Bangladesh ০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?

মাদকের বড় মামলায় মিশরীয় টিভি উপস্থাপিকা সহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 56

মাদক উৎপাদন ও পাচারের জন্য সংগঠিত অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগে অভিযুক্ত মিশরের টিভি উপস্থাপিকা সারা খলিফা (৩৯) সহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কায়রোর একটি ফৌজদারি আদালত। সিন্থেটিক মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি, তৈরি ও পাচারে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পরিচালনার দায়ে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

মামলায় ২৮ জন আসামির মধ্যে আদালত ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে খালাস দিয়েছেন।

কায়রো ফৌজদারি আদালত আসামিদের লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার দায়েও দোষী সাব্যস্ত করেছে।

শনিবার সরকারি গণমাধ্যম আল-আহরাম এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, পাবলিক প্রসিকিউশন খলিফা এবং আরও ২৭ জন আসামির বিরুদ্ধে সিন্থেটিক মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও পাচারে বিশেষজ্ঞ একটি সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগ এনেছিল।

২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল প্রমাণের উপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরণ করে। প্রসিকিউশনের মতে, এই প্রমাণগুলোর মধ্যে ছিল বার্তা, ছবি এবং ভিডিও, যা আসামিদের কথিত অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

উপস্থাপিকা সারা খলিফা (৩৯) তার ‘মিশন ইম্পসিবল’ অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক পরিচিত, যেখানে নিরাপত্তা ও অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

খলিফা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা দেশের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালত, কোর্ট অফ ক্যাসেশন-এ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডের মামলার নিয়ম অনুযায়ী, আদালত এর আগে খলিফা এবং অন্য ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে মতামত জানতে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে পাঠিয়েছিল। মুফতির মতামত পরামর্শমূলক এবং আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

খলিফা, যিনি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন এবং একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তাকে এই তদন্তের সূত্রে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কায়রোতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আদালতের নথি অনুসারে, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। খলিফা প্রসিকিউটরদের জানান যে তাকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যদিও আনুষ্ঠানিক জব্দ প্রতিবেদনটির তারিখ ছিল ১৯ এপ্রিল।

প্রসিকিউশনের তদন্ত অনুসারে, দলটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভূমিকা ভাগ করে নিয়েছিল, যেখানে কেউ কাঁচামাল আমদানির, অন্যরা মাদক তৈরির এবং বাকিরা তা বিতরণের দায়িত্বে ছিল।

প্রসিকিউশন জানায়, দলটি উপকরণ মজুত করতে এবং মাদক তৈরির জন্য একটি আবাসিক সম্পত্তি ব্যবহার করত।

প্রসিকিউশনের মতে, তদন্তকারীরা ৭৫০ কিলোগ্রামেরও বেশি সিন্থেটিক মাদক এবং তা উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল জব্দ করেছে।

প্রসিকিউশন আসামিদের সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অধীনে রাখার এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের আটকাদেশ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসিকিউশনের মতে, পলাতক থাকা দুই আসামির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারি তালিকা জারি করা হয়েছে।

 

মাদকের বড় মামলায় মিশরীয় টিভি উপস্থাপিকা সহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক উৎপাদন ও পাচারের জন্য সংগঠিত অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগে অভিযুক্ত মিশরের টিভি উপস্থাপিকা সারা খলিফা (৩৯) সহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কায়রোর একটি ফৌজদারি আদালত। সিন্থেটিক মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি, তৈরি ও পাচারে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পরিচালনার দায়ে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

মামলায় ২৮ জন আসামির মধ্যে আদালত ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে খালাস দিয়েছেন।

কায়রো ফৌজদারি আদালত আসামিদের লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার দায়েও দোষী সাব্যস্ত করেছে।

শনিবার সরকারি গণমাধ্যম আল-আহরাম এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, পাবলিক প্রসিকিউশন খলিফা এবং আরও ২৭ জন আসামির বিরুদ্ধে সিন্থেটিক মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও পাচারে বিশেষজ্ঞ একটি সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগ এনেছিল।

২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল প্রমাণের উপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরণ করে। প্রসিকিউশনের মতে, এই প্রমাণগুলোর মধ্যে ছিল বার্তা, ছবি এবং ভিডিও, যা আসামিদের কথিত অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

উপস্থাপিকা সারা খলিফা (৩৯) তার ‘মিশন ইম্পসিবল’ অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক পরিচিত, যেখানে নিরাপত্তা ও অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

খলিফা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা দেশের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালত, কোর্ট অফ ক্যাসেশন-এ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডের মামলার নিয়ম অনুযায়ী, আদালত এর আগে খলিফা এবং অন্য ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে মতামত জানতে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে পাঠিয়েছিল। মুফতির মতামত পরামর্শমূলক এবং আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

খলিফা, যিনি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন এবং একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তাকে এই তদন্তের সূত্রে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কায়রোতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আদালতের নথি অনুসারে, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। খলিফা প্রসিকিউটরদের জানান যে তাকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যদিও আনুষ্ঠানিক জব্দ প্রতিবেদনটির তারিখ ছিল ১৯ এপ্রিল।

প্রসিকিউশনের তদন্ত অনুসারে, দলটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভূমিকা ভাগ করে নিয়েছিল, যেখানে কেউ কাঁচামাল আমদানির, অন্যরা মাদক তৈরির এবং বাকিরা তা বিতরণের দায়িত্বে ছিল।

প্রসিকিউশন জানায়, দলটি উপকরণ মজুত করতে এবং মাদক তৈরির জন্য একটি আবাসিক সম্পত্তি ব্যবহার করত।

প্রসিকিউশনের মতে, তদন্তকারীরা ৭৫০ কিলোগ্রামেরও বেশি সিন্থেটিক মাদক এবং তা উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল জব্দ করেছে।

প্রসিকিউশন আসামিদের সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অধীনে রাখার এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের আটকাদেশ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসিকিউশনের মতে, পলাতক থাকা দুই আসামির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারি তালিকা জারি করা হয়েছে।