বহিরাগতদের 'মব' সৃষ্টির চেষ্টা নস্যাৎ
ফমেকের নতুন অধ্যক্ষ ডা. আসিফ: ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা
- আপডেট সময় : ১১:২২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 204
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে (ফমেক) নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সাবেক অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবা তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ফরিদপুরের এক ঐতিহ্যবাহী জাতীয়তাবাদী পরিবারের সন্তান ডা. আসিফ-উল আলমের এই নিয়োগে জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের যোগদানের খবর পেয়ে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফমেক শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ছাত্রদল নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমন। এ সময় ফমেক শাখা ছাত্রদলের ফয়সাল আহমেদ খাঁন, আব্দুল বারিক মন্ডল, আহমেদ আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রাসেল খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ:
এদিকে অধ্যক্ষের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ও ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় ১২ বছর আগে ফমেক ছেড়ে যাওয়া ২৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাকিম কবিরের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছাত্রদল নেতাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ৩৫তম ব্যাচের পড়াশোনা চলছে। মুস্তাকিম কবির বহু আগেই পাস করে বের হয়ে গেছেন এবং বর্তমানে তিনি ফরিদপুরেও থাকেন না। তা সত্ত্বেও নিজেকে ফমেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বহিরাগতদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। তবে সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তীতে কলেজের সামনে একটি ব্যানার ধরে ছবি তুলে তা সংবাদমাধ্যমে পাঠান।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফমেক শাখা ছাত্রদল নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমন বলেন, “মুস্তাকিম কবির ২৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। বহুকাল আগেই কলেজ ছেড়েছেন, তিনি ফরিদপুরের বাসিন্দাও নন। তাঁর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা কেউই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নন, আমরা তাঁদের চিনিও না। বর্তমান ছাত্রদলের কাউকেই কিছু না জানিয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ফমেক ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা এই অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতির কড়া প্রতিবাদ ও বিস্ফোরক মন্তব্য
বহিরাগতদের দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টির এই অপচেষ্টার কড়া সমালোচনা করেছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরেফিন মাহমুদ কায়েস। এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “২০২২ সালে ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শাহরিয়ার শিথীলকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রাবণ ভাই যখন ফমেক ছাত্রদলের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন, তখন আমরা পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একজন কর্মীও খুঁজে পাইনি। ফমেক ছাত্রদলের যে সব নেতা এখন ঢাকায় বসে বড় বড় কথা বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে তাঁরা কোথায় ছিলেন?”
তিনি আরও বলেন, “৫ই আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই হুট করে ছাত্রদলের নেতা বনে গেছেন। আর বিএনপি নামধারী ডাক্তারদের কথা কী বলব? ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীম, ডা. তানজিব জুবায়ের নাদিম, ডা. আল-আমিন সারোয়ার, ডেন্টাল সার্জন ডা. দেলোয়ার হোসেন, ইন্টারনাল মেডিসিনের ডা. রফিকুল ইসলাম এবং অর্থোপেডিক সার্জারির ডা. আসিফ-উল আলম আসিফ ছাড়া আমাদের বিপদে-আপদে আর কোনো ডাক্তারকে পাশে পাইনি। আর আমাদের কর্মীদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সবচেয়ে বেশি যাঁর সহযোগিতা পেয়েছি, তিনি ডা. মোসাদ্দেক হোসেন। ৫ই আগস্টের পর গর্তে থাকা বহু চিকিৎসক এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বড় নেতা সাজছেন।”


















