Bangladesh ০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?

বোনকে হারানোর বেদনা পেরিয়ে তাহসিনের মুখে হাসি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 561

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ছুঁয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া এক কিশোরের নির্মল ও উচ্ছ্বসিত হাসি নেটিজেনদের নজর কাড়ে। তবে এই আনন্দের আলোর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর স্বজন হারানোর বেদনা।

ছবিতে দেখা যাওয়া সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সে তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারায়। তৎকালীন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তাহসিন সেদিন দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে পানির বোতল ও স্যালাইন হাতে নিয়ে বোনের সন্ধানে ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া তার প্রিয় বোনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ট্র্যাজেডির পর থেকে তাহসিনের স্বাভাবিক চঞ্চলতা ও হাসি হারিয়ে গিয়েছিল।

অবশেষে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিশুটির চোখেমুখে আবারও সেই প্রাণচঞ্চল হাসি ফুটে ওঠে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর পেছনের করুণ গল্পটি জানতে পারেন এবং স্বউদ্যোগে ওই পরিবারের খোঁজ নিতে নিজ প্রেস উইংকে নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয় তাহসিন। তার সাথে আলাপে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনা ও স্বপ্নের কথা জানতে চান। জবাবে তাহসিন ভবিষ্যতে একজন সফল উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এছাড়া এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ফুটবলের প্রতি তাহসিনের অনুরাগের কথা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবল ও অন্যান্য বিশেষ উপহার তার হাতে তুলে দেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে দেখে এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কথা বলতে পেরে নিজের ভীষণ আনন্দের কথা জানায় তাহসিন।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবারো দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ।

তাহসিন জানায়, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাহসিন বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে, তার ছোটবোন পড়ছে নার্সারিতে।

তাহসিন উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী তার সাথে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই তার মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানায় তাহসিন। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে সে। সহপাঠীদের সঙ্গে এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতার গল্প ভাগ করে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সে।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো: মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

বোনকে হারানোর বেদনা পেরিয়ে তাহসিনের মুখে হাসি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ

আপডেট সময় : ১০:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ছুঁয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া এক কিশোরের নির্মল ও উচ্ছ্বসিত হাসি নেটিজেনদের নজর কাড়ে। তবে এই আনন্দের আলোর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর স্বজন হারানোর বেদনা।

ছবিতে দেখা যাওয়া সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সে তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারায়। তৎকালীন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তাহসিন সেদিন দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে পানির বোতল ও স্যালাইন হাতে নিয়ে বোনের সন্ধানে ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া তার প্রিয় বোনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ট্র্যাজেডির পর থেকে তাহসিনের স্বাভাবিক চঞ্চলতা ও হাসি হারিয়ে গিয়েছিল।

অবশেষে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিশুটির চোখেমুখে আবারও সেই প্রাণচঞ্চল হাসি ফুটে ওঠে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর পেছনের করুণ গল্পটি জানতে পারেন এবং স্বউদ্যোগে ওই পরিবারের খোঁজ নিতে নিজ প্রেস উইংকে নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয় তাহসিন। তার সাথে আলাপে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনা ও স্বপ্নের কথা জানতে চান। জবাবে তাহসিন ভবিষ্যতে একজন সফল উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এছাড়া এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ফুটবলের প্রতি তাহসিনের অনুরাগের কথা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবল ও অন্যান্য বিশেষ উপহার তার হাতে তুলে দেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে দেখে এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কথা বলতে পেরে নিজের ভীষণ আনন্দের কথা জানায় তাহসিন।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবারো দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ।

তাহসিন জানায়, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাহসিন বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে, তার ছোটবোন পড়ছে নার্সারিতে।

তাহসিন উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী তার সাথে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই তার মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানায় তাহসিন। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে সে। সহপাঠীদের সঙ্গে এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতার গল্প ভাগ করে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সে।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো: মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।