Bangladesh ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“নাচগান নাকি হারাম?” এমপি বাবুলের বক্তব্যে বিতর্কের ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 116

ফরিদপুরের একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান ও নৃত্যকলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নেটিজেনদের মাঝে এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

গত ১৫ আগস্ট ব্রাহ্মণকান্দা এ.এস একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

“খেলাধুলা করবো আমরা, আমরা গানবাজনা করবো, আমরা নৃত্যকলা করবো। এই সংস্কৃতি, গান, নৃত্যকলা, জারি-সারি, ভাটিয়ালি, কাওয়ালি আমাদের শ্বাশ্বত কালের ঐতিহ্য। একটা গোষ্ঠী আছে, জান্নাতি দল আমরা বলি, তাদের কথা এই গান নাকি হারাম, নাচ নাকি হারাম! কোত্থেকে আমদানি করছে তাদের এই কথা আমরা জানি না।”

অনুষ্ঠানে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। তিনি এই প্রাণবন্ত মুহূর্তকে দেশীয় ঐতিহ্য উল্লেখ করে তা ধরে রাখার আহ্বান জানান। তবে তার এই বক্তব্যের পর সোসাল মিডিয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আর বিরোধী পক্ষ এটি সরাসরি ইসলাম অবমাননার শামিল বলেও অভিযোগ করে বসেছেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজ (বিশেষ করে দেওবন্দী ও কওমি ধারা) সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রকে শরীয়তবিরোধী মনে করেন। তাদের প্রধান দলিল হলো সহীহ বুখারী (হাদিস নং ৫৫৯০)। যেখানে রাসুল (সা.) এর হাদিস দাবি করে একজায়গায় সতর্ক করা হয়েছে—তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দল আসবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে (মাআজিফ) হালাল মনে করবে। চার মাযহাবের (হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী) অধিকাংশ সনাতনী ফকিহ এই বর্ণনা ও অন্যান্য অনুরূপ বার্তার ভিত্তিতে তারযন্ত্র ও বায়ুবাহিত আধুনিক বাদ্যযন্ত্রকে নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় ঘোষণা করেছেন।

তবে অনেক শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার এই বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। বিখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) সহীহ বুখারী-র উক্ত হাদিসের সনদে ‘মুআল্লাক’ (বিচ্ছিন্ন সূত্র) থাকার কথা উল্লেখ করে একে এককভাবে সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম করার জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। পরবর্তীতে আধুনিক যুগের প্রখ্যাত স্কলার ড. ইউসুফ আল-কারযাভী এবং মিসরের ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া বোর্ড অভিমত ব্যক্ত করেন যে—বাদ্যযন্ত্র বা সংগীত নিজ থেকে স্বতসিদ্ধ হারাম নয়। গান বা সুরের বিষয়বস্তু যদি অশ্লীলতা, মদ, বেপর্দা বা অনৈতিক কাজের দিকে প্ররোচিত না করে, তবে শালীন বিনোদন হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য।

হাদিসের বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.)-এর সময় বিবাহ, ঈদ এবং উৎসবে একমুখী ঢোল বা ‘দফ’ বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমোদন ছিল (সহীহ বোখারী: ৯৪৯)। এ ছাড়া মসজিদে নববীর আঙিনায় আবিসিনীয় (হাবশী) যুবকদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে শারীরিক কসরত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাসুল (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) প্রত্যক্ষ করেছিলেন (সহীহ বোখারী: ৪৫৪)।

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ যেমন—তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শালীনতা বজায় রেখে সুস্থ ও মার্জিত সংস্কৃতি চর্চার প্রচলন রয়েছে। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ইসলাম ধর্মে সঙ্গীত ও নৃত্যকলার বিধান নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

ইসলামী স্কলারদের একটি বড় অংশের মতে, ইসলামে সাধারণ বাদ্যযন্ত্র ও প্রকাশ্য নাচ-গানকে নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ (হারাম) হিসেবে গণ্য করা হলেও ইসলামি ফিকহ ও শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে এই বিষয়ে একক কোনো চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

