০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ফরিদপুরে হাম উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু: ৭৫ ভাগই মারা যায় টিকা পাবার আগে

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 96

ফাইল ছবি

দেশব্যাপী হামের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশু মারা গিয়েছে। যার মধ্যে ৯ জনই মারা যায় হামের প্রথম ডোজ টিকা পাওয়ার নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই।

‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২৬’ শেষ হচ্ছে আজ। বিশেষ এই এ ক্যাম্পেইনে শিশুদের টিকা দানের বয়স কমিয়ে ৬ মাস করা হয়। তবে আগামীকাল থেকে নিয়মিতভাবে চালু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মর্সূচিতে পূর্বের নিয়মেই তথা ৯ মাসের কমবয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে। ফলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে শিশুরা আবারও ঝুঁকিতে পড়বে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট ১ হাজার ৬১২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়। আর ১ হাজার ৫০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এরমধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মোট ১ হাজার ৫৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪৯ জন।

জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১২ জন রোগীর সকলেই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ফরিদপুরের ৩ জন, গোপালগঞ্জের ৩ জন, রাজবাড়ীর ২ জন, মাদারীপুরের ২ জন, মাগুরার ১ জন ও যশোরের ১ জন শিশু রয়েছে।

৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের এই উচ্চ মৃত্যুহার এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি প্রসঙ্গে ফরিদপুরের ডা.  জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ এস এ চৌধুরী সাদীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের দেশে ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী ৯ মাসের নিচে হামের টিকা দেওয়া হয় না। প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে দেওয়া হয়। ৯ মাস বয়স হওয়ার আগে টিকা না পাওয়ায় শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়না। ফলে তারা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা এনকেফালাইটিসের মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

টিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, “বর্তমানে হামের পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সীদের ১ ডোজ করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার ২১ মে থেকে ক্যাম্পেইন শেষ হলে আবারও আগের নিয়মেই অর্থাৎ ৯ মাস বয়স হলেই কেবল টিকা দেওয়া হবে।”

এদিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে, নতুন করে বাড়তি কোনো চাপ তৈরি হয়নি। হামে আক্রান্ত শিশুদের আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে হাম উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু: ৭৫ ভাগই মারা যায় টিকা পাবার আগে

আপডেট সময় : ০৬:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশব্যাপী হামের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশু মারা গিয়েছে। যার মধ্যে ৯ জনই মারা যায় হামের প্রথম ডোজ টিকা পাওয়ার নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই।

‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২৬’ শেষ হচ্ছে আজ। বিশেষ এই এ ক্যাম্পেইনে শিশুদের টিকা দানের বয়স কমিয়ে ৬ মাস করা হয়। তবে আগামীকাল থেকে নিয়মিতভাবে চালু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মর্সূচিতে পূর্বের নিয়মেই তথা ৯ মাসের কমবয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে। ফলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে শিশুরা আবারও ঝুঁকিতে পড়বে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট ১ হাজার ৬১২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়। আর ১ হাজার ৫০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এরমধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মোট ১ হাজার ৫৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪৯ জন।

জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১২ জন রোগীর সকলেই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ফরিদপুরের ৩ জন, গোপালগঞ্জের ৩ জন, রাজবাড়ীর ২ জন, মাদারীপুরের ২ জন, মাগুরার ১ জন ও যশোরের ১ জন শিশু রয়েছে।

৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের এই উচ্চ মৃত্যুহার এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি প্রসঙ্গে ফরিদপুরের ডা.  জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ এস এ চৌধুরী সাদীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের দেশে ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী ৯ মাসের নিচে হামের টিকা দেওয়া হয় না। প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে দেওয়া হয়। ৯ মাস বয়স হওয়ার আগে টিকা না পাওয়ায় শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়না। ফলে তারা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা এনকেফালাইটিসের মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

টিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, “বর্তমানে হামের পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সীদের ১ ডোজ করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার ২১ মে থেকে ক্যাম্পেইন শেষ হলে আবারও আগের নিয়মেই অর্থাৎ ৯ মাস বয়স হলেই কেবল টিকা দেওয়া হবে।”

এদিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে, নতুন করে বাড়তি কোনো চাপ তৈরি হয়নি। হামে আক্রান্ত শিশুদের আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।