Bangladesh ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ>>
ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি

টানা বৃষ্টিতে মধুখালীতে মরিচ চাষে ধস, মাথায় হাত কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 15

টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ ক্ষেতের গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
কৃষিপ্রধান এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২,৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছিল। তবে টানা বর্ষণের থাবায় মাঠের তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেতই তলিয়ে গেছে ও পচে ধ্বংস হয়ে গেছে। উপজেলাটির রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের চাষি মো. টুকু মণ্ডল জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করলেও বৃষ্টির কারণে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি তিনি। তাই এখন বাধ্য হয়ে মরিচ গাছ তুলে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যান্য কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতেই চড়া, তার ওপর প্রকৃতির এই মার তাদের একবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। চাষি মো. খসরু মিয়া ও মো. লালচান মোল্লা জানান, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এই বিপুল লোকসান সামলে আবার কৃষিকাজে ফেরা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী জানান, টানা বৃষ্টির ফলে আবাদকৃত ২,৭২০ হেক্টর জমির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ক্ষতিগ্রস্তদেরও পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি

টানা বৃষ্টিতে মধুখালীতে মরিচ চাষে ধস, মাথায় হাত কৃষকদের

আপডেট সময় : ১০:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ ক্ষেতের গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
কৃষিপ্রধান এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২,৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছিল। তবে টানা বর্ষণের থাবায় মাঠের তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেতই তলিয়ে গেছে ও পচে ধ্বংস হয়ে গেছে। উপজেলাটির রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের চাষি মো. টুকু মণ্ডল জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করলেও বৃষ্টির কারণে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি তিনি। তাই এখন বাধ্য হয়ে মরিচ গাছ তুলে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যান্য কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতেই চড়া, তার ওপর প্রকৃতির এই মার তাদের একবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। চাষি মো. খসরু মিয়া ও মো. লালচান মোল্লা জানান, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এই বিপুল লোকসান সামলে আবার কৃষিকাজে ফেরা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী জানান, টানা বৃষ্টির ফলে আবাদকৃত ২,৭২০ হেক্টর জমির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ক্ষতিগ্রস্তদেরও পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।