অন্যদিকে, উপমহাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে জনসমক্ষে নারীদের বাণিজ্যিক বা অনিয়ন্ত্রিত নৃত্য পরিবেশন নিয়ে রক্ষণশীল সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। একইসঙ্গে যাত্রাপালাসহ দেশীয় বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে অশ্লীলতার অনুপ্রবেশ ঘটায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ব্যাহত হয়েছে।

মূল আপত্তি যেখানে: বর্তমান আলেম সমাজের মূল উদ্বেগ বাদ্যযন্ত্র বা শিল্পের মূল সত্তা নিয়ে যতটা না, তার চেয়ে বেশি বিনোদনশিল্পে বেপর্দা, নগ্নতা ও ব্যবসায়িক অশ্লীলতার অনুপ্রবেশ নিয়ে।

সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, কেবল ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং সুস্থ ও শালীন বিনোদনের কোনো ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক বিকল্প গড়ে না তোলার কারণে তরুণ প্রজন্ম বিজাতীয় বিনোদনের দিকে ঝুঁকছে। এতে করে ধর্মীয় নির্দেশনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, আলেমদের ভাষ্য—ইসলাম মূলনীতি নির্ধারণ করে দেয়, যার উদ্দেশ্য মানুষকে বিনোদন-বিমুখ করা নয়, বরং সামাজিক নৈতিকতা রক্ষা করা।

সমস্যাটি তৈরি হয়েছে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প অবকাঠামো না থাকায়। একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের চাহিদা মেটানো—এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি না করে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দেশের সামাজিক সংহতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে সেই ধর্মীয় ভাবাবেগ ও লোকসংস্কৃতির মধ্যেই হয়তো ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার ইস্যু বানিয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে দেশীয় ঐতিহ্যকে রক্ষা করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করাই এই মুহূর্তে বড় দায়িত্ব।

 

 

“নাচগান নাকি হারাম?” এমপি বাবুলের বক্তব্যে বিতর্কের ঝড়

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান ও নৃত্যকলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নেটিজেনদের মাঝে এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

গত ১৫ আগস্ট ব্রাহ্মণকান্দা এ.এস একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

“খেলাধুলা করবো আমরা, আমরা গানবাজনা করবো, আমরা নৃত্যকলা করবো। এই সংস্কৃতি, গান, নৃত্যকলা, জারি-সারি, ভাটিয়ালি, কাওয়ালি আমাদের শ্বাশ্বত কালের ঐতিহ্য। একটা গোষ্ঠী আছে, জান্নাতি দল আমরা বলি, তাদের কথা এই গান নাকি হারাম, নাচ নাকি হারাম! কোত্থেকে আমদানি করছে তাদের এই কথা আমরা জানি না।”

অনুষ্ঠানে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। তিনি এই প্রাণবন্ত মুহূর্তকে দেশীয় ঐতিহ্য উল্লেখ করে তা ধরে রাখার আহ্বান জানান। তবে তার এই বক্তব্যের পর সোসাল মিডিয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আর বিরোধী পক্ষ এটি সরাসরি ইসলাম অবমাননার শামিল বলেও অভিযোগ করে বসেছেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজ (বিশেষ করে দেওবন্দী ও কওমি ধারা) সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রকে শরীয়তবিরোধী মনে করেন। তাদের প্রধান দলিল হলো সহীহ বুখারী (হাদিস নং ৫৫৯০)। যেখানে রাসুল (সা.) এর হাদিস দাবি করে একজায়গায় সতর্ক করা হয়েছে—তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দল আসবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে (মাআজিফ) হালাল মনে করবে। চার মাযহাবের (হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী) অধিকাংশ সনাতনী ফকিহ এই বর্ণনা ও অন্যান্য অনুরূপ বার্তার ভিত্তিতে তারযন্ত্র ও বায়ুবাহিত আধুনিক বাদ্যযন্ত্রকে নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় ঘোষণা করেছেন।

