গোপালগঞ্জে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটের আঘাতে আইনজীবী আহত
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 63
গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালেই এজলাসে কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মেরে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীকে রক্তাক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বিচারকের বিরুদ্ধে। এতে সাবিহা সুলতানা নামে ওই আইনজীবীর মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর আইনজীবী মহলে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতে বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালতে বিচারকার্য চলছিল। এ সময় এজলাসের পেছনের দিকে কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আইনজীবীদের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারক আসন থেকে একটি কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন।
পেপারওয়েটটি সরাসরি গিয়ে পড়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায়। এতে সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। পরে উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিহা সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,”একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এজলাসে বিচারক হিসেবে তিনি এমন সহিংস কাজ কীভাবে করতে পারেন? আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম বলেন, “আদালতের এজলাসে বিচারকের এমন হীন ও অপ্রত্যাশিত কাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি বিচার বিভাগের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত বিচারকের দ্রুত শাস্তি দাবি করছি।”
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমানও এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারকের আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।






















