Bangladesh ০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
মরহুম দলিল‌ উদ্দিন আহমেদের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত যেভাবে মানুষের হৃদয়ে তিনি হয়ে উঠেন ‘অধ্যাপক’ দলিল উদ্দিন আহমেদ ফরিদপুরে জাসাসের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ তাজিকিস্তান সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক মরহুম দলিল‌উদ্দিন আহমেদের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্ঞানের আলো আমাদের পথ দেখিয়ে দিবে -নায়াব ইউসুফ এমপি দলিলউদ্দিন আহমেদের ইন্তেকাল : পৈত্রিক ভিটায় দাফন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে প্রেমিকার উপর হামলা: হাসপাতালে ভর্তি ৩ ফমেক হাসপাতালে টেকনিশিয়ান মাইনুলের ‘চুরি সিন্ডিকেট’

যেভাবে মানুষের হৃদয়ে তিনি হয়ে উঠেন ‘অধ্যাপক’ দলিল উদ্দিন আহমেদ

অগ্নিপ্রহর প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 43

জীবন সায়াহ্নে এসে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়—তিনি কলেজে পড়িয়েছেন অল্প কিছুদিন, আর জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক হিসেবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে সরকার যেভাবে পদোন্নতি দিয়ে কাউকে অধ্যাপক করে, তিনি কখনোই সেভাবে ‘অধ্যাপক’ হননি। কিন্তু যে কলেজে তিনি মাত্র দুই-চার বছর শিক্ষকতা করেছিলেন—যার প্রতিষ্ঠাতেও তিনি পালন করেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা—সেই কলেজের স্মৃতিই যেন তাঁর পরিচয় হয়ে রইল।

পদ্মার এ পারের সদরপুর ও চরভদ্রাসন, আর ও পারের দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ থেকে শুরু করে তাঁর চিরচেনা আধ্যাত্মিক চারণভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের বয়োজ্যেষ্ঠ জাকের ভাইয়েরা—সর্বস্তরের আপামর জনতা আজও তাঁকে গভীর ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধায় ডেকে থাকেন ‘অধ্যাপক দলিল উদ্দিন আহমেদ’ নামে।

মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতিদান তিনি দিয়ে গেছেন পুরো অঞ্চলজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে। ষাটের দশকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর অর্থকড়ি বা মোহময় পেশার পেছনে না ছুটে, তিনি শিক্ষকতা ও শিক্ষা বিস্তারকেই জীবনের পরম ব্রত হিসেবে বেছে নেন। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজে আর্থিকভাবে ততটা সচ্ছল না থাকলেও, নিজের শ্বশুরসহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের উদ্বুদ্ধ করে একই ছায়াতলে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।

তাঁর অদম্য প্রচেষ্টাতেই গড়ে ওঠে সদরপুর কলেজ (যা পরবর্তীতে সরকারীকরণ করা হয়), ঢাকার দোহারের কবি কাজী নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সদরপুরের নলেরটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফরিদপুরের জহুরা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়সহ নাম না জানা আরও বহু প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক মসজিদ ও মাদরাসাও। পদ্মাপাড়ের অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে দিতে তাঁর অবদান এক কথায় অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। সে সময় পদ্মাপাড়ের মানুষের কাছে তিনি যেন অবতীর্ণ হয়েছিলেন এক রূপকথার নায়কের বেশে!

শুধু শিক্ষাবিদ হিসেবেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা অর্থভাবে আটকে যাওয়া দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া—এসবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ফরিদপুরে অবস্থিত তাঁর নিজের বসতবাড়িটি একসময় অবহেলিত ছাত্রদের নিখরচায় থাকার এক আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। গ্রাম থেকে কোনো সাধারণ মানুষ মামলা-মোকদ্দমা, চিকিৎসাসেবা কিংবা অন্য কোনো দরকারে শহরে এলে তাঁদের চোখ বুজে ওঠার সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাসপুরে অবস্থিত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই ‘অধ্যাপক’ দলিল উদ্দিন আহমেদের বাড়িটি।

সরকারি খাতার সিলমোহরে তিনি হয়তো তথাকথিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত অধ্যাপক ছিলেন না, কিন্তু সারাজীবন মানবোন্নয়ন ও সমাজসেবার যে প্রফেশন তিনি লালন করে গেছেন—তাতে মানুষের হৃদয়ে খোদাই হয়ে যাওয়া ‘অধ্যাপক’ খেতাবটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ও সত্যি অর্জিত ডিগ্রি! 

