Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ভাঙ্গায় ৮ মাসে নিহত ৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 45

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা। তবে এই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বস্তির পাশেই এখন ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই (জানুয়ারি-আগস্ট) ভাঙ্গার বিভিন্ন সড়কে ঝরে গেছে ৫২টি তাজা প্রাণ। দেশের অত্যাধুনিক ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে নিত্যদিনের এই দুর্ঘটনায় সড়কপথ যেনো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আট মাসে ছোট-বড় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের বড় একটি অংশই কিশোর ও তরুণ। বছরের শুরু থেকেই দুর্ঘটনার মাত্রা ছিলো উর্ধ্বমুখী। গত মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৬ জন, জুনে ৮ জন, মে মাসে ৯ জন, এপ্রিলে ৪ জন, মার্চে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন এবং জানুয়ারিতে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন যুবক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গায় সড়ক মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতি ও যানবাহনের চাপ, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, সংকীর্ণ সেতু ও সড়ক এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল।

এছাড়া অনেক অভিভাবক অপরিণত বয়সেই কিশোর বয়সী ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন দামী মোটরসাইকেল। বন্ধুদের নিয়ে তারা এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা গোলচত্বরে ঘুরতে যেয়েও প্রাণ হারাচ্ছে দুর্ঘটনায়।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে। একইসাথে মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে এখনো দুই লেনের কিছু সংকীর্ণ সেতু রয়ে গেছে। এর মধ্যে বাবনতলা, সর ও চাপা সেতু এলাকাগুলোকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। এর পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের অবাধ চলাচল এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় ভাঙ্গার ওপর দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এখানে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে এবং দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, কেবল পুলিশি ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য ভাঙ্গা হাইওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও সংকীর্ণ সেতুগুলো দ্রুত প্রশস্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করা গেলে এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ভাঙ্গায় ৮ মাসে নিহত ৫২

আপডেট সময় : ১০:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা। তবে এই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বস্তির পাশেই এখন ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই (জানুয়ারি-আগস্ট) ভাঙ্গার বিভিন্ন সড়কে ঝরে গেছে ৫২টি তাজা প্রাণ। দেশের অত্যাধুনিক ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে নিত্যদিনের এই দুর্ঘটনায় সড়কপথ যেনো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আট মাসে ছোট-বড় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের বড় একটি অংশই কিশোর ও তরুণ। বছরের শুরু থেকেই দুর্ঘটনার মাত্রা ছিলো উর্ধ্বমুখী। গত মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৬ জন, জুনে ৮ জন, মে মাসে ৯ জন, এপ্রিলে ৪ জন, মার্চে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন এবং জানুয়ারিতে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন যুবক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গায় সড়ক মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতি ও যানবাহনের চাপ, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, সংকীর্ণ সেতু ও সড়ক এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল।

এছাড়া অনেক অভিভাবক অপরিণত বয়সেই কিশোর বয়সী ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন দামী মোটরসাইকেল। বন্ধুদের নিয়ে তারা এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা গোলচত্বরে ঘুরতে যেয়েও প্রাণ হারাচ্ছে দুর্ঘটনায়।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে। একইসাথে মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে এখনো দুই লেনের কিছু সংকীর্ণ সেতু রয়ে গেছে। এর মধ্যে বাবনতলা, সর ও চাপা সেতু এলাকাগুলোকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। এর পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের অবাধ চলাচল এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় ভাঙ্গার ওপর দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এখানে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে এবং দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, কেবল পুলিশি ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য ভাঙ্গা হাইওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও সংকীর্ণ সেতুগুলো দ্রুত প্রশস্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করা গেলে এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।