Bangladesh ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ>>

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 58

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার হওয়া সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে রাজধানী মুজাফফারাবাদের দিকে পরিকল্পিত প্রতিবাদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, পুঞ্চ জেলার রাওয়ালকোটের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলির মুখে পড়ে, যেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে সুধনোটি জেলায় একটি নিরাপত্তা কনভয় বিক্ষোভকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

গত ৫ জুন ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মুজাফফারাবাদের দিকে যাত্রার আগে বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালকোটে অপেক্ষা করছেন।

মূলত ১৯৪৭-পরবর্তী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি সংসদীয় আসন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিরোধ এই আন্দোলনের মূল কারণ। জেএএসি-র অভিযোগ, এই আসনের মাধ্যমে উন্নয়ন তহবিলের সঠিক বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসে সর্বোচ্চ আদালত আসনগুলো বহাল রাখার রায় দিলে আন্দোলনকারীদের অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পায়।

মুজাফফারাবাদের ডেপুটি কমিশনার মুনির কোরেশি জানান, রাজধানীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাওয়ালকোট এলাকায় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মানুষ জড়ো হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা সীমিত করেছে। আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে প্রায় ৪,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৪ জুন থেকে চলমান এই সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট ২৮ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত

আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার হওয়া সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে রাজধানী মুজাফফারাবাদের দিকে পরিকল্পিত প্রতিবাদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, পুঞ্চ জেলার রাওয়ালকোটের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলির মুখে পড়ে, যেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে সুধনোটি জেলায় একটি নিরাপত্তা কনভয় বিক্ষোভকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

গত ৫ জুন ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মুজাফফারাবাদের দিকে যাত্রার আগে বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালকোটে অপেক্ষা করছেন।

মূলত ১৯৪৭-পরবর্তী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি সংসদীয় আসন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিরোধ এই আন্দোলনের মূল কারণ। জেএএসি-র অভিযোগ, এই আসনের মাধ্যমে উন্নয়ন তহবিলের সঠিক বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসে সর্বোচ্চ আদালত আসনগুলো বহাল রাখার রায় দিলে আন্দোলনকারীদের অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পায়।

মুজাফফারাবাদের ডেপুটি কমিশনার মুনির কোরেশি জানান, রাজধানীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাওয়ালকোট এলাকায় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মানুষ জড়ো হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা সীমিত করেছে। আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে প্রায় ৪,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৪ জুন থেকে চলমান এই সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট ২৮ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন।