বিশ্বখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন ডা. সি স্প্রঙ্ক সড়কের নামফলক সংস্কারের উদ্যোগ নেই
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 62
ফরিদপুর পৌরসভা ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মধ্যবর্তী ডা. সি. স্প্রংক সড়কের নামফলকটি নির্মাণের পর ভেঙ্গে গেলেও সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই। এতে জন চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা শহরের এই সড়কটির পরিচিতি জানাতে সমস্যা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডের প্রখ্যাত প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডা. সি এ স্প্রঙ্কের (ডা. কর্নেলিস আরেন্ড স্প্রঙ্ক) নামে সড়কটির নামকরণ করা হয়। যিনি রিকনস্ট্রাকটিভ প্লাস্টিক সার্জারি এবং হাত ও পায়ের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
দীর্ঘ বছর তিনি ফরিদপুর এসে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে মানবসেবার অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন। এই ক্যাম্পের সবগুলো ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়।
তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জেনারেল হাসপাতালের পূর্বদিকের সড়কটির নামকরণ ডা. সি স্প্রঙ্কের নামে করা হয়। শহরের প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত সড়কটির অপরপ্রান্তে লক্ষ্মীপুর টু আলীপুর সড়কে মিশেছে।
বাদামতলী ব্রিজ হয়ে মুজিব সড়কে চলাচলের পথটি যানজটের কারণে ওয়ানওয়ে করে দেওয়ার পর এই সড়কটির গুরুত্ব বেড়েছে। তবে কয়েকমাস আগে রাতের আঁধারে সড়কের নামফলকটি ভেঙ্গে ফেলে। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় সেটি পড়ে থাকলেও এখনো সেটি সংস্কার করা হয়নি।
তরুণ ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ বলেন, যে ফলকটি ভেঙে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, সেটি নির্মাণে অল্প অর্থেই সংস্কার সম্ভব। এটি সংস্কারে অর্থের চাইতে বেশি প্রয়োজন সদিচ্ছার।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের, ফরিদপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ শেখ বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে নামফলকটি ভেঙে পড়ে আছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাদের আহ্বান থাকবে, দ্রুত এটি সংস্কার করা হোক।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে বলেন, “নামফলকটি মেরামতের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ডা. সি স্প্রঙ্ক ১৯৮৬ সালে নেদারল্যান্ডের লিউভারডেনে একজন প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন।
তাঁর কাজের মূল ফোকাস ছিল রিকনস্ট্রাকটিভ (পুনর্গঠনমূলক) সার্জারি এবং হাত ও পায়ের জটিল সমস্যা দূর করা। বিশেষ করে, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা এবং কুষ্ঠ রোগীদের পায়ের পক্ষাঘাত বা ‘ক্ল্যাপফুট’ চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ পদ্ধতি ও দক্ষতার জন্য বিখ্যাত।
প্লাস্টিক সার্জন হওয়ার আগে তিনি নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়ায় লেপ্রসি বা কুষ্ঠ-রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।
পরবর্তী জীবনে তিনি স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্ট হল্যান্ড নামক সংগঠনের মাধ্যমে নাইজেরিয়ায় মেডিকেল মিশন ও স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে বড় ভূমিকা পালন করেন। ২০০০ সালের পর থেকে তিনি প্লাস্টিক সার্জারি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করতে প্রতিবছর বাংলাদেশে এসেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ও তরুণ চিকিৎসককে মেন্টরিং ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
মানবসেবায় এই মহৎ ব্যক্তিত্বের স্মৃতি বিজড়িত এই সড়কটির নামফলকের প্রতি এহেন উদাসীনতা জাতি হিসেবে আমাদের দৈন্যতার পরিচয় দেয়।















