২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন সুখরঞ্জন বালী।
সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ: এএসপি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 34
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামী নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিতে গিয়ে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হওয়া পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালীর অপহরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, গত রাতে ডিবি পুলিশ মোকলেসুর রহমান নামের ওই এএসপিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন সুখরঞ্জন বালী। এরপর তাকে ভারতের একটি কারাগারে দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্দি থাকতে হয়েছিল।
সুখরঞ্জন বালী ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সুখরঞ্জন বালী জানান, ১৯৭১ সালে তার ভাই বিশাবালীকে হত্যার ঘটনায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম আব্দুল আউয়াল ও পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। রাজি না হওয়ায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে সাঈদীর পক্ষে সত্য সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে আসার পথে ৫ নভেম্বর সকালে আইনজীবীর গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক সাদা পোশাকে থাকা লোকজন ও পুলিশ পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। তাকে দীর্ঘ দুই মাস একটি অন্ধকার কক্ষে বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে তার কাছ থেকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পাঁচ বছর কারাবন্দি থাকতে হয়। পরে মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্থা ও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তিনি মুক্তি পান।
সুখরঞ্জন বালী তার অভিযোগে দাবি করেন, তাকে গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও ভারতে পাচারের পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।










