০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ)

দলিল উদ্দিন আহমেদ
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 54

হাঁটি হাঁটি পা পা করে জাকের ক্যাম্প হতে জাকের মঞ্জিল, অতঃপর জাকের মঞ্জিল হতে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নাম ধারণ করে একজন মহান ওলিয়ে কামেল, শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সত্য ইসলাম প্রচার কেন্দ্রটি সারা বিশ্বে শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামটি পরিপূর্ণ বাস্তবতা লাভ করেছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামটি এখন সারা বিশ্বে বহুল পরিচিত।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা মহান ওলিয়ে কামেল হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) তিনার দয়াল মুর্শিদ শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) হতে খেলাফত প্রাপ্তির পর হতে, তিনার পীরের নির্দেশে পৈতৃক বাড়ি-ঘর, দেশ ত্যাগ করে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার অন্তর্গত একটি নিভৃত গ্রাম আটরশিতে এসে সারাটা জীবন সত্য ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের তথা বিশ্বের অসংখ্য পথভোলা মানুষদের সঠিক পথে চলার শিক্ষা দিলেন। মানুষকে তিনি শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারিফত প্রসঙ্গে শিক্ষা দিলেন, অজ্ঞানকে জ্ঞানের আলো দিলেন, অনভিজ্ঞকে অভিজ্ঞ করলেন, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে মানুষকে তিনি জীবন চলার পথে গ্রহণযোগ্য সত্যকে গ্রহণের দাওয়াত দিলেন। এহেন মহাসত্যের দাওয়াত কিয়ামত পর্যন্ত চালু রাখার ব্যবস্থাপনা তিনি রেখে গেলেন। যে শিক্ষা যে আদর্শ, যে দর্শন তিনি বিশ্বে রেখে গেলেন, সে দিন বেশি দূরে নয়, তার কার্যাবলি, তার আদর্শ ও তার দর্শন নিয়ে বিশ্বের জ্ঞানীজন গুণীজন অনন্তকাল গবেষণা চালিয়ে যাবে। বিশ্বমানব সমাজের কল্যাণের জন্য তিনি একটা মহামিশন নিয়ে, একটা মহান ইচ্ছা শক্তি নিয়ে দুনিয়ায় এসেছিলেন। সেই শিক্ষাই তিনি বিশ্বের বহু মানুষকে হাতে কলমে শিখিয়ে গেছেন। তেইশ খানা পূতপবিত্র কিতাব নসিহত গ্রন্থ লিখেও পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রেখে গেছেন। বিশ্বের যেকোনো মানুষ যদি হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের রেখে যাওয়া শিক্ষা গ্রহণ করে তা হলে সে ইহ-পরকালে মহাশান্তি লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তিনি একজন বিশ্ব শিক্ষক। তার বিশ্ব শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন প্রসঙ্গে দু-একটি উদাহরণ দেয়া প্রয়োজন। হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের সম্মানিত পিতা আলিম উদ্দিন মিঞার আমন্ত্রণে ভারত বিখ্যাত ওলিয়ে কামেল শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) তার বাড়িতে মেহমান হয়ে এলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন আলিম উদ্দিন মিঞার দুটি ছেলে আলতাফ হোসেন ও মো. হাসমত উল্লাহ। ছেলে দুটিকে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর খুব ভালো লাগলো। তিনি আলিম উদ্দিন মিঞাকে বললেন, আপনি আপনার ছেলে দুটো আমায় দিন। মো. আলিম উদ্দিন মিঞা সানন্দে ছেলে দুটিকে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর হাতে তুলে দেন। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) বললেন, অদ্য হতে ওদের ভালোমন্দ আমার হাতে রইল।

