যে কারণে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত হলো
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 159
তীব্র প্রচারণা আর নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে জমে ওঠা ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে, আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক রুমানা আক্তার এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
আগামী ৪ জুলাই (শনিবার) এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ৩ হাজার ৮শ’রও বেশি ভোটারের এই নির্বাচনে চূড়ান্ত তালিকায় ৬টি ক্যাটাগরির পদের বিপরীতে ৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা (মামলা নং ৩৯৪/২০২৬) দায়ের করেন। আজই শুনানি শেষে বিকেলে আদালত এই স্থগিতাদেশ দেন।
মামলার আরজিতে নির্বাচন স্থগিতের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান অনিয়ম ও আইনি লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, আইন অনুযায়ী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি পৃথক নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণা করার কথা থাকলেও, তা করা হয়নি। উল্টো গত ১ মে অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদের স্বাক্ষরে এই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়, যা সম্পূর্ণ নিয়মের পরিপন্থী।
চলতি অ্যাডহক কমিটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাই এই নির্বাচনে প্রধান দুটি পদে প্রার্থী হয়েছেন। অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মীর নাসির হোসেন এই নির্বাচনে সভাপতি পদে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। দায়িত্বশীল পদে থেকে নিজেরাই প্রার্থী হওয়াকে ‘প্রিন্সিপাল অব ন্যাচারাল জাস্টিস’ বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এতে আরো বলা হয়, মামলার ৩ নম্বর বিবাদী ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলছে। এছাড়া ৪ নম্বর বিবাদী আব্দুস ছাত্তার মিয়া একজন সরকারি কর্মকর্তা (সহযোগী অধ্যাপক, পদার্থবিদ্যা, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা বিধিমালা বহির্ভূত।
এসব কাগজপত্র ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে আদালত নির্বাচনটির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন। এই আদেশের ফলে ফরিদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।










