৮শ’ বর্গফুট কোয়ার্টার সবসময় তালামারা থাকে
ফমেক হাসপাতালে টেকনিশিয়ান মাইনুলের ‘চুরি সিন্ডিকেট’
- আপডেট সময় : ১০:২৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 239
আলিপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি—ঘটনাটি সাধারণ এক সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের মাধ্যমেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু সেই চোরকে ধরার পরই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো এক বিষধর গোখরো! চোরের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের টেকনিশিয়ান মাইনুল ইসলামের এক বিশাল অনিয়ম ও চুরির সাম্রাজ্য।
গত সপ্তাহে আলিপুরের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান থেকে লেবেল লেজার মেশিন, ড্রিল মেশিন ও মোবাইল চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরকে ধরা হলে সে স্বীকার করে, চোরাই মালামালগুলো সে বিক্রি করেছে ফমেক হাসপাতালের টেকনিশিয়ান মাইনুলের কাছে। পরবর্তীতে হাসপাতালের টেকনিশিয়ানের কক্ষে এক সরবরাহকারী ঠিকাদারের মধ্যস্থতায় বসে বিচার-সালিশ। সেখানে চোরকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাইনুল চোরাই ড্রিল ও লেজার মেশিন ফেরত দিতে বাধ্য হন।
তবে সেখানেই শেষ নয়! চাপের মুখে চোর বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা মালামাল মাইনুলের কাছে বেচাকেনা করতো। শুধু তা-ই নয়, ফমেক হাসপাতালের সরকারি মালামালও মাইনুল এই চোরের মাধ্যমে বাইরে পাচার করতেন। টেকনিশিয়ান হিসেবে হাসপাতালের সিসিটিভি সহ সকল ডিভাইস এই মাইনুলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
হাসপাতালে কোনো চুরি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই দেখা যায় সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো! অপরাধ ঢাকতেই হাসপাতালের যেসব যন্ত্রপাতি মেরামতের কথা বলে নষ্ট দেখানো হয়। এ পর্যন্ত মাইনুলের মাধ্যমে মেরামতের জন্য যেসব জিনিস বাইরে পাঠানো হয়েছে, তা আর হাসপাতালে ফেরত আসেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের ৮শ’ বর্গফুট কোয়ার্টারে থাকেন টেকনিশিয়ান মাইনুল। অদ্যাবধি ওই কোয়ার্টারের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল তিনি পরিশোধ করেননি। হাসপাতালে তার সরকারি কোয়ার্টার ‘দোয়েল-১’ এর দোতলার ফ্লাট ভাড়া দিয়ে সেই টাকা তুলে আত্মসাত করছেন।
হাসপাতালের বৈদ্যুতিক জেনারেটরের জন্য বছরে যতো টাকার তেল ক্রয় করা তা তেল সরবরাহকারী থেকে স্টোরে আসার কথা থাকলেও, মাইনুল টেকনিশিয়ান হয়ে ওই তেল রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের নির্ধারিত তেলের ডিপো হতে আনা তেল স্টোরে না এনে ব্যবহার করা হয়ে গেছে বলে দেখিয়ে দেন।
হাসপাতালের স্টোরকিপার শাহীন জানান, মাসখানেক আগে প্রতিটি ৪০ হাজার টাকা দরে মোট ২০ পিস অনলাইন ইউপিএস কেনার একটি ভাউচার জমা দেন মাইনুল স্টোরকিপার শাহিনের কাছে। যদিও সন্দেহজনক হওয়ায় স্টোরকিপার এখনো তা রেজিস্ট্রিতে তোলেননি। তিনি জানান, জেনারেটরের জন্য বছরে কেনা তেল স্টোরকিপারের রিসিভ করার কথা থাকলেও, মাইনুল প্রভাব খাটিয়ে নিজেই সরাসরি সেই তেল রিসিভ ও নিয়ন্ত্রণ করেন।
জানা যায়, টেকনিশিয়ান মাইনুলের অপরাধের ইতিহাস নতুন নয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ঢাকার মুগদা হাসপাতাল থেকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হয়ে তিনি ফমেক হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। এরপর টেকনিশিয়ান মাইনুলের বিরুদ্ধে ফমেক হাসপাতালে চুরির ছায়াসাম্রাজ্য গড়ে তোলার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টেকনিশিয়ান মাইনুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে উঠে বলেন, “ধুর্ মিয়া বাজে কথা বলবেন না আর ফোনও করবেন না।”
বিষয়টি আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদস্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা না নিলে চুরির এই সিন্ডিকেট আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলেও অনেকে মনে করছেন।


