যিনি প্রফেস করেন, মানুষের কল্যাণে, মানুষের জন্য- তিনি একজন প্রকৃত অর্থেই অধ্যাপক, তিনি পদ্মাপাড়ের গণমানুষের অধ্যাপক দলিল উদ্দিন আহমেদ!! তিনি ‘কালের খেয়া’ নামক একটি অসামান্য আত্মজীবনী গ্রন্থ লিখে গেছেন, যেখানে শুধু তাঁর জীবনের বর্ণনাই উঠে আসেনি; একইসাথে আলোকপাত করেছেন জনজীবনের তৎকালীন সমাজব্যবস্থা সহ অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মীয় আধ্যাত্মিক নানান বাস্তবতার। 

যেভাবে মানুষের হৃদয়ে তিনি হয়ে উঠেন ‘অধ্যাপক’ দলিল উদ্দিন আহমেদ

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবন সায়াহ্নে এসে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়—তিনি কলেজে পড়িয়েছেন অল্প কিছুদিন, আর জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক হিসেবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে সরকার যেভাবে পদোন্নতি দিয়ে কাউকে অধ্যাপক করে, তিনি কখনোই সেভাবে ‘অধ্যাপক’ হননি। কিন্তু যে কলেজে তিনি মাত্র দুই-চার বছর শিক্ষকতা করেছিলেন—যার প্রতিষ্ঠাতেও তিনি পালন করেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা—সেই কলেজের স্মৃতিই যেন তাঁর পরিচয় হয়ে রইল।

পদ্মার এ পারের সদরপুর ও চরভদ্রাসন, আর ও পারের দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ থেকে শুরু করে তাঁর চিরচেনা আধ্যাত্মিক চারণভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের বয়োজ্যেষ্ঠ জাকের ভাইয়েরা—সর্বস্তরের আপামর জনতা আজও তাঁকে গভীর ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধায় ডেকে থাকেন ‘অধ্যাপক দলিল উদ্দিন আহমেদ’ নামে।

মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতিদান তিনি দিয়ে গেছেন পুরো অঞ্চলজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে। ষাটের দশকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর অর্থকড়ি বা মোহময় পেশার পেছনে না ছুটে, তিনি শিক্ষকতা ও শিক্ষা বিস্তারকেই জীবনের পরম ব্রত হিসেবে বেছে নেন। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজে আর্থিকভাবে ততটা সচ্ছল না থাকলেও, নিজের শ্বশুরসহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের উদ্বুদ্ধ করে একই ছায়াতলে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।

তাঁর অদম্য প্রচেষ্টাতেই গড়ে ওঠে সদরপুর কলেজ (যা পরবর্তীতে সরকারীকরণ করা হয়), ঢাকার দোহারের কবি কাজী নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সদরপুরের নলেরটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফরিদপুরের জহুরা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়সহ নাম না জানা আরও বহু প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক মসজিদ ও মাদরাসাও। পদ্মাপাড়ের অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে দিতে তাঁর অবদান এক কথায় অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। সে সময় পদ্মাপাড়ের মানুষের কাছে তিনি যেন অবতীর্ণ হয়েছিলেন এক রূপকথার নায়কের বেশে!

শুধু শিক্ষাবিদ হিসেবেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা অর্থভাবে আটকে যাওয়া দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া—এসবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ফরিদপুরে অবস্থিত তাঁর নিজের বসতবাড়িটি একসময় অবহেলিত ছাত্রদের নিখরচায় থাকার এক আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। গ্রাম থেকে কোনো সাধারণ মানুষ মামলা-মোকদ্দমা, চিকিৎসাসেবা কিংবা অন্য কোনো দরকারে শহরে এলে তাঁদের চোখ বুজে ওঠার সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাসপুরে অবস্থিত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই ‘অধ্যাপক’ দলিল উদ্দিন আহমেদের বাড়িটি।

সরকারি খাতার সিলমোহরে তিনি হয়তো তথাকথিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত অধ্যাপক ছিলেন না, কিন্তু সারাজীবন মানবোন্নয়ন ও সমাজসেবার যে প্রফেশন তিনি লালন করে গেছেন—তাতে মানুষের হৃদয়ে খোদাই হয়ে যাওয়া ‘অধ্যাপক’ খেতাবটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ও সত্যি অর্জিত ডিগ্রি! 

যিনি প্রফেস করেন, মানুষের কল্যাণে, মানুষের জন্য- তিনি একজন প্রকৃত অর্থেই অধ্যাপক, তিনি পদ্মাপাড়ের গণমানুষের অধ্যাপক দলিল উদ্দিন আহমেদ!! তিনি ‘কালের খেয়া’ নামক একটি অসামান্য আত্মজীবনী গ্রন্থ লিখে গেছেন, যেখানে শুধু তাঁর জীবনের বর্ণনাই উঠে আসেনি; একইসাথে আলোকপাত করেছেন জনজীবনের তৎকালীন সমাজব্যবস্থা সহ অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মীয় আধ্যাত্মিক নানান বাস্তবতার।