এআর রহমানের জাদুতে ১৯ বছর পর গানে ফিরলেন দীপালি সহায়
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 27
‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন ৩-এর সেই পরিচিত মুখ দীপালি সহায়। প্রায় দুই দশক আগে যখন শো-টি থেকে বাদ পড়েন, কে জানত যে গায়িকার জীবনে অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ পথচলা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কণ্ঠনালীতে মারাত্মক রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকেরা বলেছিল আর কখনো গান গাইতে পারবেন না তিনি। সেই তিনি সব প্রতিকূলতাকে জয় করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর কিংবদন্তি সুরকার এ আর রহমানের হাত ধরে পেলেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে দীপালি সহায়ের কণ্ঠে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবির ‘তেরে পাস ম্যায়’ গানটি এখন শ্রোতাদের মুখে মুখে।
গানের জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াইটা সহজ ছিল না দীপালি সহায়ের জন্য। ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৪ সঞ্চালনা করতে গিয়ে কণ্ঠস্বরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভোকাল কর্ড থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন, আমি যদি গান চালিয়ে যাই, তবে কথা বলার ক্ষমতাও হারাব। ওই ভয় থেকে আমি গান গাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম।”
অভিনয় এবং পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করলেও, সংগীত থেকে দূরে থাকতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ ছয় বছর পর বুঝতে পারেন তার কণ্ঠ আবার সুস্থ হয়ে উঠেছে। এরপর নিজের ইউটিউব চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত গান প্রকাশ করতে থাকেন। অবশেষে তার সেই কণ্ঠ পৌঁছায় এ আর রহমানের দরবারে। রহমান স্যারের টিমের মাধ্যমে ডাক পান চেন্নাইয়ে রেকর্ডিংয়ের জন্য।
নিজের স্বপ্নের মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে দীপালি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “রেকর্ডিংয়ের পর চেন্নাইতে রহমান স্যারের সাথে দেখা হলো। আমি খুব লাজুক, কিন্তু তিনি আমাকে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নিলেন। তিনি নিজেই গ্র্যান্ড পিয়ানো নিয়ে বসলেন এবং আমরা একসাথে লতাজি ও আশাজির বেশ কিছু গানে জ্যামিং করলাম।” এমনকি রহমান স্যার তার গাওয়া ‘তু বিন বাতায়ে’ গানটির একটি অংশ রেকর্ড করে রেখেছিলেন, যা তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন।
‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবির পরিচালক ইমতিয়াজ আলীকে দীপালি এই পৃথিবীর সবচেয়ে ‘মিষ্টি ও খাঁটি মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় অবলম্বন হিসেবে পাশে ছিলেন তার স্বামী, জনপ্রিয় গায়ক ঐশ্বর্য নিগম। দীপালি বলেন, “ঐশ্বর্যই আমাকে মাইকের সামনে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। আমি যখন এ আর রহমানের জন্য নার্ভাস ছিলাম, তখনও সে আমাকে সাহস দিয়ে পাঠিয়েছে।”
বর্তমানে গানটির জনপ্রিয়তা নিয়ে দীপালি বলেন, “গানটি মুক্তির তিন সপ্তাহের মধ্যেই রান্নার ঘর থেকে শুরু করে হাসপাতালের থেরাপি রুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এটা কোনো সাধারণ সাফল্য নয়, এটা স্বর্গীয়।” বর্তমানে কণ্ঠের যত্ন নিতে দারুণ সচেতন তিনি। বাস্তবতাকে সঙ্গী করে গানেই নিজের ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত সাজাতে চান এই গায়িকা।
ভোজপুরি ও হিন্দি সিরিয়ালে অভিনয়, এফটিটিআই-তে পরিচালনা শেখা এবং অবশেষে একজন পূর্ণাঙ্গ গায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা—দীপালি সহায়ের এই জার্নি যেন এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। যে কণ্ঠে একসময় নীরবতা নেমে আসার আশঙ্কা ছিল, সেই কণ্ঠেই আজ সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছেন অসংখ্য শ্রোতা।
সূত্র: সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।









