Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাসনের প্রতিশোধ!

নাজিব মাহমুদ
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 69

বিদেশের সেই প্রাসাদ থেকে নদীর দিকে তাকিয়ে ললিতা মৃদু হাসলেন। তার হাতে ধরা সেলফোনের স্ক্রিনে এক অনুগতের মুখ। লোকটা কাঁপছে। ভয়ে, নাকি আবেগে, ললিতা ঠিক বুঝতে পারেন না।

“রানীমা,”

ফিসফিস করে বলল লোকটি- “দেশের অবস্থা ভালো না। ওরা আপনার সবকিছু ভেঙ্গে চুরমার করে গুড়িয়ে দিয়েছে। আপনার পরিবারের সব স্মৃতি মুছে ফেলতেছে। আপনার পিতামাতা, ছোট্ট ভাই! কাউকে রাখছেনা।”

“আপনার তৈরি করা সবকিছুতেই এখন অন্য নাম, আপনার বানানো মসজিদে আমাদের কাউকে ঢুকতে দেয়না। মসজিদে কিছু বুড়রা যায়, আমাদের লোকেরা সেখানেও আপনার কথা বলতে পারেনা! সবাই খুব হতাশ, তারা আপনাকে ফিরে পেতে চায়।”

ললিতা চোখ বন্ধ করলেন। তাঁর মনে পড়ল, কীভাবে তিনি এই দেশের ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করেছিলেন।

তাদের এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তার পূর্ব পুরুষ। তারপর এক নির্মম ইতিহাস। সেই অতীতই এখনো প্রতি মুহুর্তে তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

ললিতা ভাবেন,

একসময় যেখানকার মানুষ খেতে পেতোনা। দুর্ভিক্ষ, অশিক্ষা, ধর্মান্ধতা, অনাচার ছিল যাদের নিত্য সঙ্গী!

সেই দেশটাকেই তার পুর্বজ সোনার দেশ বানিয়েছিলেন।

কিন্তু শত্রুর দলের সহ্য হয়নি। অন্যায় অপরাধগুলো সব বুমেরাং করে সেই মানুষটাকেই হত্যা করলো!

সেই থেকে শুরু হয় তাঁর প্রতিশোধ নেয়ার পালা।

কিছু অবোধ আর লোভী মানুষ, সাথে কিছু আত্মীয়-পরিজনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল তার এই চরম জিঘাংসার প্রস্তুতি। এই রাজনীতি সেই থেকে শুরু।

উফ্, ক্ষমতার জন্য তার সেই লম্বা সফর!

ভাবলে গা শিউরে ওঠে। কতো মিটিং-মিছিল, ভাংচুর-মারামারি! কতো নিরীহ প্রাণের বলি!

আর শিশুর মতো আবেগ নিয়ে তার কাছে আসা কতো অবুঝ কর্মীকে এই রাজনীতির জন্য বলি করতে হয়েছে!

সেসব কথা এই একাকী নির্বাসনে মনে করে আবার মনটাকে শক্ত করে ললিতা।

এক খুনেও ফাঁসি, দুইশো খুনেও ফাঁসি। তাঁকেতো ফাঁসি কাস্টেই ঝুলাতে চায় ওরা! তাই আর বাদ যাবে কি?

হেসে উঠলো ললিতা। মনে মনে বলে উঠলো-“সবক’টাকে ফাঁসিতে ঝুলাবো এবার।”

আবার সেই পুরনো ছক তাঁর মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা তৈরি করে সে।

পুরনো ছেলেগুলো থাকলে বেশ ভালো হতো। ওরা অনেক ঝুঁকি নিতে পারতো তার জন্য। একটু বাড়িতে থাকার জায়গা, হাত খরচের সামান্য টাকা আর একটু মগজ ধোলাইয়ের জন্য গোজামিলে উদ্ভট ইতিহাস বানিয়ে তাত্ত্বিক আলাপ; ব্যস!

