Bangladesh ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
পৈত্রিক ভিটায় দাফন হলেন প্রিয়ভাজন দলিলউদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিক রূপ পেল ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে প্রেমিকার উপর হামলা: হাসপাতালে ভর্তি ৩ ফমেক হাসপাতালে টেকনিশিয়ান মাইনুলের ‘চুরি সিন্ডিকেট’ ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সভায় সাংবাদিকদের ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান বান্ধবী সহ গ্রেপ্তারের পর বিদেশী পিস্তল উদ্ধার: আদালতে স্বীকারোক্তি র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে যাত্রা শুরু কানাইপুরের হাসান হত্যা মামলায় ৪ আসামীর যাবজ্জীবন নবীনদের দক্ষ ও মানবিক নাগরিকে পরিণত হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ভাঙ্গায় আহত এনজিওকর্মীর মৃত্যু; দুর্ঘটনা, না অন্য কিছু?
ভিডিও করায় সাংবাদিকদের হুমকি

স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে প্রেমিকার উপর হামলা: হাসপাতালে ভর্তি ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 80

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই তরুণী এবং তার মা ও ভাইকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোটে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান‌উল্লাহর বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাংবাদিকেরা সেখানে পৌঁছালে বাড়ির সামনের রাস্তায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ছেলের পরিবারের লোকেরা সাংবাদিকদের উপরে তেড়ে আসে।

এসময় ওই তরুণীকে হুমকি ধামকি ও মারপিটের‌ ভিডিও করার সময় তারা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক কায়দায় সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়।

পরিবারের যুব-যুবা বয়সী থেকে বয়স্ক নারী-পুরুষ একসাথে তারা ওই মেয়ের উপরে চড়াও হয়। সেই ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকেরাও আক্রমণের শিকার হন।

উগ্র কায়দায় তারা ধমক দিয়ে বলতে থাকেন- “মোবাইল বন্ধ করেন, বলতে বলতে তারা জিজ্ঞেস করতে থাকেন- “ভিডিও করলেন ক্যান।” তারপর হুকুম করে বলেন, এই আপনাগে কার্ড আছে? এই বলে সাংবাদিকদের পরিচয় পত্র দেখতে চান। তারপর “ভিডিও ডিলিট করেন” বলে নারী পুরুষেরা একজন সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে সেটি আবার ফিরিয়ে দেন।

আশেপাশে এসময় অনেক লোক জড়ো হতে থাকে আর তাদের গরম শাসানিও বাড়তে থাকে।

অযাচিত উত্তেজনা এড়িয়ে ভিডিও ডিলিট করে এরপর তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে তারা ক্যামেরার সামনে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

চর মঙ্গলকোটের বাসিন্দা ওই নারী জানান, তার সাথে পাশের গ্রামে তাজুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন প্রেম-পরিণয় শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বসবাস‌ও করেন।

তাজুল ইসলাম সম্প্রতি এক‌ই এলাকায় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তারপর থেকে পরিবারের লোকেরা তার বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছেন। একথা জানতে পেরে তার স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে তাজুল ইসলামের বাড়িতে গেলে এ ঘটনার শিকার হন তিনি।

পরে সন্ধ্যায় তাদের তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে তাজুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাজুল ইসলামের চাচা রহমত‌উল্লাহ বলেন, আমরা আমাদের ছেলের জন্য অনেক মেয়ে দেখে আসছি। কয়েকজন মেয়েকে পছন্দ হলেও মেয়েরা আর আগায় না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই মেয়ের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করে আমাদের বলা হয়নি যে তারা বিয়ে করেছে। এভাবে হঠাৎ করে বাড়ির উপর এসে বিয়ের দাবি করলে সমাজ কি বলে? সবার‌ই তো একটা মানসম্মান আছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে পরে উভয় পক্ষের অভিভাবক নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব রাখেন। সে অনুযায়ী একটি দিন‌ও ধার্য করা হয়।

অবশ্য মেয়ে পক্ষ প্রথমে রাজি হলেও সেখান থেকে ফিরে সন্ধ্যায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

 

ভিডিও করায় সাংবাদিকদের হুমকি

স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে প্রেমিকার উপর হামলা: হাসপাতালে ভর্তি ৩

আপডেট সময় : ০১:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই তরুণী এবং তার মা ও ভাইকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোটে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান‌উল্লাহর বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাংবাদিকেরা সেখানে পৌঁছালে বাড়ির সামনের রাস্তায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ছেলের পরিবারের লোকেরা সাংবাদিকদের উপরে তেড়ে আসে।

এসময় ওই তরুণীকে হুমকি ধামকি ও মারপিটের‌ ভিডিও করার সময় তারা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক কায়দায় সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়।

পরিবারের যুব-যুবা বয়সী থেকে বয়স্ক নারী-পুরুষ একসাথে তারা ওই মেয়ের উপরে চড়াও হয়। সেই ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকেরাও আক্রমণের শিকার হন।

উগ্র কায়দায় তারা ধমক দিয়ে বলতে থাকেন- “মোবাইল বন্ধ করেন, বলতে বলতে তারা জিজ্ঞেস করতে থাকেন- “ভিডিও করলেন ক্যান।” তারপর হুকুম করে বলেন, এই আপনাগে কার্ড আছে? এই বলে সাংবাদিকদের পরিচয় পত্র দেখতে চান। তারপর “ভিডিও ডিলিট করেন” বলে নারী পুরুষেরা একজন সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে সেটি আবার ফিরিয়ে দেন।

আশেপাশে এসময় অনেক লোক জড়ো হতে থাকে আর তাদের গরম শাসানিও বাড়তে থাকে।

অযাচিত উত্তেজনা এড়িয়ে ভিডিও ডিলিট করে এরপর তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে তারা ক্যামেরার সামনে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

চর মঙ্গলকোটের বাসিন্দা ওই নারী জানান, তার সাথে পাশের গ্রামে তাজুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন প্রেম-পরিণয় শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বসবাস‌ও করেন।

তাজুল ইসলাম সম্প্রতি এক‌ই এলাকায় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তারপর থেকে পরিবারের লোকেরা তার বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছেন। একথা জানতে পেরে তার স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে তাজুল ইসলামের বাড়িতে গেলে এ ঘটনার শিকার হন তিনি।

পরে সন্ধ্যায় তাদের তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে তাজুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাজুল ইসলামের চাচা রহমত‌উল্লাহ বলেন, আমরা আমাদের ছেলের জন্য অনেক মেয়ে দেখে আসছি। কয়েকজন মেয়েকে পছন্দ হলেও মেয়েরা আর আগায় না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই মেয়ের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করে আমাদের বলা হয়নি যে তারা বিয়ে করেছে। এভাবে হঠাৎ করে বাড়ির উপর এসে বিয়ের দাবি করলে সমাজ কি বলে? সবার‌ই তো একটা মানসম্মান আছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে পরে উভয় পক্ষের অভিভাবক নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব রাখেন। সে অনুযায়ী একটি দিন‌ও ধার্য করা হয়।

অবশ্য মেয়ে পক্ষ প্রথমে রাজি হলেও সেখান থেকে ফিরে সন্ধ্যায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।