অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন ও লাট ভাইদের স্মৃতি
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 30
অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৫ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অনন্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন। তিনি ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিংসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ, সংবাদ, মানবজমিন, মুক্তকণ্ঠ, বাংলাবাজার পত্রিকা ও দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেছেন।
সর্বশেষ তিনি গাজীপুরের দৈনিক বাংলাভূমি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
ফরিদপুরে সাইদুর রহমান রিমনের সাংবাদিকতা
৯৯ সালের দিকে সারাদেশে যখন জেলাভিত্তিক লাট ভাই আর গডফাদারের খবর পাওয়া যাচ্ছিলো, তখন ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাজপথ হয়ে উঠে উত্তপ্ত।পাড়া-মহল্লায়, অফিস আদালতে মুখোমুখি এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের। পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের ঘটনা আতঙ্ক তৈরি করে।
ওই পরিস্থিতিতে জনতা ব্যাংকের মোড়ে একদিন সমাবেশ করছিলেন আওয়ামী লীগের লাবলু ভাই গ্রুপ। বর্তমান ইসলামি ব্যাংকের জায়গায় ছিলো একতলা একটি পুরনো বিল্ডিং। লাবলু ভাই সেখানে সামনের দিকে নির্মাণ শ্রমিক সংগঠনের আর পিছনে জেলা প্রেসক্লাবের অফিস করার ব্যবস্থা করে দেন। আমি তখন ওই জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য। ওইদিন আ’লীগের ওই মিটিং কাভার করতে পাশে দিনার হোটেলের সামনে দাড়িয়েছিলাম। এমন সময় দেখলাম লিকলিকে গড়নের লোকটিকে। গায়ের রং কালো। সাদার উপরে লম্বা কালো স্ট্রেপের একটি জামা গায়ে। জানতে পারলাম ইনি ঢাকা থেকে এসেছেন মানবজমিনের সাংবাদিক। ভাবলাম কিই আর নিউজ তিনি করবেন মিটিংয়ের? কিন্তু পরেরদিন মানবজমিন পত্রিকা পড়ে আমি পুলকিত! “অগ্নিগর্ভ ফরিদপুর” এমন ধরনের একটি সংক্ষিপ্ত হেডিংয়ের সাথে আগুন জ্বালানোর একটি ছবি।
সেদিন ফরিদপুরে ক্ষমতার বলয়ে একে অপরকে ঘায়েল করার রাজনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। আরো দু’একটি পত্রিকার ঢাকা থেকে সাংবাদিক এসেছিল তখন। তবে রিমন ভাইয়ের নিউজটা মানবজমিনের টৃটমেন্টে বেশ হিট করলো।
সেই সময়ে ফরিদপুরের বুকে এভাবে লাট ভাই আর গডফাদারের নিউজ প্রকাশ সহজ ছিলো না। তার এই কাজের মাধ্যমে একজন নবীন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি তাকে জেনেছি। এরপরে তিনি আরো অনেক আলোচিত নিউজ করেছেন। ওয়াসার তাসকিনকে নিয়ে তার কাজটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার এসব নিউজ দেখলে আমি পড়ার জন্য উৎসাহিত হতাম তাকে আগেই থেকেই দেখেছি, চিনেছি, জেনেছি বলে।
একজন পুরো জাত সাংবাদিক ছিলেন তিনি।
তাকে মৃত্যুর পরে মিডিয়া জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে মিডিয়াগুলো।
গত বছরের এই দিনে বিকেলে খবর পেলাম সাইদুর রহমান রিমন আর নেই।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য সহকর্মী রেখে যান।
তিনি মনেপ্রাণে একজন সাংবাদিক ছিলেন। একজন অগ্রজ হিসেবে দেশের গণমাধ্যম নিয়ে গভীরে থেকে সাহসের সাথে সত্য উচ্চারণ করে গেছেন। দয়াময় আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমীন।
প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের লেখাটি সম্পাদনা করতে যেয়ে তখনকার প্রেসক্লাবের রাজনীতি আর ফরিদপুরের সাংবাদিকদের কথা মনে পড়ে গেলো।
ফরিদপুরের ওয়াহিদ মিল্টন, আরিফ ইসলাম, অশোকেশ রায়, অমরেশ রায়, মেজবাহ উদ্দিন শামীম, মেহেদি হাসান চন্দন, বেলাল চৌধুরী, আব্দুস সালাম, কামরুজ্জামান সোহেল, সুজাউজ্জিমান জুয়েল, আকবর হোসেন, সদরপুরের আব্দুল মজিদ, আব্দুল ওয়াজেদ সহ আরো কয়েকজন ছিলেন এই জেলা প্রেসক্লাবে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য তখন আনম আব্দুস সোবহান, সৈয়দ ইমামুল আজম বাবু, আশরাফুজ্জামান মনজু, খন্দকার মোরশেদ মনজু, আব্দুল আলী শিকদার, ইত্তেফাকের দেলোয়ার হোসেন, সংবাদের ইউসুফ রেজা মন্টু, বাংলার বাণীর মন্টু দাস গোপী, ইউএনবির হারুন মুন্সি, বাসসের মো: শাহজাহান, আহমদ ফিরোজ, তমিজউদ্দিন তাজ, এসএম জিলানী রুনু, মফিজ ইমাম মিলন, আলী আশরাফ শোয়ায়েব, মাহফুজ মিলন, সালামত খান, মিজানুর রহমান মানিক সহ আর অল্প কয়েকজন।
তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তরুণদের ক্লাবের সাংবাদিকেরা দক্ষতা দেখাচ্ছিল আর পুরনো ক্লাবটি কমিটি গঠনের গ্রুপিংয়ে অচল দশা।
জেলা প্রেসক্লাব পরে মূল প্রেসক্লাবের সাথে একীভূত হলে আমরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য হই। বলে রাখা ভালো, তখন থেকেই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য পদ প্রদানের বিষয়টি কমিটির স্বেচ্ছাধীন করে রাখা ছিল।
যাই হোক, সাংবাদিকতা আসলে সাইদুর রহমান রিমনদের জন্য। কিন্তু এই সমাজে সবসময়ই তাদের আড়ালে রেখে একটি গোষ্ঠী মুখোশধারী সাংবাদিক হয়ে দেশের ক্ষতিতে লিপ্ত।





