বিশ্ব শান্তি মঞ্জিল, এনায়েতপুর পাক দরকার শরীফ। বিশ্ব শান্তি মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী শেরপুরের ভাতৃদ্বয় এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফে খেদমত করা শুরু করলেন। ইহলৌকিক পারলৌকিক শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারিফত সব ধরনের শিক্ষা ভাতৃদ্বয় মুর্শিদ কেবলা, শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর নিকট হতে শিক্ষা করতে লাগলেন। বড়ো ভাই আলতাফ হোসেন আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষ হয়ে পরবর্তীকালে আসাম ও বাংলার বহু জায়গায় তরিকা প্রচারে মূল্যবান ভূমিকা রেখেছেন। ছোটো ভাই মো. হাসমত উল্লাহ শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর গোলাম হয়ে অর্ধজীবন পার করেন। পীরের হুকুম ও নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি মঞ্জিলে অবস্থান করে কঠোর কায়িকশ্রম ও আত্মিক সাধনার মাধ্যমে জীবনের চল্লিশটি বছর অতিবাহিত করেছেন।

এ সময়ের মধ্যে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) নির্দেশ অনুযায়ী তিনার বিষয় সম্পত্তি যা কিছু ছিল বিক্রি করে তিনার পরম পাওয়া মহান মুর্শিদ শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর পুত পবিত্র কদমে অর্পণ করলেন। বিশ্ব চরাচরে তিনার দয়াল মুর্শিদ ছাড়া আর কেউ রইল না।

শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) ও তার পরম প্রিয় রুহানী সন্তান হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবকে বুঝাতে চেয়েছিলেন, ত্যাগ নেই তো কোন অর্জন নেই। তিনি তার গোলামের আপদমস্তক দেহের অহংবোধ, হিংসা, নিন্দা ও আভিজাত্যের বড়াই তথা নফছে আম্মারা ধ্বংসের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবই করেছিলেন। প্রিয়তম গোলামকে একটানা সাত দিন আটদিন অনাহারে রেখেছেন। সারাদিন তিনাকে অনাহারে থেকেই কঠিন শ্রম করতে হতো, পাথর ভাঙতে হতো, মাটি কাটতে হতো। কিন্তু তিনাকে খেতে দেয়া হতো না। অনেক সময় মুমূর্ষু অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে যেতেন।

পরম প্রিয় গোলাম হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবকে আবার তার মহান মুর্শিদ কেবলার (রঃ)-এর বিশ্রামের সময় সারারাত নির্ঘুম দাঁড়িয়ে থেকে ঝুলন্ত ফ্যানের রশি টানতে হতো। দিনে রাতে কখনো তিনার ঘুমানোর সুযোগ ছিল না। তিনাকে কোনো বিশ্রাম দেয়া হতো না। কোনো কোনো সময়

হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের অসহায় অবস্থা দেখে তদ্বীয় মহান মুর্শিদ শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)কে কেউ কেউ বিনয়ের সাথে বলতেন, হুজুর না খেয়ে খেয়ে হঠাৎ কোনো অঘটন ঘটে না যায়। না খেয়ে থাকতে থাকতে তার শরীরে কোনো মাংস নেই, হাড়গুলো সব দৃশ্যমান। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) বলতেন, ‘হাসমত উল্লাহ না খেয়ে না থাকলে ও কেমন করে সারা বিশ্বের মানুষকে পেট পুরে খাওয়াবে’। এহেন কথা স্বপ্নের ন্যায় অমূলক মনে হতো।

কিন্তু না একজন মহান ওলিয়ে কামেল যা বলেন, সেইটাই বাস্তব, দুদিন আগে বা পরে সেটাই বাস্তবায়িত হয়।

প্রসঙ্গক্রমে মহান ওলিয়ে কামেল শাহসুফী সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর একটি মূল্যবান ঘটনা কোট করছি। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) একজন জবরদস্ত ওলিয়ে কামেল ছিলেন। ফরিদপুর জেলার সদর থানার গেরদা নামক গ্রামের শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) অধিবাসী ছিলেন। তিনি তার পূর্ব পুরুষগণও এ ঐতিহ্যবাহি গ্রামে বসবাস করতেন।

শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) অবিভক্ত বাংলার বহু জেলায় তরিকা প্রচার উদ্দেশ্যে বহু ইসলামিক মাহফিল সভা সেমিনার করেছেন তিনি। যে সময় ওয়াজ নসিহত করেছেন তিনি, সে সময় বাংলার বহু মুসলমান মনসা পূজা, লক্ষ্মী পূজা, সরস্বতী পূজা অর্চণার সাথে সম্পৃক্ত থাকতো। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) ফরিদপুর জেলার কোনো কোনো জায়গায় মাহফিলে মুসলমানদেরকে বিভিন্ন পূজাকরণ হতে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাতেন। তৎকালীন মুসলমানরা পূর্বপুরুষদের ধর্মত্যাগ সম্ভব নয় বলে শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ)-কে অপমান করেছিল।

এ কারণে তিনি ফরিদপুরের কোনো এক মাহফিলে বলেছিলেন, আমি তো এ অঞ্চল হেদায়েত করতে পারলাম না, তবে আমি আমার একজন গোলামের গোলাম দিয়ে এই অঞ্চলের জনপদকে হেদায়েত করাব।

শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) ফরিদপুর হতে কলকাতায় হিজরত করলেন। কলকাতা শহরের গোবরাবাগে মোজাদ্দেদীয়া খানকা শরীফ নির্মাণ করে সপরিবারে সেখানেই বসবাস শুরু করেন এবং এ খানকা শরীফকে নিশানা করে তিনি বাংলা, বিহার ও আসামে তরিকা প্রচার শুরু করলেন। স্বল্প সময়ে তার অসংখ্য রুহানী সন্তান হয়ে যায়, লাখ লাখ ভক্ত মুরিদান নিজকে জানবার জন্য, আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর নৈকট্য লাভের জন্য মানুষ সত্যের সন্ধানে তার গোবরাবাগ পাক দরবার শরীফে আসতে থাকে। পাবনা জেলা হতেও অসংখ্য সত্যসন্ধানী মানুষ শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর নিকট বায়াত গ্রহণ করেছিলেন।
বায়াত গ্রহণকারীগণের মধ্যে পাবনা জেলার এনায়েতপুরের আমাদের দাদাপীর শাহসূফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (র.) ছিলেন মেধাসম্পন্ন অনন্য এক ব্যাক্তিত্ব। তার আদব বুদ্ধি মহব্বত ও সাহস ছিল লক্ষ করার মতো। অচিরেই তিনি শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর নিকট অতি প্রিয়ভাজন হন। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) শাহসূফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (র.) কে তাহাজু-এত্তহাদি বলে একজন কামেল মোকাম্মেল ওলির দরজায় পৌঁছে দেন। অতঃপর তাকে তার নিজ গৃহ এনায়েত পুরে অবস্থান করেই তরিকা প্রচারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

জামানার ওলিকুল সম্রাট, জামানার মুরাদ ফকির, হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব শাহসুফি সৈয়দ মাওলানা মো. ইউনুস আলী (রা.)-এরই রুহানী সন্তান। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর নির্দেশক্রমে হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার একটি নিভৃত গ্রাম আটরশিতে প্রেরিত হন।

১৩৫০ বঙ্গাব্দে হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব ফরিদপুরের সদরপুর থানাধীন আটরশি গ্রামে মহসীন খানের বাড়িকে কেন্দ্র করে প্রথমে একটি টিন শেড ঘর জাকের ক্যাম্প এবং পরবর্তীকালে জাকের মঞ্জিল, পরিশেষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামে একটি বিশ্ব ইসলাম প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করে ফরিদপুর, তথা সারা বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে আল্লাহ প্রদত্ত একটি মহামিশন বাস্তবায়ন ও সত্য ইসলামের দাওয়াত প্রদানের দায়িত্ব পালন করলেন। বস্তুত, হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব সারা বাংলায় তথা সারা বিশ্বে সত্য ইসলামের বাতি প্রজ্বলিত করে মানবজাতিকে একটি আলোকময় পথের সন্ধান দিয়ে মহামিলনের মিলন মেলায় মিলিত হয়ে বিশ্বমানুষের হৃদয় মনে চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন। মানবজাতি তিনার এই প্রতিষ্ঠান বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের কল্যাণ কামনা করে।

 