ছেলেগুলো থেকে জঙ্গি কায়দায় দলের জন্য আত্ম উৎসর্গ করতেও রাজি হয়ে যেতো কেউ কেউ।

তাঁর মনে হলো- এখনো তেমন কেউ হয়তো থাকতে পারে। যদিও সে এখন আর তাদের আগের মতো বিশ্বাস করে চিনে নিতে পারেনা দেশে নেই বলে। তাঁর আগের সেই দৃঢ় সংকল্পের পথ শেষ করে সে এসে এখন, দিনের পর দিন নানা ঘটনা-অঘটনা মিলেমিশে সবকিছু কেমন অস্পষ্ট করে ফেলেছে। টাকা ছাড়া কোন কাজ কাউকে দিয়ে আর করানো যায়না।

যদিও বংশ পরম্পরায় আসা এই প্রজন্মের‌ও কিছু ছেলেপেলের আবার মগজধোলাই অবশ্য করতে পেরেছে সে। পারবে নাই বা কেনো? তাদের স্বর্ণালি ইতিহাস-অবদান মনের মধ্যে গেঁথে দিতে কাজও তো কম করেনি সে!

রাস্তা, সেতু, বিল্ডিং, বিদ্যুত কিনা সে করেছে? এমনকি, পিতৃজ নামটি আসমানের কাছে মহাশূন্যেও পাঠিয়ে দিয়েছে কায়দা করে!

তাঁর হাতে গ্রামের পর গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করে উঠেছে! তার নির্দেশে সবকিছু চালু হয়েছে আবার বন্ধ‌ও হয়েছে।

যদিও তার বিরুদ্ধবাদীরা উদ্ভট কথাবার্তা বলেই বেড়াতো। তার সময়ে নাকি বুড়িগঙ্গায় মাঝেমধ্যেই লাশ ভেসে উঠতো! গুম-খুনের জন্য হরহামেশাই বিদেশের টাকা খেয়ে তাকেই দুষতো কিছু মিডিয়া আর এনজিওর সুশীল গোষ্ঠী।

তবে তার চৌকস বাহিনী প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরগুলো কঠিন হাতে দমনের কাজগুলো করে ফেলতো। একটি কন্ঠ শব্দ করে প্রতিবাদ জানালে তাকে তাৎক্ষণিক দমনে দেরি হতোনা। দ্রুতই সেই কন্ঠের মানুষটি মিলিয়ে যেত রাতের অন্ধকারে।

▪️

“আমি জানি, মাসুদ,” ললিতার কণ্ঠস্বর শান্ত, কিন্তু দৃঢ়।

“আমি সব দেখতে পাচ্ছি। ওরা ভুলে গেছে, এই দেশকে আমি কতটা দিয়েছি। ভুলে গেছে, ওদের জীবনের কষ্ট দূর করার জন্য আমি কী করিনি!”

“ওরা ভুলবে কেন?” মাসুদ প্রায় কেঁদে ফেলে,

“কিন্তু ওরা আপনার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলছে।বলছে, আপনি আমাদের টাকা পাচার করেছেন, অনেক মানুষকে মেরেছেন…”

ললিতা মুচকি হাসলেন।

“টাকা পাচার!

এটা কি পাচার, নাকি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়? আমি কি কোনোদিন ভেবেছি শুধু নিজের কথা? ওই টাকাগুলো একদিন এই দেশেই ফিরে আসবে।”

দম নেয় সে।

“আর যারা চলে গেছে, তারা কি আমার বিরুদ্ধে ছিল? তারা দেশের শান্তি চায়নি। তাদের সরালে যদি হাজার হাজার মানুষের ভালো হয়, তবে সেটা কি ভুল?”

