Bangladesh ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ>>
ভাঙ্গা ও সদরপুরে খালখনন ও পুনখনন

কাজ শেষে ফেরত গেলো বরাদ্দের এক পঞ্চমাংশ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 95

খাল খনন ও পুনখনন কাজের বরাদ্দপত্রের শর্ত অনুযায়ী ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় চারটি খালখনন ও পুনখনন কাজ শেষ হওয়ার পর বরাদ্দপ্রাপ্ত তহবিলের বেচে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা ফেরত গেছে। এ দুটি উপজেলায় এসব কাজের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিলো প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো। তার মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ টাকাই ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলার ইউএনও মাহমুদুল হাসান ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সদরপুর উপজেলার ইউএনও শরীফ শাওন ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। বিএনপি সরকার গঠনের পর শুরু হওয়া এই খাল খনন ও পুনখনন কর্মসূচির শর্তে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া এবং বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার শর্ত উল্রেখ ছিলো। এছাড়া এই কাজের জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
জানা গেছে, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশেষ অনুদান খাতে বরাদ্দকৃত টাকা হতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই খালখনন ও পুনখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। গত ৮ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিখা-৩ এর উপপরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের ৬৩ জেলার ২৪৯ টি উপজেলার ৩৭৬ টি খালখনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের জন্য ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা শর্তসাপেক্ষে জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ হতে সোনাখোলা ব্রীজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ঘারুয়া ইউনিয়নের শরীফাবাদ হেলেন ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন খাল খায়েরদিয়া হয়ে শাজাহান শেখের বাড়ি হয়ে কুমার নদী পর্যন্ত খাল পুনখনন ভায়া রশিবপুরা হয়ে মকরমপট্টি পর্যন্ত খাল পুনখনন কাজের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকার দুটি প্রকল্পে সবমিলিয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিলো। তার মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলা হতে খাজ শেষে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সদরপুর উপজেলার লোহারটেক সেতু এলাকা থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার খালখননের জন্য ১ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং দড়িকৃষ্ণপুর কাটাখালী সেতু এলাকা থেকে ভূবেনেশ্বর নদ অভিমুখি ৪ কিলোমিটার খাল পুনখননের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে এই উপজেলার জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার মধ্যে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা উদ্বৃত্ত হিসেবে ফেরত গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দপত্রের শর্তে বলা হয়, এ কর্মসূচির আওতায়ং খাল খননের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশন, সেচ ব্যবস্থা এবং কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। খাল খননের জন্য পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পান প্রবাহ ও পরিকল্পনা ঠিক রাখতে হবে। খননকৃত খালের উত্তোলিত মাটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে হবে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই যথাসম্ভব খাল খনন শেষ করতে হবে।
এতে আরো বলা হয়, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না এবং অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এছাড়াও প্রকল্প দৃষ্টিনন্দন করার জন্য খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপন করা, খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা ও গতিপথ সঠিক রাখা এবং একাজের আগের ও পরের ছবি সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া ছিলো।
ফরিদপুর-৪( ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন ) আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল জানান, ভাঙ্গা ও সদরপুরের খাল খনন প্রকল্প শেষে এক কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিএনপি সরকারের আমলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন

ভাঙ্গা ও সদরপুরে খালখনন ও পুনখনন

কাজ শেষে ফেরত গেলো বরাদ্দের এক পঞ্চমাংশ টাকা

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

খাল খনন ও পুনখনন কাজের বরাদ্দপত্রের শর্ত অনুযায়ী ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় চারটি খালখনন ও পুনখনন কাজ শেষ হওয়ার পর বরাদ্দপ্রাপ্ত তহবিলের বেচে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা ফেরত গেছে। এ দুটি উপজেলায় এসব কাজের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিলো প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো। তার মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ টাকাই ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলার ইউএনও মাহমুদুল হাসান ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সদরপুর উপজেলার ইউএনও শরীফ শাওন ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। বিএনপি সরকার গঠনের পর শুরু হওয়া এই খাল খনন ও পুনখনন কর্মসূচির শর্তে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া এবং বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার শর্ত উল্রেখ ছিলো। এছাড়া এই কাজের জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
জানা গেছে, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশেষ অনুদান খাতে বরাদ্দকৃত টাকা হতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই খালখনন ও পুনখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। গত ৮ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিখা-৩ এর উপপরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের ৬৩ জেলার ২৪৯ টি উপজেলার ৩৭৬ টি খালখনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের জন্য ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা শর্তসাপেক্ষে জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ হতে সোনাখোলা ব্রীজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ঘারুয়া ইউনিয়নের শরীফাবাদ হেলেন ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন খাল খায়েরদিয়া হয়ে শাজাহান শেখের বাড়ি হয়ে কুমার নদী পর্যন্ত খাল পুনখনন ভায়া রশিবপুরা হয়ে মকরমপট্টি পর্যন্ত খাল পুনখনন কাজের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকার দুটি প্রকল্পে সবমিলিয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিলো। তার মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলা হতে খাজ শেষে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সদরপুর উপজেলার লোহারটেক সেতু এলাকা থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার খালখননের জন্য ১ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং দড়িকৃষ্ণপুর কাটাখালী সেতু এলাকা থেকে ভূবেনেশ্বর নদ অভিমুখি ৪ কিলোমিটার খাল পুনখননের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে এই উপজেলার জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার মধ্যে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা উদ্বৃত্ত হিসেবে ফেরত গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দপত্রের শর্তে বলা হয়, এ কর্মসূচির আওতায়ং খাল খননের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশন, সেচ ব্যবস্থা এবং কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। খাল খননের জন্য পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পান প্রবাহ ও পরিকল্পনা ঠিক রাখতে হবে। খননকৃত খালের উত্তোলিত মাটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে হবে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই যথাসম্ভব খাল খনন শেষ করতে হবে।
এতে আরো বলা হয়, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না এবং অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এছাড়াও প্রকল্প দৃষ্টিনন্দন করার জন্য খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপন করা, খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা ও গতিপথ সঠিক রাখা এবং একাজের আগের ও পরের ছবি সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া ছিলো।
ফরিদপুর-৪( ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন ) আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল জানান, ভাঙ্গা ও সদরপুরের খাল খনন প্রকল্প শেষে এক কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিএনপি সরকারের আমলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।