Bangladesh ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
তাজিকিস্তান সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক মরহুম দলিল‌উদ্দিন আহমেদের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্ঞানের আলো আমাদের পথ দেখিয়ে দিবে -নায়াব ইউসুফ এমপি প্রিয়ভাজন দলিলউদ্দিন আহমেদ পৈত্রিক ভিটায় দাফন হলেন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই স্ত্রী স্বীকৃতি দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে প্রেমিকার উপর হামলা: হাসপাতালে ভর্তি ৩ ফমেক হাসপাতালে টেকনিশিয়ান মাইনুলের ‘চুরি সিন্ডিকেট’ ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সভায় সাংবাদিকদের ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান বান্ধবী সহ গ্রেপ্তারের পর বিদেশী পিস্তল উদ্ধার: আদালতে স্বীকারোক্তি র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে যাত্রা শুরু

৬৪ জেলার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব প্রদান মন্ত্রী-হুইপদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 123

দেশের ৬৪টি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। 

৬৪টি জেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যেই দায়িত্ব বণ্টনের এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, আহম্মদ সোহেল মনজুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি, হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলহাজ্ব মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর, জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি করবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

৬৪ জেলার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব প্রদান মন্ত্রী-হুইপদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ৬৪টি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। 

৬৪টি জেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যেই দায়িত্ব বণ্টনের এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, আহম্মদ সোহেল মনজুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি, হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলহাজ্ব মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর, জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি করবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।