ফ্যাসিবাদমুক্তির ২ বছর : আজ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 118
আজ ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ও অকুতোভয় গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, এবং বাংলাদেশ প্রবেশ করে এক নতুন গণতান্ত্রিক ধারায়।
ফ্যাসিবাদমুক্তির আজ ২ বছর পূর্ণ হলো। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে এবং সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে যেই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে সরকারের অমানবিক দমন-পীড়নের মুখে সর্বাত্মক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারাদেশের লাখ লাখ ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এলে শাসকের ভিত কেঁপে ওঠে।
সরকারি তথ্যমতে, এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন বীর শহীদ হন এবং ২৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন—যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। শহীদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ ত্যাগের বিনিময়ে অমানবিক নিপীড়নের কেন্দ্র ‘আয়নাঘর’ যুগের অবসান ঘটে এবং জাতি পায় মুক্ত বাতাসের স্বাদ।
দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি
ফ্যাসিবাদমুক্তির দ্বিতীয় বার্ষিকী ও ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী ও দলিলপত্র নিয়ে গড়ে তোলা এই জাদুঘরটি আগামীকাল থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি’: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (BAMBA) যৌথ উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি বৃহৎ উন্মুক্ত কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও সভা: সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
বিনামূল্যে জাদুঘর ও পার্ক প্রবেশ: দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘর এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের বাণী
ঐতিহাসিক এ দিনটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে ৫ আগস্টকে ‘জনগণের বিজয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, তা রক্ষা করা এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
৫ আগস্ট কেবল একটি শাসনের পতনের দিন নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে পুনপ্রতিষ্ঠা করার এক রক্তস্নাত শপথের নাম।


















