২৪ জেলার ৭ কোটি মানুষের জীবনজীবিকা বদলে দিবে পদ্মা ব্যারেজ
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 107
প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশার আলো জন্ম নিয়েছে। এই ব্যারেজ নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মৃতপ্রায় নদনদী পুনর্জীবিত করার পাশাপাশি নদীগুলোর আশপাশের ২৪টি জেলার পানিসংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার ফলে প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে এবং প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করার আশা করা হচ্ছে। দেশের নদনদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার একটি উপায় শুরু হলো। এই ব্যারেজের প্রধান লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মানদীর পানি ধরে রাখাএবং শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি গঙ্গা অববাহিকার গড়া বিভিন্ন শাখা নদীতে সরবরাহ করা। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং লবণাক্ততা কমানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ২০৩৩ সালের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যারেজ ঘিরে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
এ ছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, গোদাগাড়ী পাম্প হাউস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সবমিলিয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থ-সামাজিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সরকারের কর্মকর্তারা।
১৯৬০-এর দশক থেকেফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলেরনদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যরক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি ওঠে। এর১৫ বছর পর ১৯৭৫সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধতৈরির পর গেলো ৫০বছরে পদ্মার মূলধারা যেমন ধুঁকছে পানিরঅভাবে তেমনি এর অনেক শাখানদী হয়েছে বিলীন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির, সরকার গঠনের পর অবশেষে তা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ব্যারাজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নদীতে প্রায় ৮শ’ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তাদের আশা। এরপর সেই পানি দিয়ে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা,
মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, দেশের নদনদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার একটি উপায় শুরু হলো। নএই ব্যারেজের প্রধান লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মানদীর পানি ধরে রাখাএবং শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি গঙ্গা অববাহিকার গড়াইসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে সরবরাহ করা। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং লবণাক্ততা কমানো সম্ভব হবে। ১৯৬০-এর দশক থেকে ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলেরনদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যরক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি ওঠে। এর১৫ বছর পর ১৯৭৫সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধতৈরির পর গেলো ৫০বছরে পদ্মার মূলধারা যেমন ধুঁকছে পানিরঅভাবে তেমনি এর অনেক শাখানদী হয়েছে বিলীন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির, সরকার গঠনের পর অবশেষে তা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা—এই নদীগুলো শুধু পানির উৎসই নয়; এরা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনচক্রের অংশ। কিন্তু সেই নদীমাতৃক দেশ আজ নদী হারানোর যন্ত্রণায় ভুগছে। কোথাও নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও নাব্য কমছে, কোথাও লবণাক্ততা গ্রাস করছে জনপদ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু মানুষ বছরের পর বছর দেখেছে কীভাবে একসময়কার প্রমত্ত নদীগুলো ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। কৃষকের মাঠে পানি নেই, জেলেদের জালে মাছ নেই, নদীপাড়ের জনপদে নেই আগের প্রাণচাঞ্চল্য।
এ বাস্তবতায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার এক ঐতিহাসিক মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির অনুমোদন দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের কাছে এটি বহুদিনের স্বপ্নপূরণের বার্তা। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ষাটের দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে গেলে এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে যে দাবি কেবল সভা-সেমিনার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে—এটাই আজকের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে ভুগছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ এতটাই কমে যায় যে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় যেসব নদী দিয়ে বড় বড় নৌযান চলত, এখন সেখানে হাঁটুপানি। নদীর বুক জেগে উঠছে চর, নদীপাড়ে বাড়ছে ভাঙন ও দারিদ্র্য।














