Bangladesh ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / 175

ফরিদপুরে সাজেদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই)  দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একইসাথে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় স্ত্রী সাজেদাকে নিয়ে বসবাস করতেন। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবির পর সেই টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করেন লালন। এরপর ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার এসআই জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। 

এবিষয়ে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে সাজেদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই)  দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একইসাথে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় স্ত্রী সাজেদাকে নিয়ে বসবাস করতেন। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবির পর সেই টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করেন লালন। এরপর ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার এসআই জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। 

এবিষয়ে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।