বেরিবাঁধ সংলগ্ন আদমপুরে গড়ে ওঠা ফরিদপুর পৌরসভার ওয়েস্টম্যানেজমেন্ট প্লান্ট
ডাম্পিং স্টেশনের দুষণে নাকাল দশা
- আপডেট সময় : ১১:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / 76
ফরিদপুর শহরের সীমানা ঘেঁষে বেরিবাঁধ সংলগ্ন আদমপুরে গড়ে ওঠা ফরিদপুর পৌরসভার ওয়েস্টম্যানেজমেন্ট প্লান্ট থেকে নির্গত দুষণে পুরো এলাকা জুড়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পচা দুর্গন্ধ, পোড়া প্লাস্টিকের বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্যের পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে শত শত একর জমির ফসল। ভোগান্তির শিকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শহরের বর্জ্য ফেলার একমাত্র ডাম্পিং স্টেশনটি এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ডের গৃহস্থালি আবর্জনা ও শৌচাগারের বর্জ্য প্রতিদিন এখানে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলেঅ থেকে নানাভাবে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের পরিবেশে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভার ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ডাম্পিং স্টেশনের সামনের প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। শুষ্ক কিংবা বর্ষা—সব ঋতুতেই খোলা গাড়িতে করে বর্জ্য পরিবহনের সময় বিকট গন্ধে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেকে ঘরের ভেতর ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন না, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেকের।
শুধু মানুষ নয়, এই বর্জ্যের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি ও শিক্ষার ওপর। ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও ময়লা পানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় কৃষকরা জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না। আগে যেখানে একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারবার রোপণ করা যেত, এখন পুরো মাঠ বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে তলিয়ে থাকছে। এতে পেঁয়াজ, রসুন, ধান ও পাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে শীত ও গরম উভয় মৌসুমেই বর্জ্য পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোতে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শ্বাসকষ্ট ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে সরকার এই জায়গাটি ডাম্পিং স্টেশনের জন্য অধিগ্রহণ করে। শুরু থেকেই এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০১৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়রের মেয়াদে অতিরিক্ত দামে এই জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শহরের বাইরে আরও বেশি জমি কিনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যেত।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকির মতে, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই কেন্দ্রটিকে একটি লাভজনক প্রকল্পে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে। এখানে বর্জ্য প্রসেসিং করে জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ডিজেল সমমানের জ্বালানি তেল তৈরি করে কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যা জ্বালানি সংকটের সময়ে কাজে এসেছে। তবে এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্জ্যের পচা পানি যাতে আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য চারদিকে উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।


