শেয়ার করুন

আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ)

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

হাঁটি হাঁটি পা পা করে জাকের ক্যাম্প হতে জাকের মঞ্জিল, অতঃপর জাকের মঞ্জিল হতে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নাম ধারণ করে একজন মহান ওলিয়ে কামেল, শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সত্য ইসলাম প্রচার কেন্দ্রটি সারা বিশ্বে শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামটি পরিপূর্ণ বাস্তবতা লাভ করেছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামটি এখন সারা বিশ্বে বহুল পরিচিত।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা মহান ওলিয়ে কামেল হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) তিনার দয়াল মুর্শিদ শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) হতে খেলাফত প্রাপ্তির পর হতে, তিনার পীরের নির্দেশে পৈতৃক বাড়ি-ঘর, দেশ ত্যাগ করে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার অন্তর্গত একটি নিভৃত গ্রাম আটরশিতে এসে সারাটা জীবন সত্য ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের তথা বিশ্বের অসংখ্য পথভোলা মানুষদের সঠিক পথে চলার শিক্ষা দিলেন। মানুষকে তিনি শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারিফত প্রসঙ্গে শিক্ষা দিলেন, অজ্ঞানকে জ্ঞানের আলো দিলেন, অনভিজ্ঞকে অভিজ্ঞ করলেন, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে মানুষকে তিনি জীবন চলার পথে গ্রহণযোগ্য সত্যকে গ্রহণের দাওয়াত দিলেন। এহেন মহাসত্যের দাওয়াত কিয়ামত পর্যন্ত চালু রাখার ব্যবস্থাপনা তিনি রেখে গেলেন। যে শিক্ষা যে আদর্শ, যে দর্শন তিনি বিশ্বে রেখে গেলেন, সে দিন বেশি দূরে নয়, তার কার্যাবলি, তার আদর্শ ও তার দর্শন নিয়ে বিশ্বের জ্ঞানীজন গুণীজন অনন্তকাল গবেষণা চালিয়ে যাবে। বিশ্বমানব সমাজের কল্যাণের জন্য তিনি একটা মহামিশন নিয়ে, একটা মহান ইচ্ছা শক্তি নিয়ে দুনিয়ায় এসেছিলেন। সেই শিক্ষাই তিনি বিশ্বের বহু মানুষকে হাতে কলমে শিখিয়ে গেছেন। তেইশ খানা পূতপবিত্র কিতাব নসিহত গ্রন্থ লিখেও পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রেখে গেছেন। বিশ্বের যেকোনো মানুষ যদি হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের রেখে যাওয়া শিক্ষা গ্রহণ করে তা হলে সে ইহ-পরকালে মহাশান্তি লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তিনি একজন বিশ্ব শিক্ষক। তার বিশ্ব শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন প্রসঙ্গে দু-একটি উদাহরণ দেয়া প্রয়োজন। হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের সম্মানিত পিতা আলিম উদ্দিন মিঞার আমন্ত্রণে ভারত বিখ্যাত ওলিয়ে কামেল শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) তার বাড়িতে মেহমান হয়ে এলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন আলিম উদ্দিন মিঞার দুটি ছেলে আলতাফ হোসেন ও মো. হাসমত উল্লাহ। ছেলে দুটিকে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর খুব ভালো লাগলো। তিনি আলিম উদ্দিন মিঞাকে বললেন, আপনি আপনার ছেলে দুটো আমায় দিন। মো. আলিম উদ্দিন মিঞা সানন্দে ছেলে দুটিকে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর হাতে তুলে দেন। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) বললেন, অদ্য হতে ওদের ভালোমন্দ আমার হাতে রইল।

