Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নে বিভিন্নমহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

কলকাতায় বিজেপির তুরুপের তাস তসলিমা নাসরিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 357

প্রায় দুই দশক (১৮ বছর) পর আবারও তিলোত্তমা কলকাতায় পা রাখলেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তাঁকে ঘিরে ছিল নজিরবিহীন ও কড়া নিরাপত্তার বলয়। ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে এসে শনিবার রবীন্দ্র সদনে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন এবং রোববার বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

তবে তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতি ও সংবর্ধনাকে নিছক সাহিত্যিক বা প্রগতিশীল ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা; বরং এর পেছনে দেখছেন এক গভীর রাজনৈতিক কৌশল।

এক বিতর্কিত অতীত

সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও অত্যন্ত অসামাজিক ভাবধারার অভিযোগ ওঠা এই লেখিকা তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন এবং বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ভারতে আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করেছিলেন তিনি।

তবে ১৮ বছর আগে তাঁর বিভিন্ন লেখাকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরে চরম হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে আবারও শহর ছাড়তে হয়। বেশ কিছুকাল তাঁর ভারতে থাকার অনুমতিও স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অনুমতি নবায়ন করা হলেও তসলিমার জন্য কলকাতার দরজা এতদিন কার্যত ‘দুর্ভেদ্য’ই থেকে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই পুনরায় প্রত্যাবর্তন রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও সচেতন সুশীল সমাজের মনে নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

“অবক্ষয় সৃষ্টিকারী সাহিত্য”

তসলিমার আগমনকে কেন্দ্র করে কলকাতার স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের একাংশ তসলিমাকে লেখক হিসেবে অত্যন্ত নিচু দরের এবং রগরগে উত্তেজনাকর উপাদান সরবরাহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহিত্যিকদের দাবি, তাঁর রচনা সমাজে অবক্ষয় সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

কড়া ভাষায় সমালোচনা করে কলকাতার এসব প্রগতিশীল লেখকরা জানান, তসলিমার পরিচিতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক উপাদান। তাঁদের মতে, ইসলাম বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্যেই তাঁকে নতুন রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে।

জনমনে ক্ষোভ ও মৌলিক প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন—”তসলিমা নাসরিন কলকাতায় ফেরায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কী লাভ? এতে কি কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকার যুবকদের চাকরি হবে, নাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে?”

অনেক সাধারণ নাগরিকের প্রবল আশঙ্কা, বাংলায় বহু বছর ধরে বজায় থাকা ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহাওয়াকে তসলিমাকে সামনে রেখে বিনষ্ট করা হতে পারে। ইসলাম ধর্মের ওপর নতুন করে বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করাই হয়তো এই আয়োজনের নেপথ্য উদ্দেশ্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিজেপি সরকারের স্ববিরোধিতা

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এই হঠাৎ পরিবর্তনকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল জমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তসলিমার এই কলকাতা-পুনরাগমন ঘটে। আর তাতেই সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যে দলকে সাধারণত মুসলিমদের প্রতি কঠোর অবস্থানের রাজনীতিক হিসেবে দেখা হয়, সেই দলের জমানায় মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া তসলিমাকে কেন এভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে?

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল হয়তো তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। মুসলিম সমাজ ও ইসলাম নিয়ে তাঁর চরমপন্থী অবস্থানকে হাতিয়ার করে রাজ্যে নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশ তৈরি করাই মূল অপচেষ্টা। ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ বাংলার আশায় যারা রায় দিয়েছিলেন, তাঁদের মনেও এখন সংশয়—রাজনৈতিক স্বার্থে কি আবারও বাংলার হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে বাজি ধরা হচ্ছে?

হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদে নিস্পৃহ তসলিমা: সংবাদ সম্মেলনে নীরবতা

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলা হলে তসলিমার একপেশে মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

ডিডব্লিউ (DW) বাংলা-য় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন—“আপনি তো ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা দক্ষিণপন্থী দলের বিরুদ্ধেও তো হিন্দু উগ্রবাদের অভিযোগ রয়েছে। আজ এই বর্তমান সরকারকে আপনি কী চোখে দেখেন?”

প্রশ্নের উত্তরে তসলিমা সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষতাহীন কণ্ঠে জানান: “আমার দায়িত্ব পড়েনি যে সব মৌলবাদ নিয়ে আমি সমানভাবে প্রতিবাদ করব।”

লেখিকার এমন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। পরবর্তীতে বাংলা আকাদেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয় তাঁকে। তবে এসব কঠিন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।

সমালোচকদের মতে, একপক্ষের মৌলবাদ নিয়ে সরব হয়ে অন্যপক্ষের উগ্রবাদকে নীরব প্রশ্রয় দেওয়া প্রমাণ করে—তসলিমা নাসরিন কোনো নির্দিষ্ট সুশীল আদর্শ বা সার্বিক মানবতার জন্য কথা বলছেন না; বরং বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুবিধাজনক ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে রাজি হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে তসলিমা নাসরিনের এই বিতর্কিত প্রত্যাবর্তন যদি নতুন করে রাজ্যে অশান্তি, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বীজ বপন করে, তবে তার চরম মাসুল গুণতে হবে এ রাজ্যের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকেই। সচেতন সাধারণ মানুষের এক ও অভিন্ন দাবি—বাংলাকে কোনো উসকানিমূলক বা বিভাজনের রাজনীতির পথে নয়; শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পথেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নে বিভিন্নমহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