তবে অনেক শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার এই বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। বিখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) সহীহ বুখারী-র উক্ত হাদিসের সনদে ‘মুআল্লাক’ (বিচ্ছিন্ন সূত্র) থাকার কথা উল্লেখ করে একে এককভাবে সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম করার জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। পরবর্তীতে আধুনিক যুগের প্রখ্যাত স্কলার ড. ইউসুফ আল-কারযাভী এবং মিসরের ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া বোর্ড অভিমত ব্যক্ত করেন যে—বাদ্যযন্ত্র বা সংগীত নিজ থেকে স্বতসিদ্ধ হারাম নয়। গান বা সুরের বিষয়বস্তু যদি অশ্লীলতা, মদ, বেপর্দা বা অনৈতিক কাজের দিকে প্ররোচিত না করে, তবে শালীন বিনোদন হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য।

হাদিসের বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.)-এর সময় বিবাহ, ঈদ এবং উৎসবে একমুখী ঢোল বা ‘দফ’ বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমোদন ছিল (সহীহ বোখারী: ৯৪৯)। এ ছাড়া মসজিদে নববীর আঙিনায় আবিসিনীয় (হাবশী) যুবকদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে শারীরিক কসরত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাসুল (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) প্রত্যক্ষ করেছিলেন (সহীহ বোখারী: ৪৫৪)।

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ যেমন—তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শালীনতা বজায় রেখে সুস্থ ও মার্জিত সংস্কৃতি চর্চার প্রচলন রয়েছে। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ইসলাম ধর্মে সঙ্গীত ও নৃত্যকলার বিধান নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

ইসলামী স্কলারদের একটি বড় অংশের মতে, ইসলামে সাধারণ বাদ্যযন্ত্র ও প্রকাশ্য নাচ-গানকে নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ (হারাম) হিসেবে গণ্য করা হলেও ইসলামি ফিকহ ও শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে এই বিষয়ে একক কোনো চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

অন্যদিকে, উপমহাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে জনসমক্ষে নারীদের বাণিজ্যিক বা অনিয়ন্ত্রিত নৃত্য পরিবেশন নিয়ে রক্ষণশীল সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। একইসঙ্গে যাত্রাপালাসহ দেশীয় বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে অশ্লীলতার অনুপ্রবেশ ঘটায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ব্যাহত হয়েছে।

মূল আপত্তি যেখানে: বর্তমান আলেম সমাজের মূল উদ্বেগ বাদ্যযন্ত্র বা শিল্পের মূল সত্তা নিয়ে যতটা না, তার চেয়ে বেশি বিনোদনশিল্পে বেপর্দা, নগ্নতা ও ব্যবসায়িক অশ্লীলতার অনুপ্রবেশ নিয়ে।

সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, কেবল ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং সুস্থ ও শালীন বিনোদনের কোনো ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক বিকল্প গড়ে না তোলার কারণে তরুণ প্রজন্ম বিজাতীয় বিনোদনের দিকে ঝুঁকছে। এতে করে ধর্মীয় নির্দেশনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, আলেমদের ভাষ্য—ইসলাম মূলনীতি নির্ধারণ করে দেয়, যার উদ্দেশ্য মানুষকে বিনোদন-বিমুখ করা নয়, বরং সামাজিক নৈতিকতা রক্ষা করা।

সমস্যাটি তৈরি হয়েছে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প অবকাঠামো না থাকায়। একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের চাহিদা মেটানো—এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি না করে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দেশের সামাজিক সংহতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে সেই ধর্মীয় ভাবাবেগ ও লোকসংস্কৃতির মধ্যেই হয়তো ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার ইস্যু বানিয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে দেশীয় ঐতিহ্যকে রক্ষা করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করাই এই মুহূর্তে বড় দায়িত্ব।