সাতসকালে বিনা নোটিশে হাসপাতালে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 49
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। গতকাল রোববার সকালে কর্মদিবসের শুরুতেই তিনি সরেজমিনে হাসপাতালগুলোতে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং ওয়ার্ডগুলো ঘুরে ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলেন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে জানান।
এদিকে হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনকালে নিয়মমত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা সহ অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে এ দু’টি হাসপাতালে কর্মরত রিনা আক্তার, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তার নামে তিনজনকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন এবং দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এসময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং ওয়ার্ডগুলো ঘুরে ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলেন। এখানে মন্ত্রী ছুটি অনুমোদনবিহীন অবস্থায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী রিনা আক্তারকে অনুপস্থিত থাকতে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার এবং হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাড়ানোর আশ্বাস দেন। চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশীষ কাপুরিয়া, চরভদ্রাসন থানার ওসি মো. সফর আলী এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দুই ঘন্টা তিনি সেখানে অবস্থানের পর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এরপর সকাল ১১টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। মন্ত্রী সদরপুর হাসপাতালের কাউন্টারে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। অচিরেই সারা দেশে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট পূরণ করে জনগণকে গ্রামাঞ্চলেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা উদ্ঘাটন ও সমাধানের চেষ্টা করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


















