্ত করার কাজে প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ফরিদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আজমির হোসেন বলেন, সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সড়ক বিভাগের জায়গা উদ্ধারের অভিযানে পুলিশ অংশ নিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য পুলিশ কাজ করছে। অভিযানের সময় র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে হাসপাতাল চত্বর ও সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে থাকা অস্থায়ী দোকানপাটসহ সওজের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অবৈধ দখল ও অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। উচ্ছেদের ফলে হাসপাতাল ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। উচ্ছেদ করা এলাকায় পুনরায় অবৈধ দখল বা দোকানপাট স্থাপন ঠেকাতে নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।