Bangladesh ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরাপত্তায় প্রতিদিন ব্যয় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 38

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।  সরকারি বাজেট নথি অনুযায়ী, এসপিজি-র বার্ষিক বরাদ্দ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসপিজি-র বার্ষিক বরাদ্দ ছিলো প্রায় ৫৯১.৫৩ কোটি ভারতীয় রুপি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ভারতের নিরাপত্তার মানদণ্ডে এসপিজি হলো সবচেয়ে কঠোর ও সুরক্ষিত স্তর। ১৯৮৮ সালের এসপিজি আইন অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাই এই বাহিনীর মূল কাজ। জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ঝুঁকির সমীকরণ বিবেচনা করে ভারত সরকার এই বিশাল বাজেট বরাদ্দ করে। এর বাইরে হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে দেশটিতে ভিআইপিদের জন্য বিভিন্নস্তরে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

জানা গেছে, এসপিজি-র এই বিশাল ব্যয়ের প্রধান কারণ হলো প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও জনবল। এই খরচের মধ্যে এসপিজি-তে কর্মরত তিন হাজারের বেশি কমান্ডোর বেতন ও ভাতা, তাদের নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা বুলেটপ্রুফ গাড়ি, জ্যামার, সাঁজোয়া যান এবং সফরকালীন বিমান বা হেলিকপ্টারের জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পেছনে সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয়।

দৈনিক ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই গড় হিসাবটি কেবল এসপিজি-র মূল বাজেটের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার যে বিশাল কর্মীবাহিনী কাজ করে, তাদের ব্যয় যোগ করলে সামগ্রিক নিরাপত্তা খরচের অংকটি আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ভারতে ভিআইপিদের জন্য জেড প্লাস, জেড, ওয়াই প্লাস, ওয়াই এবং এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকলেও এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও অভেদ্য।

কোন ক্যাটাগরিতে কত নিরাপত্তা?

এক্স ক্যাটাগরি: এতে দুইজন নিরাপত্তা কর্মী (কমান্ডো নয়) মোতায়েন থাকেন। একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক (পিএসও) থাকেন।

ওয়াই ক্যাটাগরি: ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী এতে মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে একজন বা দু’জন কমান্ডো এবং দু’জন পিএসওও রয়েছে।

ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরি: ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও একটি এসকর্ট যান থাকে। বাসভবনে একজন গার্ড কমান্ডার ও চারজন গার্ড মোতায়েন থাকে।

জেড ক্যাটাগর: ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। ৪ থেকে ৬ জন এনএসজি কমান্ডোও এতে জড়িত। এর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফের জওয়ানরাও সেখানে থাকেন।

জেড প্লাস ক্যাটাগরি: প্রায় ৫৮ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। ১০ টিরও বেশি এনএসজি কমান্ডো এর মধ্যে থাকেন। একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং ২টি এসকর্ট গাড়িও থাকে। বাড়ির বাইরেও বসে পুলিশ ক্যাম্প।

এসপিজি নিরাপত্তা: এসপিজি মানে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ। এটি ১৯৮৮ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়। এর আগে, এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের নিকটতম আত্মীয়দের জন্যও উপলব্ধ ছিল। কিন্তু এসপিজি আইন সংশোধন করা হয়েছে ২ বছর আগে। এরপর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্যই। এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খুব কড়া বলে মনে করা হয়, তবে এতে জওয়ানের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। বিপদের আশঙ্কা দেখে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যানবাহন ও বিমানও এসিপিজির বহরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসপিজি কমান্ডোদের নিরাপত্তা স্তর: প্রথম স্তরে এসপিজি দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ২৪ জন SPG কমান্ডো মোতায়েন রয়েছে। কমান্ডোদের কাছে এফএনএফ-২০০০ অ্যাসল্ট রাইফেল রয়েছে। আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুলেট প্রুফ গাড়িতে চড়েন। কনভয়ে দুটি সাঁজোয়া যান থাকে। ৯টি হাই প্রোফাইল গাড়ি ছাড়াও একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং একটি জ্যামার থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে একটি ডামি গাড়িও চলে। প্রায় ১০০ জওয়ান কনভয়ে সবসময় থাকেন।  এসপিজি -এর বাজেট ক্রমাগত বাড়ছে।

 

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরাপত্তায় প্রতিদিন ব্যয় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা!

