Bangladesh ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

পলাতক মোজাফফরের জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার

অগ্নিপ্রহর ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 55

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ চার দশক পর গ্রেপ্তারের পর সশস্ত্র বাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ওই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করছেন তদন্তকারীরা।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পর পর লাশ অপসারণ, ব্যবহৃত যানবাহন ও পরবর্তী সময়ে পালিয়ে যাওয়ার পুরো রুটের প্রত্যক্ষ বিবরণ দিচ্ছেন। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তবুও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্পর্শকাতরতার কারণে এই মুহূর্তে প্রাপ্ত সকল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই তৎকালীন মেজর মোজাফফর এলাকা ত্যাগ করেন। প্রাথমিকভাবে গহীন জঙ্গল ও সীমান্ত পার হয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্নভাবে ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর একটি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি যেহেতু প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা এবং সেনা আইনি কাঠামোর অধীন পলাতক ছিলেন, তাই ডিবি তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজাফফরের জবানবন্দি দীর্ঘ চার দশকের অস্পষ্টতা দূর করতে পারে।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা, নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, সেনা আইন অনুযায়ী পলাতক সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিধান প্রতিপালন করা হয়েছে। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্য ভূমিকা পরিষ্কার হতে পারে।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের যোগসাজশ খতিয়ে দেখা দরকার। তার মতে, চট্টগ্রাম থানায় রুজু হওয়া মূল মামলার বর্তমান বিচারিক হালনাগাদও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বাহিনীর একটি বিশেষ স্থানে তদন্তকারীদের নজরদারিতে রয়েছেন। সেনা আইনের বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসারেই তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

 

শেয়ার করুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

পলাতক মোজাফফরের জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ চার দশক পর গ্রেপ্তারের পর সশস্ত্র বাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ওই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করছেন তদন্তকারীরা।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পর পর লাশ অপসারণ, ব্যবহৃত যানবাহন ও পরবর্তী সময়ে পালিয়ে যাওয়ার পুরো রুটের প্রত্যক্ষ বিবরণ দিচ্ছেন। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তবুও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্পর্শকাতরতার কারণে এই মুহূর্তে প্রাপ্ত সকল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই তৎকালীন মেজর মোজাফফর এলাকা ত্যাগ করেন। প্রাথমিকভাবে গহীন জঙ্গল ও সীমান্ত পার হয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্নভাবে ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর একটি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি যেহেতু প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা এবং সেনা আইনি কাঠামোর অধীন পলাতক ছিলেন, তাই ডিবি তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজাফফরের জবানবন্দি দীর্ঘ চার দশকের অস্পষ্টতা দূর করতে পারে।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা, নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, সেনা আইন অনুযায়ী পলাতক সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিধান প্রতিপালন করা হয়েছে। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্য ভূমিকা পরিষ্কার হতে পারে।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের যোগসাজশ খতিয়ে দেখা দরকার। তার মতে, চট্টগ্রাম থানায় রুজু হওয়া মূল মামলার বর্তমান বিচারিক হালনাগাদও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বাহিনীর একটি বিশেষ স্থানে তদন্তকারীদের নজরদারিতে রয়েছেন। সেনা আইনের বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসারেই তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।