সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন আইন পাস
- আপডেট সময় : ১১:০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 41
ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে প্রায় ১৫৯ বছর আগের পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের আইন (The Public Gambling Act, 1867) বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল লেনদেন ও বেটিং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
অপরাধের ধরন ও শাস্তির বিধান
নতুন পাস হওয়া আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী মোট ১৪ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু সাজা নিচে দেওয়া হলো:
অনলাইন বেটিং বা বাজি ধরা: অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা: অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা হবে।
ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং: খেলাধুলায় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থপাচার: ভুয়া সিম, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি বা ভুয়া এমএফএস (MFS) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে জুয়া পরিচালনা বা জুয়ার মাধ্যমে অর্থপাচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।
জুয়ার প্রচার ও বিজ্ঞাপন: জুয়ার বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, বা কোনো ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা তারকার মাধ্যমে এর প্রচারণার জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে।
প্রচলিত সাধারণ জুয়া: কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সশরীরে সাধারণ জুয়া খেললে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা।
আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি ও জুয়ার নতুন সংজ্ঞা
নতুন এই আইনে জুয়ার আধুনিক সব মাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
শুধু ঘর বা ক্লাব নয়, জুয়ার স্থান হিসেবে যেকোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ এবং সার্ভার রুমকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
কম্পিউটার, স্মার্টফোন, অবৈধ বা ভুয়া বায়োমেট্রিক্সে নিবন্ধিত সিম কার্ড এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটকে জুয়ার উপকরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত ভিপিএন (VPN), প্রক্সি বা মিরর সাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি ও সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী
আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, রকেট, নগদ), ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন বা বৈধ করার চেষ্টা করা হলে তা অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সাথে জুয়ায় ব্যবহৃত অর্থ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে।
জুয়া প্রতিরোধে এই স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত আইনটি পাস হওয়ার কারণে, আজ জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩’-এর জুয়া সংক্রান্ত ২০ নম্বর ধারাটি বিলুপ্ত করে একটি সংশোধনী বিলও পাস করা হয়েছে।
সংসদে বিলটি পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থপাচার রুখতেই এই যুগোপযোগী আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।”