মাসুদ চুপ করে থাকে। ললিতার কথা শুনে তার বিশ্বাস টলে যায়।

“শোনো,” ললিতা আবার বললেন,

“একটা জিনিস মনে রেখো। ওরা আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, কিন্তু মানুষের মন থেকে নয়। তোমরা আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি ফিরে আসব, মাসুদ।”

হাতের তসবিহ দেখিয়ে মুখে তুলে চুমু দেয় ললিতা। তারপর বলে-

“আমার পূর্বপুরুষের পীরবাবার এই জপমালা হাতে নিয়ে বলছি, আমি পবিত্রতার লেবাসে নয়, শান্তির প্রতীক হয়ে ফিরে আসব।”

এই বলেই তার কথা শেষ করে ললিতা। তার মুখে সেই হাসিটা নেই। চোখে এক অদ্ভুত শীতলতা। তিনি তার সেক্রেটারিকে ডাকলেন।

“সেই লোকটা,” ললিতা ফিসফিস করে বললেন, “যে আমার নামে টাকা পাচারের ফাইলগুলো নিয়ে ঘুরছে। তাকে খুঁজে বের করো।”

“কিন্তু রানীমা, তিনি তো গত এক মাস ধরে নিখোঁজ।”

“নিখোঁজ?” ললিতার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে, “ভালোই হয়েছে। নিখোঁজরাই তো সবচেয়ে বেশি কথা বলে। তাকে খুঁজে বের করো, মাসুদকে বলো সেও যেন সাহায্য করে।”

“কিন্তু মাসুদ কি জানে?”

“এখনো জানে না। কিন্তু জানতে হবে। তাকেই খুঁজে বের করতে হবে, এবং তাকে বিশ্বাস করতে হবে, যে এটা আমারই নির্দেশ। এবং যখন সে ফাইলটা খুঁজে পাবে, তখন সে বুঝবে, তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই।”

ললিতা হাসতে লাগলেন। এই হাসির মধ্যে এক অদ্ভুত ভয়ংকর বার্তা রয়েছে।

আর মাসুদ! যে এখনো তার কানে ললিতার পবিত্র কণ্ঠের প্রতিধ্বনি শুনছিল, সে জানতেও পারল না, তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ।

নির্বাসনের প্রতিশোধ!

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশের সেই প্রাসাদ থেকে নদীর দিকে তাকিয়ে ললিতা মৃদু হাসলেন। তার হাতে ধরা সেলফোনের স্ক্রিনে এক অনুগতের মুখ। লোকটা কাঁপছে। ভয়ে, নাকি আবেগে, ললিতা ঠিক বুঝতে পারেন না।

“রানীমা,”

ফিসফিস করে বলল লোকটি- “দেশের অবস্থা ভালো না। ওরা আপনার সবকিছু ভেঙ্গে চুরমার করে গুড়িয়ে দিয়েছে। আপনার পরিবারের সব স্মৃতি মুছে ফেলতেছে। আপনার পিতামাতা, ছোট্ট ভাই! কাউকে রাখছেনা।”

“আপনার তৈরি করা সবকিছুতেই এখন অন্য নাম, আপনার বানানো মসজিদে আমাদের কাউকে ঢুকতে দেয়না। মসজিদে কিছু বুড়রা যায়, আমাদের লোকেরা সেখানেও আপনার কথা বলতে পারেনা! সবাই খুব হতাশ, তারা আপনাকে ফিরে পেতে চায়।”

ললিতা চোখ বন্ধ করলেন। তাঁর মনে পড়ল, কীভাবে তিনি এই দেশের ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করেছিলেন।

তাদের এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তার পূর্ব পুরুষ। তারপর এক নির্মম ইতিহাস। সেই অতীতই এখনো প্রতি মুহুর্তে তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

ললিতা ভাবেন,

একসময় যেখানকার মানুষ খেতে পেতোনা। দুর্ভিক্ষ, অশিক্ষা, ধর্মান্ধতা, অনাচার ছিল যাদের নিত্য সঙ্গী!

