Bangladesh ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে বসছে আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন, বাড়ছে শয্যা

আবরাব নাদিম ইতু:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 167

ফরিদপুরবাসীর প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসার স্থান ‘জেনারেল হাসপাতাল’কে কেন্দ্র করে নতুন আশা জাগছে। নানা সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে ঝিমিয়ে পড়া এই হাসপাতালকে একটি আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে নেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের পরিকল্পনা।

হাসপাতালটিকে বিদ্যমান ১০০ শয্যা থেকে আড়াইশো (২৫০) শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে হাসপাতালে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এই নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

বর্তমানে প্যাথলজি বিভাগের সাধারণ পরীক্ষাগুলো করা হলেও আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন ও প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে দালালচক্র; তারা সাধারণ রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যায় বাইরের ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে। তাছাড়া, হাড়ভাঙ্গা রোগীদের জন্য অর্থোপেডিক বিভাগ সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফারের সংকটে সপ্তাহে পাঁচদিনই বন্ধ থাকে এক্স-রে রিপোর্ট প্রদান।

এসব সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, “ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে কেবল একটি হাসপাতাল নয়, সাধারণ মানুষের সেবাকেন্দ্রিক ও ভরসার স্থানে পরিণত করতে হবে। এজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ রোগীরা প্রতিটি সেবা সময়মতো ও সহজে পান।”

সভায় সেবার মান বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. মাহ্‌মুদুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএসএম আনিসুর রহমান এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান।

সভা শেষে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। এসময় এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে বসছে আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন, বাড়ছে শয্যা

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরবাসীর প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসার স্থান ‘জেনারেল হাসপাতাল’কে কেন্দ্র করে নতুন আশা জাগছে। নানা সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে ঝিমিয়ে পড়া এই হাসপাতালকে একটি আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে নেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের পরিকল্পনা।

হাসপাতালটিকে বিদ্যমান ১০০ শয্যা থেকে আড়াইশো (২৫০) শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে হাসপাতালে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এই নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

বর্তমানে প্যাথলজি বিভাগের সাধারণ পরীক্ষাগুলো করা হলেও আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন ও প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে দালালচক্র; তারা সাধারণ রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যায় বাইরের ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে। তাছাড়া, হাড়ভাঙ্গা রোগীদের জন্য অর্থোপেডিক বিভাগ সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফারের সংকটে সপ্তাহে পাঁচদিনই বন্ধ থাকে এক্স-রে রিপোর্ট প্রদান।

এসব সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, “ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে কেবল একটি হাসপাতাল নয়, সাধারণ মানুষের সেবাকেন্দ্রিক ও ভরসার স্থানে পরিণত করতে হবে। এজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ রোগীরা প্রতিটি সেবা সময়মতো ও সহজে পান।”

সভায় সেবার মান বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. মাহ্‌মুদুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএসএম আনিসুর রহমান এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান।

সভা শেষে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। এসময় এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।