কলকাতায় বিজেপির তুরুপের তাস তসলিমা নাসরিন

আপডেট সময় : ১১:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় দুই দশক (১৮ বছর) পর আবারও তিলোত্তমা কলকাতায় পা রাখলেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তাঁকে ঘিরে ছিল নজিরবিহীন ও কড়া নিরাপত্তার বলয়। ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে এসে শনিবার রবীন্দ্র সদনে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন এবং রোববার বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

তবে তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতি ও সংবর্ধনাকে নিছক সাহিত্যিক বা প্রগতিশীল ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা; বরং এর পেছনে দেখছেন এক গভীর রাজনৈতিক কৌশল।

এক বিতর্কিত অতীত

সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও অত্যন্ত অসামাজিক ভাবধারার অভিযোগ ওঠা এই লেখিকা তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন এবং বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ভারতে আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করেছিলেন তিনি।

তবে ১৮ বছর আগে তাঁর বিভিন্ন লেখাকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরে চরম হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে আবারও শহর ছাড়তে হয়। বেশ কিছুকাল তাঁর ভারতে থাকার অনুমতিও স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অনুমতি নবায়ন করা হলেও তসলিমার জন্য কলকাতার দরজা এতদিন কার্যত ‘দুর্ভেদ্য’ই থেকে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই পুনরায় প্রত্যাবর্তন রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও সচেতন সুশীল সমাজের মনে নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

“অবক্ষয় সৃষ্টিকারী সাহিত্য”

তসলিমার আগমনকে কেন্দ্র করে কলকাতার স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের একাংশ তসলিমাকে লেখক হিসেবে অত্যন্ত নিচু দরের এবং রগরগে উত্তেজনাকর উপাদান সরবরাহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহিত্যিকদের দাবি, তাঁর রচনা সমাজে অবক্ষয় সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

কড়া ভাষায় সমালোচনা করে কলকাতার এসব প্রগতিশীল লেখকরা জানান, তসলিমার পরিচিতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক উপাদান। তাঁদের মতে, ইসলাম বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্যেই তাঁকে নতুন রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে।

জনমনে ক্ষোভ ও মৌলিক প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন—”তসলিমা নাসরিন কলকাতায় ফেরায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কী লাভ? এতে কি কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকার যুবকদের চাকরি হবে, নাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে?”

অনেক সাধারণ নাগরিকের প্রবল আশঙ্কা, বাংলায় বহু বছর ধরে বজায় থাকা ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহাওয়াকে তসলিমাকে সামনে রেখে বিনষ্ট করা হতে পারে। ইসলাম ধর্মের ওপর নতুন করে বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করাই হয়তো এই আয়োজনের নেপথ্য উদ্দেশ্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিজেপি সরকারের স্ববিরোধিতা

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এই হঠাৎ পরিবর্তনকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল জমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তসলিমার এই কলকাতা-পুনরাগমন ঘটে। আর তাতেই সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যে দলকে সাধারণত মুসলিমদের প্রতি কঠোর অবস্থানের রাজনীতিক হিসেবে দেখা হয়, সেই দলের জমানায় মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া তসলিমাকে কেন এভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে?

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল হয়তো তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। মুসলিম সমাজ ও ইসলাম নিয়ে তাঁর চরমপন্থী অবস্থানকে হাতিয়ার করে রাজ্যে নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশ তৈরি করাই মূল অপচেষ্টা। ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ বাংলার আশায় যারা রায় দিয়েছিলেন, তাঁদের মনেও এখন সংশয়—রাজনৈতিক স্বার্থে কি আবারও বাংলার হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে বাজি ধরা হচ্ছে?

হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদে নিস্পৃহ তসলিমা: সংবাদ সম্মেলনে নীরবতা

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলা হলে তসলিমার একপেশে মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

ডিডব্লিউ (DW) বাংলা-য় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন—“আপনি তো ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা দক্ষিণপন্থী দলের বিরুদ্ধেও তো হিন্দু উগ্রবাদের অভিযোগ রয়েছে। আজ এই বর্তমান সরকারকে আপনি কী চোখে দেখেন?”

প্রশ্নের উত্তরে তসলিমা সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষতাহীন কণ্ঠে জানান: “আমার দায়িত্ব পড়েনি যে সব মৌলবাদ নিয়ে আমি সমানভাবে প্রতিবাদ করব।”

লেখিকার এমন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। পরবর্তীতে বাংলা আকাদেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয় তাঁকে। তবে এসব কঠিন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।

সমালোচকদের মতে, একপক্ষের মৌলবাদ নিয়ে সরব হয়ে অন্যপক্ষের উগ্রবাদকে নীরব প্রশ্রয় দেওয়া প্রমাণ করে—তসলিমা নাসরিন কোনো নির্দিষ্ট সুশীল আদর্শ বা সার্বিক মানবতার জন্য কথা বলছেন না; বরং বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুবিধাজনক ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে রাজি হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে তসলিমা নাসরিনের এই বিতর্কিত প্রত্যাবর্তন যদি নতুন করে রাজ্যে অশান্তি, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বীজ বপন করে, তবে তার চরম মাসুল গুণতে হবে এ রাজ্যের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকেই। সচেতন সাধারণ মানুষের এক ও অভিন্ন দাবি—বাংলাকে কোনো উসকানিমূলক বা বিভাজনের রাজনীতির পথে নয়; শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পথেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।