সেই দেশটাকেই তার পুর্বজ সোনার দেশ বানিয়েছিলেন।

কিন্তু শত্রুর দলের সহ্য হয়নি। অন্যায় অপরাধগুলো সব বুমেরাং করে সেই মানুষটাকেই হত্যা করলো!

সেই থেকে শুরু হয় তাঁর প্রতিশোধ নেয়ার পালা।

কিছু অবোধ আর লোভী মানুষ, সাথে কিছু আত্মীয়-পরিজনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল তার এই চরম জিঘাংসার প্রস্তুতি। এই রাজনীতি সেই থেকে শুরু।

উফ্, ক্ষমতার জন্য তার সেই লম্বা সফর!

ভাবলে গা শিউরে ওঠে। কতো মিটিং-মিছিল, ভাংচুর-মারামারি! কতো নিরীহ প্রাণের বলি!

আর শিশুর মতো আবেগ নিয়ে তার কাছে আসা কতো অবুঝ কর্মীকে এই রাজনীতির জন্য বলি করতে হয়েছে!

সেসব কথা এই একাকী নির্বাসনে মনে করে আবার মনটাকে শক্ত করে ললিতা।

এক খুনেও ফাঁসি, দুইশো খুনেও ফাঁসি। তাঁকেতো ফাঁসি কাস্টেই ঝুলাতে চায় ওরা! তাই আর বাদ যাবে কি?

হেসে উঠলো ললিতা। মনে মনে বলে উঠলো-“সবক’টাকে ফাঁসিতে ঝুলাবো এবার।”

আবার সেই পুরনো ছক তাঁর মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা তৈরি করে সে।

পুরনো ছেলেগুলো থাকলে বেশ ভালো হতো। ওরা অনেক ঝুঁকি নিতে পারতো তার জন্য। একটু বাড়িতে থাকার জায়গা, হাত খরচের সামান্য টাকা আর একটু মগজ ধোলাইয়ের জন্য গোজামিলে উদ্ভট ইতিহাস বানিয়ে তাত্ত্বিক আলাপ; ব্যস!

ছেলেগুলো থেকে জঙ্গি কায়দায় দলের জন্য আত্ম উৎসর্গ করতেও রাজি হয়ে যেতো কেউ কেউ।

তাঁর মনে হলো- এখনো তেমন কেউ হয়তো থাকতে পারে। যদিও সে এখন আর তাদের আগের মতো বিশ্বাস করে চিনে নিতে পারেনা দেশে নেই বলে। তাঁর আগের সেই দৃঢ় সংকল্পের পথ শেষ করে সে এসে এখন, দিনের পর দিন নানা ঘটনা-অঘটনা মিলেমিশে সবকিছু কেমন অস্পষ্ট করে ফেলেছে। টাকা ছাড়া কোন কাজ কাউকে দিয়ে আর করানো যায়না।

যদিও বংশ পরম্পরায় আসা এই প্রজন্মের‌ও কিছু ছেলেপেলের আবার মগজধোলাই অবশ্য করতে পেরেছে সে। পারবে নাই বা কেনো? তাদের স্বর্ণালি ইতিহাস-অবদান মনের মধ্যে গেঁথে দিতে কাজও তো কম করেনি সে!

রাস্তা, সেতু, বিল্ডিং, বিদ্যুত কিনা সে করেছে? এমনকি, পিতৃজ নামটি আসমানের কাছে মহাশূন্যেও পাঠিয়ে দিয়েছে কায়দা করে!