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।  সরকারি বাজেট নথি অনুযায়ী, এসপিজি-র বার্ষিক বরাদ্দ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসপিজি-র বার্ষিক বরাদ্দ ছিলো প্রায় ৫৯১.৫৩ কোটি ভারতীয় রুপি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ভারতের নিরাপত্তার মানদণ্ডে এসপিজি হলো সবচেয়ে কঠোর ও সুরক্ষিত স্তর। ১৯৮৮ সালের এসপিজি আইন অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাই এই বাহিনীর মূল কাজ। জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ঝুঁকির সমীকরণ বিবেচনা করে ভারত সরকার এই বিশাল বাজেট বরাদ্দ করে। এর বাইরে হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে দেশটিতে ভিআইপিদের জন্য বিভিন্নস্তরে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

জানা গেছে, এসপিজি-র এই বিশাল ব্যয়ের প্রধান কারণ হলো প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও জনবল। এই খরচের মধ্যে এসপিজি-তে কর্মরত তিন হাজারের বেশি কমান্ডোর বেতন ও ভাতা, তাদের নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা বুলেটপ্রুফ গাড়ি, জ্যামার, সাঁজোয়া যান এবং সফরকালীন বিমান বা হেলিকপ্টারের জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পেছনে সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয়।

দৈনিক ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই গড় হিসাবটি কেবল এসপিজি-র মূল বাজেটের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার যে বিশাল কর্মীবাহিনী কাজ করে, তাদের ব্যয় যোগ করলে সামগ্রিক নিরাপত্তা খরচের অংকটি আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ভারতে ভিআইপিদের জন্য জেড প্লাস, জেড, ওয়াই প্লাস, ওয়াই এবং এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকলেও এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও অভেদ্য।

কোন ক্যাটাগরিতে কত নিরাপত্তা?

এক্স ক্যাটাগরি: এতে দুইজন নিরাপত্তা কর্মী (কমান্ডো নয়) মোতায়েন থাকেন। একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক (পিএসও) থাকেন।

ওয়াই ক্যাটাগরি: ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী এতে মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে একজন বা দু’জন কমান্ডো এবং দু’জন পিএসওও রয়েছে।

ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরি: ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও একটি এসকর্ট যান থাকে। বাসভবনে একজন গার্ড কমান্ডার ও চারজন গার্ড মোতায়েন থাকে।

জেড ক্যাটাগর: ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। ৪ থেকে ৬ জন এনএসজি কমান্ডোও এতে জড়িত। এর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফের জওয়ানরাও সেখানে থাকেন।

জেড প্লাস ক্যাটাগরি: প্রায় ৫৮ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। ১০ টিরও বেশি এনএসজি কমান্ডো এর মধ্যে থাকেন। একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং ২টি এসকর্ট গাড়িও থাকে। বাড়ির বাইরেও বসে পুলিশ ক্যাম্প।

এসপিজি নিরাপত্তা: এসপিজি মানে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ। এটি ১৯৮৮ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়। এর আগে, এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের নিকটতম আত্মীয়দের জন্যও উপলব্ধ ছিল। কিন্তু এসপিজি আইন সংশোধন করা হয়েছে ২ বছর আগে। এরপর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্যই। এসপিজি-র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খুব কড়া বলে মনে করা হয়, তবে এতে জওয়ানের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। বিপদের আশঙ্কা দেখে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যানবাহন ও বিমানও এসিপিজির বহরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসপিজি কমান্ডোদের নিরাপত্তা স্তর: প্রথম স্তরে এসপিজি দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ২৪ জন SPG কমান্ডো মোতায়েন রয়েছে। কমান্ডোদের কাছে এফএনএফ-২০০০ অ্যাসল্ট রাইফেল রয়েছে। আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুলেট প্রুফ গাড়িতে চড়েন। কনভয়ে দুটি সাঁজোয়া যান থাকে। ৯টি হাই প্রোফাইল গাড়ি ছাড়াও একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং একটি জ্যামার থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে একটি ডামি গাড়িও চলে। প্রায় ১০০ জওয়ান কনভয়ে সবসময় থাকেন।  এসপিজি -এর বাজেট ক্রমাগত বাড়ছে।