Bangladesh ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

কারবালার শোকস্মৃতি ও সৃষ্টির ইতিহাস জড়ানো পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 36

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর গত ১৭ জুন, বুধবার থেকে নতুন হিজরি বর্ষের মহররম মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে ২৬ জুন, শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। নানা ঐতিহাসিক ঘটনার আবহের মাঝে মুসলমানদের কাছে এই দিনটি  গভীর শোকাবহ ও চিরস্মরণীয়। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বায়াতের ইমাম হযরত হুসাইন (আ.), তাঁর পরিবার এবং অনুসারীদের ওপর ক্ষমতালোভী মুনাফেক গোষ্ঠীর নৃশংস ও দুর্বিষহ হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা আশুরার এই পবিত্র দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এ দিনেই প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে শয়তানের প্ররোচনায় তাঁর মানবীয় ভুলের কারণে এই দিনেই তাঁকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং পরে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নিজের প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে নির্বাচিত করেন।

এছাড়া, হযরত নুহ (আ.) দীর্ঘ ৯৫০ বছর তাওহিদের বাণী প্রচার করার পরও যখন তৎকালীন মানুষ আল্লাহর বিধিনিষেধ অমান্য করে, তখন যে মহাপ্লাবনের গজব নাজিল হয়েছিল, তা থেকে মুক্তির ঘটনাও এই দিনে ঘটেছিল। ঐতিহাসিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম এবং হযরত মুসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করার ঘটনাও এই আশুরার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল।

এসব মহান ও ঐতিহাসিক কারণে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশেও প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র আশুরা পালন করা হবে।

এই উপলক্ষ্যে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৯ই মহররম (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর ৬ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালনের এই আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।

শেয়ার করুন

কারবালার শোকস্মৃতি ও সৃষ্টির ইতিহাস জড়ানো পবিত্র আশুরা

আপডেট সময় : ১১:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর গত ১৭ জুন, বুধবার থেকে নতুন হিজরি বর্ষের মহররম মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে ২৬ জুন, শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। নানা ঐতিহাসিক ঘটনার আবহের মাঝে মুসলমানদের কাছে এই দিনটি  গভীর শোকাবহ ও চিরস্মরণীয়। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বায়াতের ইমাম হযরত হুসাইন (আ.), তাঁর পরিবার এবং অনুসারীদের ওপর ক্ষমতালোভী মুনাফেক গোষ্ঠীর নৃশংস ও দুর্বিষহ হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা আশুরার এই পবিত্র দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এ দিনেই প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে শয়তানের প্ররোচনায় তাঁর মানবীয় ভুলের কারণে এই দিনেই তাঁকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং পরে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নিজের প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে নির্বাচিত করেন।

এছাড়া, হযরত নুহ (আ.) দীর্ঘ ৯৫০ বছর তাওহিদের বাণী প্রচার করার পরও যখন তৎকালীন মানুষ আল্লাহর বিধিনিষেধ অমান্য করে, তখন যে মহাপ্লাবনের গজব নাজিল হয়েছিল, তা থেকে মুক্তির ঘটনাও এই দিনে ঘটেছিল। ঐতিহাসিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম এবং হযরত মুসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করার ঘটনাও এই আশুরার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল।

এসব মহান ও ঐতিহাসিক কারণে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশেও প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র আশুরা পালন করা হবে।

এই উপলক্ষ্যে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৯ই মহররম (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর ৬ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালনের এই আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।