০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়ের উদ্যেশ্যে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 49

ইরানের ওপর ইসরাইলি সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়ের উদ্যেশ্যে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। তারা বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদের ​এই হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যেন তারা যুদ্ধের উস্কানি বন্ধে নিজেদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং ​মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা পালন করেন। তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং  তারা বলেছেন, বিজ্ঞান, মানবতা ও ন্যায়বিচার একে অপরের পরিপূরক।

এই চিঠিতে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, ইরানের সামরিক স্থাপনায় ইসরাইলের এই হামলা সরাসরি জাতিসংঘের সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন আঘাত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমা দেশগুলো একদিকে মানবাধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে ইসরাইলের এই ধরনের আগ্রাসনকে সমর্থন বা মৌন সম্মতি দিচ্ছে। তারা একে “দ্বিমুখী আচরণ” হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলেছেন।

কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু তার অভ্যন্তরীণ অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও শান্তির সঙ্গে তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই বিশ্বব্যাপী একাডেমিক সমাজের প্রতি আমাদের আহ্বান শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের এই চিঠির শুরুতেই লেখকরা নিজেদের কেবল একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন মূল্যবোধের ধারক।

চিঠিতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর সংঘটিত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনাকে তারা কেবল রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে নয়, বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, এই ব্যক্তিরাই দীর্ঘ ৪৭ বছরে ইরানের সামাজিক, বৈজ্ঞানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

চিঠিতে তারা  যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটি যে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ উওেল্লখ করেন- নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ৯৬ শতাংশ জনগণের কাছে পৌঁছেছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সুবিধাও প্রায় সমপরিমাণ জনগণ ভোগ করছে। স্বাস্থ্যসেবায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষের বীমা কাভারেজ এবং শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া একটি শক্তিশালী জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

চিঠিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইরানের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে-মহাকাশ বিজ্ঞান, ন্যানোটেকনোলজি এবং পেটেন্ট নিবন্ধনে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থান অর্জন দেশটির গবেষণা সক্ষমতার প্রতিফলন। একইসঙ্গে, বিশ্বের শীর্ষ ১ শতাংশ উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১১৪৪ জন ইরানি গবেষকের উপস্থিতি একটি শক্তিশালী একাডেমিক অবকাঠামোর প্রমাণ বহন করে।

স্বাস্থ্যখাতে ইরানের সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে- বিরল রোগের চিকিৎসা থেকে শুরু করে শিশুদের হার্ট সার্জারি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দেশটির অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। বিশেষ করে দেশীয়ভাবে ৯৫ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা একটি স্বনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার নির্দেশক। এই অর্জনগুলো শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং মানবিক কল্যাণের প্রতিফলন হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে।

শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।  ইরানে নারীদের সাক্ষরতার হার ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ নারী শিক্ষক, চিকিৎসা ও গবেষণায় নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ—এসব তথ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের চিত্র তুলে ধরে।

তবে এই অগ্রগতির বিপরীতে চিঠির সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিবরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের ফলে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। হাজার হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে—স্কুল, হাসপাতাল, আবাসন—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘ-এর সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ, যা কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করে। একইসঙ্গে জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি -এর আলোকে এই হামলাগুলোকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে পরিবেশগত ক্ষতির কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে “ব্ল্যাক রেইন” বা দূষিত বৃষ্টির সৃষ্টি, পানি ও মাটির দূষণ—এসব কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

সবশেষে, চিঠিটি একটি নৈতিক আবেদন হিসেবে পরিণত হয়েছে। লেখকরা বিশ্বব্যাপী শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নীরব না থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে “মানবতার বিবেক” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা একাডেমিক দায়িত্বের অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানের মানুষের কণ্ঠ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়ের উদ্যেশ্যে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর ইসরাইলি সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়ের উদ্যেশ্যে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। তারা বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদের ​এই হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যেন তারা যুদ্ধের উস্কানি বন্ধে নিজেদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং ​মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা পালন করেন। তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং  তারা বলেছেন, বিজ্ঞান, মানবতা ও ন্যায়বিচার একে অপরের পরিপূরক।

এই চিঠিতে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, ইরানের সামরিক স্থাপনায় ইসরাইলের এই হামলা সরাসরি জাতিসংঘের সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন আঘাত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমা দেশগুলো একদিকে মানবাধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে ইসরাইলের এই ধরনের আগ্রাসনকে সমর্থন বা মৌন সম্মতি দিচ্ছে। তারা একে “দ্বিমুখী আচরণ” হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ব একাডেমিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলেছেন।

কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু তার অভ্যন্তরীণ অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও শান্তির সঙ্গে তা গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই বিশ্বব্যাপী একাডেমিক সমাজের প্রতি আমাদের আহ্বান শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের এই চিঠির শুরুতেই লেখকরা নিজেদের কেবল একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন মূল্যবোধের ধারক।

চিঠিতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর সংঘটিত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনাকে তারা কেবল রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে নয়, বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, এই ব্যক্তিরাই দীর্ঘ ৪৭ বছরে ইরানের সামাজিক, বৈজ্ঞানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

চিঠিতে তারা  যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটি যে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ উওেল্লখ করেন- নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ৯৬ শতাংশ জনগণের কাছে পৌঁছেছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সুবিধাও প্রায় সমপরিমাণ জনগণ ভোগ করছে। স্বাস্থ্যসেবায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষের বীমা কাভারেজ এবং শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া একটি শক্তিশালী জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

চিঠিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইরানের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে-মহাকাশ বিজ্ঞান, ন্যানোটেকনোলজি এবং পেটেন্ট নিবন্ধনে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থান অর্জন দেশটির গবেষণা সক্ষমতার প্রতিফলন। একইসঙ্গে, বিশ্বের শীর্ষ ১ শতাংশ উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১১৪৪ জন ইরানি গবেষকের উপস্থিতি একটি শক্তিশালী একাডেমিক অবকাঠামোর প্রমাণ বহন করে।

স্বাস্থ্যখাতে ইরানের সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে- বিরল রোগের চিকিৎসা থেকে শুরু করে শিশুদের হার্ট সার্জারি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দেশটির অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। বিশেষ করে দেশীয়ভাবে ৯৫ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা একটি স্বনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার নির্দেশক। এই অর্জনগুলো শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং মানবিক কল্যাণের প্রতিফলন হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে।

শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।  ইরানে নারীদের সাক্ষরতার হার ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ নারী শিক্ষক, চিকিৎসা ও গবেষণায় নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ—এসব তথ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের চিত্র তুলে ধরে।

তবে এই অগ্রগতির বিপরীতে চিঠির সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিবরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের ফলে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। হাজার হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে—স্কুল, হাসপাতাল, আবাসন—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘ-এর সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ, যা কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করে। একইসঙ্গে জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি -এর আলোকে এই হামলাগুলোকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে পরিবেশগত ক্ষতির কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে “ব্ল্যাক রেইন” বা দূষিত বৃষ্টির সৃষ্টি, পানি ও মাটির দূষণ—এসব কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

সবশেষে, চিঠিটি একটি নৈতিক আবেদন হিসেবে পরিণত হয়েছে। লেখকরা বিশ্বব্যাপী শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নীরব না থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে “মানবতার বিবেক” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা একাডেমিক দায়িত্বের অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানের মানুষের কণ্ঠ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।