ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: যত্রতত্র পার্কিং ও যানজট নিয়ন্ত্রণ মূল চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ১০:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 112
ফরিদপুর শহরকে যানজট ও দখলমুক্ত করতে এক কঠোর অভিযানে নেমেছে পৌরসভা। সোমবার দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে থানার মোড়, পূর্ব খাবাসপুর মোড়, চকবাজারের চালপট্টি ও ময়রাপট্টি হয়ে বেইলি ব্রিজের মাথা পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের সমস্ত অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ফুটপাতে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজারের আলু, পটল, মরিচ, পেঁয়াজ, লাউসহ নানা মালামাল ও অবৈধ কাঠামোগুলো পিকআপ ভ্যানে তুলে জব্দ করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাঁচা তরিতরকারি আলু, পটল, মরিচ, পেঁয়াজ, লাউ সহ যাবতীয় মালামাল টেনে হেঁচড়ে পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানের বাইরে রাখা মালামালও জব্দ করা হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁদের মালামাল রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে অনেককে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দুই দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এ অভিযানে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীর নেতৃত্বে এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। অভিযান শেষে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা ফুটপাত খালি না করায় প্রশাসন বাধ্য হয়ে এ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং শহরকে সচল রাখতে এ ধরনের তদারকি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
তবে পৌরসভার এই জোরদার অভিযানের পরও ফুটপাত আদতে কতটা দখলমুক্ত থাকবে, তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় অধিবাসীরা। শহরবাসীর মতে, কেবল সাময়িক উচ্ছেদ চালিয়ে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কারণ মালামাল সরানোর পরপরই এসব ফাঁকা জায়গায় ফের বেআইনিভাবে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করে বেহাত করা হয়।
সচেতন নাগরিকদের পক্ষে ছাত্রনেতা কাজী রিয়াজ স্পষ্ট জানান, শহরের মূল সমস্যা হলো অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা। সড়কের পাশের বহুতল ভবনগুলোতে আইন অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও মালিকেরা তা মানছেন না, ফলে প্রধান সড়কগুলোই পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত হচ্ছে। সব মিলিয়ে উচ্ছেদের সুফল ধরে রাখতে হলে কঠোর মনিটরিং ও একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় কদিন বাদেই ফরিদপুর শহরের পরিস্থিতি আবার আগের মতো জটলা পেকে যাবে।


