তাঁর হাতে গ্রামের পর গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করে উঠেছে! তার নির্দেশে সবকিছু চালু হয়েছে আবার বন্ধ‌ও হয়েছে।

যদিও তার বিরুদ্ধবাদীরা উদ্ভট কথাবার্তা বলেই বেড়াতো। তার সময়ে নাকি বুড়িগঙ্গায় মাঝেমধ্যেই লাশ ভেসে উঠতো! গুম-খুনের জন্য হরহামেশাই বিদেশের টাকা খেয়ে তাকেই দুষতো কিছু মিডিয়া আর এনজিওর সুশীল গোষ্ঠী।

তবে তার চৌকস বাহিনী প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরগুলো কঠিন হাতে দমনের কাজগুলো করে ফেলতো। একটি কন্ঠ শব্দ করে প্রতিবাদ জানালে তাকে তাৎক্ষণিক দমনে দেরি হতোনা। দ্রুতই সেই কন্ঠের মানুষটি মিলিয়ে যেত রাতের অন্ধকারে।

▪️

“আমি জানি, মাসুদ,” ললিতার কণ্ঠস্বর শান্ত, কিন্তু দৃঢ়।

“আমি সব দেখতে পাচ্ছি। ওরা ভুলে গেছে, এই দেশকে আমি কতটা দিয়েছি। ভুলে গেছে, ওদের জীবনের কষ্ট দূর করার জন্য আমি কী করিনি!”

“ওরা ভুলবে কেন?” মাসুদ প্রায় কেঁদে ফেলে,

“কিন্তু ওরা আপনার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলছে।বলছে, আপনি আমাদের টাকা পাচার করেছেন, অনেক মানুষকে মেরেছেন…”

ললিতা মুচকি হাসলেন।

“টাকা পাচার!

এটা কি পাচার, নাকি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়? আমি কি কোনোদিন ভেবেছি শুধু নিজের কথা? ওই টাকাগুলো একদিন এই দেশেই ফিরে আসবে।”

দম নেয় সে।

“আর যারা চলে গেছে, তারা কি আমার বিরুদ্ধে ছিল? তারা দেশের শান্তি চায়নি। তাদের সরালে যদি হাজার হাজার মানুষের ভালো হয়, তবে সেটা কি ভুল?”

মাসুদ চুপ করে থাকে। ললিতার কথা শুনে তার বিশ্বাস টলে যায়।

“শোনো,” ললিতা আবার বললেন,

“একটা জিনিস মনে রেখো। ওরা আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, কিন্তু মানুষের মন থেকে নয়। তোমরা আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি ফিরে আসব, মাসুদ।”

হাতের তসবিহ দেখিয়ে মুখে তুলে চুমু দেয় ললিতা। তারপর বলে-

“আমার পূর্বপুরুষের পীরবাবার এই জপমালা হাতে নিয়ে বলছি, আমি পবিত্রতার লেবাসে নয়, শান্তির প্রতীক হয়ে ফিরে আসব।”

এই বলেই তার কথা শেষ করে ললিতা। তার মুখে সেই হাসিটা নেই। চোখে এক অদ্ভুত শীতলতা। তিনি তার সেক্রেটারিকে ডাকলেন।

“সেই লোকটা,” ললিতা ফিসফিস করে বললেন, “যে আমার নামে টাকা পাচারের ফাইলগুলো নিয়ে ঘুরছে। তাকে খুঁজে বের করো।”

“কিন্তু রানীমা, তিনি তো গত এক মাস ধরে নিখোঁজ।”

“নিখোঁজ?” ললিতার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে, “ভালোই হয়েছে। নিখোঁজরাই তো সবচেয়ে বেশি কথা বলে। তাকে খুঁজে বের করো, মাসুদকে বলো সেও যেন সাহায্য করে।”

“কিন্তু মাসুদ কি জানে?”

“এখনো জানে না। কিন্তু জানতে হবে। তাকেই খুঁজে বের করতে হবে, এবং তাকে বিশ্বাস করতে হবে, যে এটা আমারই নির্দেশ। এবং যখন সে ফাইলটা খুঁজে পাবে, তখন সে বুঝবে, তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই।”

ললিতা হাসতে লাগলেন। এই হাসির মধ্যে এক অদ্ভুত ভয়ংকর বার্তা রয়েছে।

আর মাসুদ! যে এখনো তার কানে ললিতার পবিত্র কণ্ঠের প্রতিধ্বনি শুনছিল, সে জানতেও পারল না, তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ।