০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার তদন্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন স্মারকলিপি
একবছরে সদস্যসংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৩৬শ’

আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 206

ছবি- সংগৃহিত

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠিত ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরবর্তীতে বারডেমের মডেল অনুসরণ করে তারই ছাত্র ডা. মোহাম্মদ জাহেদের হাত ধরে কতিপয় মহৎপ্রাণ সমাজসেবকের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি। সেদিন বিন্দু থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউটে বিস্তার পেয়েছে। ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। ২০১০ সালে ফরিদপুর ডায়বেটিক অ্যাসোসেয়েশন মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধন করা হয়। ১ম থেকে ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এমবিবিএস পাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ তম ব্যাচে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন নার্সিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স ও মিডওয়াইফারি কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এবছর ১৯তম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে।

হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলা সেদিনের সেই ফরিদপুর ডায়বেটিক সমিতি এখন সারাদেশের স্বাস্থ্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকলের আগ্রহের কেন্দ্র। গত বছর মাত্র সাড়ে ৭শ’ সদস্য থেকে মাত্র একবছরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৬শ’ ৪৮ জনে দাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু হয়েছে নির্বাচনের ডামাডোল। ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ৬টি পদে ১৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে আবারো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়  সভাপতি হয়েছেন মীর নাসির হোসেন। অন্যান্য পদের মধ্যে ৩টি সহসভাপতি পদে ১১ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন, দুইটি যুগ্ম সম্পাদক পদে ২৩ জন, একটি কোষাধ্যক্ষ পদে ৪ জন ও তেরটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৮৮ জনের প্রার্থীতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দু’জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগ একটি নিরব ঘাতক হয়ে উঠেছিল সেই পাকিস্তান আমল থেকেই। আর এর বিপরীতে দেশের মানুষের জন্য এই রোগের মোকাবেলায় একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯৫৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি নাম ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস সংক্ষেপে বারডেম (BIRDEM)।

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছাত্র ছিলেন ফরিদপুরের ডা. মোহাম্মদ জাহেদ। শিক্ষকের অনুসরণে তিনি কতিপয় মহৎপ্রাণ সমাজসেবকদের সাথে নিয়ে ১৯৮৩ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি।

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আরেক সুযোগ্য ছাত্র ডা. আব্দুস সালাম চৌধুরীকে সভাপতি এবং ডা. মোহাম্মদ জাহেদকে সাধারণ সম্পাদক ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি আত্মপ্রকাশ করে। এই মহৎ যাত্রায় তাদের সাথে আরো ছিলেন সকলের সুপরিচিত সমাজসেবক অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক এমএ সামাদ, ডা. ননী গোপাল সাহা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক,  রকিবউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান মোল্লা,  অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ সাহা, কামরুজ্জামান খান জাসু সহ আরও কতিপয় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।

১৯৮৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ সোলায়মান ঝিলটুলীতে একটি পুরাতন দ্বিতল ভবনের দোতলা এই সমিতিকে বন্দোবস্ত দেন। সেবছর থেকে এখানে ডায়াবেটিক রোগ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকাস্থ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির এফিলিয়েশন প্রাপ্ত হয়| ১৯৮৬ সালের ২৪ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী মেজর জেনারেল মহব্বতজান চৌধুরী এর উদ্বোধন করেছিলেন। সেখানে বর্তমানে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে শহরের উপকন্ঠে ডোমরাকান্দিতে ১ একর ৭৯ শতাংশ জমিতে ডায়বেটিক সমিতির মেডিক্যাল কলেজের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ২০২৪ সালে ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে ৮ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে সূলভে কিডনি ডায়ালায়সিসের সুবিধা রয়েছে।  জেলা শহরের বাইরে আলফাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাদ্দাম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিবছর ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ক্যাম্প ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বারডেমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ মডেল’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (WHO) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছে। সারাদেশের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বাইরে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি একটি আত্মনির্ভরশীল স্বাস্থ্য কাঠামো হিসেবে রুপ লাভ করেছে। যা আজ বিশাল মহীরুহ হয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বর্ধিত জনসংখ্যার এই দেশে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নানা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে সঙ্গতকারণেই। বিভিন্নসময়ে সাধারণ মানুষকে তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষার তীব্রতাও পরিলক্ষিত হয়।

মনে রাখতে হবে- এই সংগঠন কেবল একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে কাজ শুরু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ডায়াবেটিস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, রোগ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। স্বেচ্ছাসেবক, রোগী ও তাদের পরিবার, চিকিৎসক, খাদ্য বিশেষজ্ঞ এবং সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে এই সমিতি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এটি যেনো সারাদেশের মধ্যে একটি সত্যিকারের মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা বিশেষ জরুরি। সেইসাথে তিলে তিলে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানের জড়িত সেই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্বদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করতে যেনো কোনপ্রকার কার্পণ্য করা না হয়।

শেয়ার করুন

একবছরে সদস্যসংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৩৬শ’

আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন

আপডেট সময় : ১০:৪১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠিত ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরবর্তীতে বারডেমের মডেল অনুসরণ করে তারই ছাত্র ডা. মোহাম্মদ জাহেদের হাত ধরে কতিপয় মহৎপ্রাণ সমাজসেবকের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি। সেদিন বিন্দু থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউটে বিস্তার পেয়েছে। ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। ২০১০ সালে ফরিদপুর ডায়বেটিক অ্যাসোসেয়েশন মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধন করা হয়। ১ম থেকে ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এমবিবিএস পাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ তম ব্যাচে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন নার্সিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স ও মিডওয়াইফারি কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এবছর ১৯তম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে।

হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলা সেদিনের সেই ফরিদপুর ডায়বেটিক সমিতি এখন সারাদেশের স্বাস্থ্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকলের আগ্রহের কেন্দ্র। গত বছর মাত্র সাড়ে ৭শ’ সদস্য থেকে মাত্র একবছরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৬শ’ ৪৮ জনে দাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু হয়েছে নির্বাচনের ডামাডোল। ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ৬টি পদে ১৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে আবারো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়  সভাপতি হয়েছেন মীর নাসির হোসেন। অন্যান্য পদের মধ্যে ৩টি সহসভাপতি পদে ১১ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন, দুইটি যুগ্ম সম্পাদক পদে ২৩ জন, একটি কোষাধ্যক্ষ পদে ৪ জন ও তেরটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৮৮ জনের প্রার্থীতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দু’জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগ একটি নিরব ঘাতক হয়ে উঠেছিল সেই পাকিস্তান আমল থেকেই। আর এর বিপরীতে দেশের মানুষের জন্য এই রোগের মোকাবেলায় একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯৫৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি নাম ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস সংক্ষেপে বারডেম (BIRDEM)।

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছাত্র ছিলেন ফরিদপুরের ডা. মোহাম্মদ জাহেদ। শিক্ষকের অনুসরণে তিনি কতিপয় মহৎপ্রাণ সমাজসেবকদের সাথে নিয়ে ১৯৮৩ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি।

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আরেক সুযোগ্য ছাত্র ডা. আব্দুস সালাম চৌধুরীকে সভাপতি এবং ডা. মোহাম্মদ জাহেদকে সাধারণ সম্পাদক ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি আত্মপ্রকাশ করে। এই মহৎ যাত্রায় তাদের সাথে আরো ছিলেন সকলের সুপরিচিত সমাজসেবক অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক এমএ সামাদ, ডা. ননী গোপাল সাহা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক,  রকিবউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান মোল্লা,  অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ সাহা, কামরুজ্জামান খান জাসু সহ আরও কতিপয় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।

১৯৮৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ সোলায়মান ঝিলটুলীতে একটি পুরাতন দ্বিতল ভবনের দোতলা এই সমিতিকে বন্দোবস্ত দেন। সেবছর থেকে এখানে ডায়াবেটিক রোগ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকাস্থ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির এফিলিয়েশন প্রাপ্ত হয়| ১৯৮৬ সালের ২৪ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী মেজর জেনারেল মহব্বতজান চৌধুরী এর উদ্বোধন করেছিলেন। সেখানে বর্তমানে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে শহরের উপকন্ঠে ডোমরাকান্দিতে ১ একর ৭৯ শতাংশ জমিতে ডায়বেটিক সমিতির মেডিক্যাল কলেজের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ২০২৪ সালে ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে ৮ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে সূলভে কিডনি ডায়ালায়সিসের সুবিধা রয়েছে।  জেলা শহরের বাইরে আলফাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাদ্দাম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিবছর ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ক্যাম্প ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বারডেমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ মডেল’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (WHO) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছে। সারাদেশের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বাইরে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি একটি আত্মনির্ভরশীল স্বাস্থ্য কাঠামো হিসেবে রুপ লাভ করেছে। যা আজ বিশাল মহীরুহ হয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বর্ধিত জনসংখ্যার এই দেশে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নানা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে সঙ্গতকারণেই। বিভিন্নসময়ে সাধারণ মানুষকে তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষার তীব্রতাও পরিলক্ষিত হয়।

মনে রাখতে হবে- এই সংগঠন কেবল একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে কাজ শুরু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ডায়াবেটিস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, রোগ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। স্বেচ্ছাসেবক, রোগী ও তাদের পরিবার, চিকিৎসক, খাদ্য বিশেষজ্ঞ এবং সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে এই সমিতি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এটি যেনো সারাদেশের মধ্যে একটি সত্যিকারের মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা বিশেষ জরুরি। সেইসাথে তিলে তিলে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানের জড়িত সেই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্বদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করতে যেনো কোনপ্রকার কার্পণ্য করা না হয়।