ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের স্বপ্নের বাস্তবায়ন
১৫ তলা ফাইভস্টার হোটেল থেকে বিশ্বমানের ক্রীড়া ভেন্যু করছে জেলা পরিষদ
- আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 578
আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু, ১৫ তলা বিশিষ্ট ফাইভস্টার আবাসন সুবিধা সংবলিত সুবিশাল ভবন, লেকপাড়ে আধুনিক পার্ক এবং জেলার সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন—ফরিদপুরকে একটি আধুনিক ও নীতিনিষ্ঠ জেলায় রূপান্তর করতে এমনই এক অভাবনীয় ও দূরদর্শী স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমেছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ। সীমিত সম্পদ আর প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মাঝেই স্বচ্ছতা, জিরো টলারেন্স নীতি এবং সততাকে পুঁজি করে প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিত করার এক নতুন মডেল দাঁড় করাচ্ছেন তিনি। ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’-এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার এই বহুমাত্রিক পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি।
আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আগে জেলা পরিষদের বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা জনগণের অজানা থাকত। এখন এই সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সব সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আগে এই প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ও সুবিধাদি সাধারণ মানুষের অজানা থাকলেও, এখন তা সরাসরি প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল বুধবার ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’-এর পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের কাছে তার সাম্প্রতিক কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া হয়। আলাপচারিতায় তিনি এমনকিছু কর্মকাণ্ড সম্মন্ধে অবহিত করেন, যা এই শহর ফরিদপুরের অন্যান্য সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা বিস্ময়করও বটে।
শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর জেলা পরিষদকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করার যে দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকেই অফিসে উপস্থিত থেকে তা পালনের চেষ্টা করছেন।
জেলা পরিষদের এই প্রশাসক জানান, ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক মানের কোনো খেলাধুলার আয়োজন না হওয়ার প্রধান বাধা হচ্ছে মানসম্মত আবাসনের অভাব। এই সমস্যা দূর করতে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের প্রাক-কাজ বা সয়েল টেস্ট ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এর জন্য একটি বেসরকারি কনসালটেন্ট ফার্মের সাথে তাদের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এই ভবনের প্রথম পাঁচ তলা পর্যন্ত জেলা পরিষদের নিজস্ব অফিস, কমার্শিয়াল স্পেস, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম থাকবে। আর ওপরের তলাগুলোতে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের ফাইভস্টার আবাসন ব্যবস্থা, যাতে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় ও অতিথিরা অবস্থান করতে পারেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় স্থানটি পরিদর্শন করে গেছেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার মধ্যে জেলা পরিষদের কর্মসূচি কম। আমাদের কাজগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৮১টি ইউনিয়নে। ফরিদপুর পৌরসভার মধ্যে আমরা সেই জায়গাতেই কাজ করতে পারি, যেখানে আমাদের নিজস্ব সম্পদগুলো রয়েছে। কিছু জায়গায় জেলা পরিষদের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অস্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। এবং ফরিদপুর ফরিদপুর সার্কিট হাউস এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে রাস্তার পাশে যে চওড়া জায়গাগুলো রয়েছে সেগুলো জেলা পরিষদের, এখানে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য আমি অলরেডি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেয়েছি। আমি সেখানে ঝর্ণা এবং বৃক্ষরোপণ করে সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি। ফরিদপুরের লেকপাড়ে আমরা একটি পার্ক তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করছি। ইতোমধ্যে সেখানে ৮৬ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজটি ২১০ কোটি টাকার ছিলো। কিন্তু বিগত সরকার সেটি কেটেছেটে ৮৭ কোটি টাকায় নামিয়েছে। এই কাজটি আমরা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ফরিদপুরের মানুষের বিনোদনের জন্য, তাদের বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য সেখানে ব্যাপকভাবে যাবে এবং এতে আমরাও রাজস্ব আয় করতে পারবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যতগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জেলা পরিষদ। ফরিদপুরে আমাদের ৮১টি ইউনিয়ন। এতোবড় পরিসর আর কারো নেই। কিন্তু সবকিছুর দিক থেকে জেলা পরিষদ অবহেলিত। কারণ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জেলা পরিষদের যতগুলো কর্মকাণ্ড ছিলো, সেগুলো থেকে তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য লাখ লাখ টাকা চুরিচামারি করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম অনিয়ম ও লুটপাটের শিকার হওয়া ভঙ্গুর জেলা পরিষদকে সততার সাথে পুনর্গঠন করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে জনগণের প্রতিটি টাকা শতভাগ নিষ্ঠার সাথে ব্যয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
জনপদের উন্নয়নে জেলা পরিষদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, বর্তমানে আমাদের এক লাখ টাকার টেন্ডার করতে হলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে, যেখানে পৌরসভার প্রশাসক বিশ-পঞ্চাশ লাখ টাকার টেন্ডার করতে পারে। আমরা সেটি থেকে বঞ্চিত। এর কারণ হলো- বিগত সরকার মসজিদ-মাদ্রাসার নাম করে শত শত কোটি টাকা এই জেলা পরিষদ থেকে আত্মসাত করেছে। এজন্য মন্ত্রণালয় এখন এগুলো তাদের আন্ডারে নিয়ে গেছে। তবে ভবিষ্যতে যখন জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে, নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কাছে দাবি করলে অবশ্যই এর পরিবর্তন হবে।
তিনি বলেন, ৮১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার পরিষদ, পৌরসভার পরিষদ, এদের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা জেলা পরিষদ পরিচালিত হয়। যেহেতু আমাদের পরিধি অনেক ব্যাপক। যেইটা পৌরসভার নাই, ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাই, আমাদের কাজ করতে হয় পুরো জেলায়। একসময় শরিয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে রাজবাড়ীর পাংশা পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ এলাকা ছিলো জেলা পরিষদের আন্ডারে। তখন রোডস ছিলোনা, ফ্যাসিলিটিজ ছিলোনা, পিডব্লিউডি ছিলোনা, এলজিইডি ছিলো না। সবছিলো এই জেলা পরিষদের আন্ডারে। সব কাটতে কাটতে জেলা পরিষদ এখন ছোট একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারপরেও এখানে বড় কাজ না করা গেলেও প্রান্তিক মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ রয়েছে। প্রত্যন্ত সেই আলফাডাঙ্গা থেকে জেলা শহর সব জায়গা থেকেই এখানে মানুষ সাহায্যের আশায় আসেন।
ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হাতেখড়ি আফজাল হোসেন খান পলাশের। এরপর যুবদল ও কৃষকদলের শীর্ষপদে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বর্তমানে তিনি ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৩১ মার্চ ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর প্রথমদিনেই সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে আসার নিয়ম মেনে তিনি নজর কাড়েন। এরপর মাত্র পাঁচ মাসও শেষ হতে চলেনি তার জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার। কিন্তু এরইমাঝে তিনি বেশকিছু কর্মকাণ্ড করে মানুষের মাঝে সুনাম ও আস্থা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। অবশ্য ব্যক্তিজীবনেও আফজাল হোসেন খান পলাশ একজন স্বচ্ছ ও কর্মীবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সকল মহলের নিকট সমাদৃত।


















