Bangladesh ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

কোন লক্ষণ ছাড়াই নীরবে নিতে পারে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের রুপ

ডা. এম. এম.শাহিন-উল-ইসলাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 17

প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। লিভারের এই মারাত্মক সংক্রমণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং সঠিক সময়ে প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়াই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের একটি বড় অংশই এ সম্পর্কে পুরোপুরি অসচেতন। লক্ষণহীনভাবে শরীরে বাসা বেঁধে এই নীরব ঘাতক লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির রূপ নিতে পারে। কিন্তু সচেতনতা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস পুরোপুরি প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব।

হেপাটাইটিস কী এবং এটি কীভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস মূলত লিভার বা যকৃতের প্রদাহ। এর মূল কারণ ৫টি প্রধান ভাইরাস— A, B, C, D এবং E। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ সবচেয়ে বিপজ্জনক।

 হেপাটাইটিস A এবং E:এটি সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হেপাটাইটিস B এবং C: রক্ত, অনিরাপদ ইনজেকশন বা সিরিঞ্জ ব্যবহার, অসতর্কভাবে সেলুনে শেভ করা, ট্যাটু আঁকা এবং গর্ভবতী মায়ের মাধ্যমে সন্তানে ছড়াতে পারে।

আমাদের করণীয়: সচেতনতাই সেরা প্রতিরোধ

ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. জন্মের পরপরই টিকা নিশ্চিত করুন: হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভ্যাকসিন। শিশুকে জন্মের পরপরই বি-টিকার ডোজ দেওয়া এবং বড়দের স্ক্রিনিং করে টিকা নেওয়া আবশ্যক।

২. নিরাপদ পানি ও খাবার গ্রহণ: বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করুন এবং খোলামেলা বা নোংরা পরিবেশের খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩. নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা চর্চা:  হাসপাতালে রক্ত নেওয়ার আগে বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং নিশ্চিত করুন। সবসময় ডিসপোজোবল বা নতুন ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

৪. সেলুন ও ব্যক্তিগত ব্যবহারে সতর্কতা: সেলুনে ব্লেড বা রেজারের পুনর্ব্যবহার রোধ করুন এবং টুথব্রাশ বা রেজারের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

৫. নিয়মিত স্ক্রিনিং: বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হোন আপনি হেপাটাইটিস মুক্ত কি না।

ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

হেপাটাইটিস বি-এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন রয়েছে এবং হেপাটাইটিস সি-এর জন্য এখন অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধ রয়েছে, যা দিয়ে রোগীকে শতভাগ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু আগেভাগে রোগ শনাক্তকরণ।আসুন, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করি। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, সামাজিক প্রতিরোধ এবং সঠিক চিকিৎসার হাত ধরে গড়ে তুলি একটি ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

 

“জানুন, সচেতন হন; হেপাটাইটিস মুক্ত জীবন গড়ুন।”

 

শেয়ার করুন

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

কোন লক্ষণ ছাড়াই নীরবে নিতে পারে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের রুপ

আপডেট সময় : ১০:১৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। লিভারের এই মারাত্মক সংক্রমণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং সঠিক সময়ে প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়াই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের একটি বড় অংশই এ সম্পর্কে পুরোপুরি অসচেতন। লক্ষণহীনভাবে শরীরে বাসা বেঁধে এই নীরব ঘাতক লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির রূপ নিতে পারে। কিন্তু সচেতনতা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস পুরোপুরি প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব।

হেপাটাইটিস কী এবং এটি কীভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস মূলত লিভার বা যকৃতের প্রদাহ। এর মূল কারণ ৫টি প্রধান ভাইরাস— A, B, C, D এবং E। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ সবচেয়ে বিপজ্জনক।

 হেপাটাইটিস A এবং E:এটি সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হেপাটাইটিস B এবং C: রক্ত, অনিরাপদ ইনজেকশন বা সিরিঞ্জ ব্যবহার, অসতর্কভাবে সেলুনে শেভ করা, ট্যাটু আঁকা এবং গর্ভবতী মায়ের মাধ্যমে সন্তানে ছড়াতে পারে।

আমাদের করণীয়: সচেতনতাই সেরা প্রতিরোধ

ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. জন্মের পরপরই টিকা নিশ্চিত করুন: হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভ্যাকসিন। শিশুকে জন্মের পরপরই বি-টিকার ডোজ দেওয়া এবং বড়দের স্ক্রিনিং করে টিকা নেওয়া আবশ্যক।

২. নিরাপদ পানি ও খাবার গ্রহণ: বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করুন এবং খোলামেলা বা নোংরা পরিবেশের খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩. নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা চর্চা:  হাসপাতালে রক্ত নেওয়ার আগে বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং নিশ্চিত করুন। সবসময় ডিসপোজোবল বা নতুন ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

৪. সেলুন ও ব্যক্তিগত ব্যবহারে সতর্কতা: সেলুনে ব্লেড বা রেজারের পুনর্ব্যবহার রোধ করুন এবং টুথব্রাশ বা রেজারের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

৫. নিয়মিত স্ক্রিনিং: বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হোন আপনি হেপাটাইটিস মুক্ত কি না।

ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

হেপাটাইটিস বি-এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন রয়েছে এবং হেপাটাইটিস সি-এর জন্য এখন অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধ রয়েছে, যা দিয়ে রোগীকে শতভাগ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু আগেভাগে রোগ শনাক্তকরণ।আসুন, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করি। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, সামাজিক প্রতিরোধ এবং সঠিক চিকিৎসার হাত ধরে গড়ে তুলি একটি ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

 

“জানুন, সচেতন হন; হেপাটাইটিস মুক্ত জীবন গড়ুন।”