ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ঝন্টুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে প্রাণবন্ত হলিডে মার্কেটের ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই পবিত্র কোরআনের আলোকে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও বিধান বোয়ালমারীতে কিশোর শ্রমিক সজীব হত্যা: আসামি রিহাত মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর ব্যস্ত সড়কে উপড়ে পড়ল গাছ: অল্পতে বাঁচলেন যাত্রী ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ‘কাচ্চি সুলতান’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা: কিচেনে মিলল ক্ষতিকর কেমিক্যাল বোয়ালমারীতে পায়ুপথে হাওয়া: কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

রোববার কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কপি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

হাসিনার সরাসরি নির্দেশে অনেক গুম

অগ্নিপ্রহর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 59

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত জোরপূর্বক নিখোঁজ বা ‘গুমের ঘটনাগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, এমনই তথ্য এসেছে গুম তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। কমিশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিখোঁজের ঘটনা কোনো অনিয়ম বা বিচ্ছিন্ন অপকর্মের ফলাফল নয়, বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং বিরোধী দলের কার্যক্রমকে দমন করার সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা ছিল।

রোববার কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কপি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো: ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস, সাজ্জাদ হোসেন এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ গুম সংক্রান্ত কমিশনে জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই এবং পুনঃনিরীক্ষার পর ১,৫৬৯টি অভিযোগকে সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এদের মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত। কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানিয়েছেন, এই ১,৫৬৯টি অভিযোগ শুধুমাত্র আংশিক প্রতিফলন। বাস্তব ঘটনা অনুসারে গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এর কারণ, অনেক ভিক্টিমের পরিবার সরাসরি কমিশনের সাথে যোগাযোগ করেননি, কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছেন, আবার অনেকে ভয় বা সামাজিক কারণে ঘটনা প্রকাশ করতে রাজি হননি।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (হাই প্রোফাইল) গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কমিশন সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তা ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে করে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
কমিশন সদস্যদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুমের শিকার যারা জীবিত ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। ২২ শতাংশ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য।
অপর দিকে, এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

গুমের ঘটনার শিকার আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চৌধুরী আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান উল্লেখযোগ্য।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি এই কমিশনের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা এই নৃশংস ঘটনার মধ্যে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তাদের সাহস এবং অধ্যবসায়ই এই প্রতিবেদনের ভিত্তি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর যে পৈশাচিক আচরণ করা সম্ভব, তার ডকুমেন্টেশন এই রিপোর্টে রয়েছে। এটি আমাদের শেখায় যে, মানুষ কত নিচে নামতে পারে এবং কতটা বিভৎস হতে পারে। যারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে আমাদের উচিত এই ধরনের নৃশংসতা থেকে চিরতরে মুক্ত হওয়া।’

প্রফেসর ইউনূস কমিশনকে সুপারিশ দিয়েছেন, রিপোর্ট সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছানো এবং ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও ব্যবস্থা প্রণয়নে সহায়তা করা।

প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এই কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই সরকারের সময়কার গুমের ঘটনা তদন্তে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিশনকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে কমিশন দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন সরকারের কাছে হস্তান্তর করে।

রোববার কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কপি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

হাসিনার সরাসরি নির্দেশে অনেক গুম

আপডেট সময় : ১২:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত জোরপূর্বক নিখোঁজ বা ‘গুমের ঘটনাগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, এমনই তথ্য এসেছে গুম তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। কমিশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিখোঁজের ঘটনা কোনো অনিয়ম বা বিচ্ছিন্ন অপকর্মের ফলাফল নয়, বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং বিরোধী দলের কার্যক্রমকে দমন করার সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা ছিল।

রোববার কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কপি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো: ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস, সাজ্জাদ হোসেন এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ গুম সংক্রান্ত কমিশনে জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই এবং পুনঃনিরীক্ষার পর ১,৫৬৯টি অভিযোগকে সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এদের মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত। কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানিয়েছেন, এই ১,৫৬৯টি অভিযোগ শুধুমাত্র আংশিক প্রতিফলন। বাস্তব ঘটনা অনুসারে গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এর কারণ, অনেক ভিক্টিমের পরিবার সরাসরি কমিশনের সাথে যোগাযোগ করেননি, কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছেন, আবার অনেকে ভয় বা সামাজিক কারণে ঘটনা প্রকাশ করতে রাজি হননি।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (হাই প্রোফাইল) গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কমিশন সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তা ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে করে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
কমিশন সদস্যদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুমের শিকার যারা জীবিত ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। ২২ শতাংশ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য।
অপর দিকে, এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

গুমের ঘটনার শিকার আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চৌধুরী আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান উল্লেখযোগ্য।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি এই কমিশনের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা এই নৃশংস ঘটনার মধ্যে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তাদের সাহস এবং অধ্যবসায়ই এই প্রতিবেদনের ভিত্তি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর যে পৈশাচিক আচরণ করা সম্ভব, তার ডকুমেন্টেশন এই রিপোর্টে রয়েছে। এটি আমাদের শেখায় যে, মানুষ কত নিচে নামতে পারে এবং কতটা বিভৎস হতে পারে। যারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে আমাদের উচিত এই ধরনের নৃশংসতা থেকে চিরতরে মুক্ত হওয়া।’

প্রফেসর ইউনূস কমিশনকে সুপারিশ দিয়েছেন, রিপোর্ট সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছানো এবং ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও ব্যবস্থা প্রণয়নে সহায়তা করা।

প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এই কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই সরকারের সময়কার গুমের ঘটনা তদন্তে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিশনকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে কমিশন দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন সরকারের কাছে হস্তান্তর করে।