বিশ্ব শান্তি মঞ্জিল, এনায়েতপুর পাক দরকার শরীফ। বিশ্ব শান্তি মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী শেরপুরের ভাতৃদ্বয় এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফে খেদমত করা শুরু করলেন। ইহলৌকিক পারলৌকিক শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারিফত সব ধরনের শিক্ষা ভাতৃদ্বয় মুর্শিদ কেবলা, শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর নিকট হতে শিক্ষা করতে লাগলেন। বড়ো ভাই আলতাফ হোসেন আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষ হয়ে পরবর্তীকালে আসাম ও বাংলার বহু জায়গায় তরিকা প্রচারে মূল্যবান ভূমিকা রেখেছেন। ছোটো ভাই মো. হাসমত উল্লাহ শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর গোলাম হয়ে অর্ধজীবন পার করেন। পীরের হুকুম ও নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি মঞ্জিলে অবস্থান করে কঠোর কায়িকশ্রম ও আত্মিক সাধনার মাধ্যমে জীবনের চল্লিশটি বছর অতিবাহিত করেছেন।

এ সময়ের মধ্যে শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) নির্দেশ অনুযায়ী তিনার বিষয় সম্পত্তি যা কিছু ছিল বিক্রি করে তিনার পরম পাওয়া মহান মুর্শিদ শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর পুত পবিত্র কদমে অর্পণ করলেন। বিশ্ব চরাচরে তিনার দয়াল মুর্শিদ ছাড়া আর কেউ রইল না।

শাহসুফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) ও তার পরম প্রিয় রুহানী সন্তান হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবকে বুঝাতে চেয়েছিলেন, ত্যাগ নেই তো কোন অর্জন নেই। তিনি তার গোলামের আপদমস্তক দেহের অহংবোধ, হিংসা, নিন্দা ও আভিজাত্যের বড়াই তথা নফছে আম্মারা ধ্বংসের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবই করেছিলেন। প্রিয়তম গোলামকে একটানা সাত দিন আটদিন অনাহারে রেখেছেন। সারাদিন তিনাকে অনাহারে থেকেই কঠিন শ্রম করতে হতো, পাথর ভাঙতে হতো, মাটি কাটতে হতো। কিন্তু তিনাকে খেতে দেয়া হতো না। অনেক সময় মুমূর্ষু অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে যেতেন।

পরম প্রিয় গোলাম হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবকে আবার তার মহান মুর্শিদ কেবলার (রঃ)-এর বিশ্রামের সময় সারারাত নির্ঘুম দাঁড়িয়ে থেকে ঝুলন্ত ফ্যানের রশি টানতে হতো। দিনে রাতে কখনো তিনার ঘুমানোর সুযোগ ছিল না। তিনাকে কোনো বিশ্রাম দেয়া হতো না। কোনো কোনো সময়

হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের অসহায় অবস্থা দেখে তদ্বীয় মহান মুর্শিদ শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)কে কেউ কেউ বিনয়ের সাথে বলতেন, হুজুর না খেয়ে খেয়ে হঠাৎ কোনো অঘটন ঘটে না যায়। না খেয়ে থাকতে থাকতে তার শরীরে কোনো মাংস নেই, হাড়গুলো সব দৃশ্যমান। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.) বলতেন, ‘হাসমত উল্লাহ না খেয়ে না থাকলে ও কেমন করে সারা বিশ্বের মানুষকে পেট পুরে খাওয়াবে’। এহেন কথা স্বপ্নের ন্যায় অমূলক মনে হতো।

কিন্তু না একজন মহান ওলিয়ে কামেল যা বলেন, সেইটাই বাস্তব, দুদিন আগে বা পরে সেটাই বাস্তবায়িত হয়।

প্রসঙ্গক্রমে মহান ওলিয়ে কামেল শাহসুফী সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর একটি মূল্যবান ঘটনা কোট করছি। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) একজন জবরদস্ত ওলিয়ে কামেল ছিলেন। ফরিদপুর জেলার সদর থানার গেরদা নামক গ্রামের শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) অধিবাসী ছিলেন। তিনি তার পূর্ব পুরুষগণও এ ঐতিহ্যবাহি গ্রামে বসবাস করতেন।

শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) অবিভক্ত বাংলার বহু জেলায় তরিকা প্রচার উদ্দেশ্যে বহু ইসলামিক মাহফিল সভা সেমিনার করেছেন তিনি। যে সময় ওয়াজ নসিহত করেছেন তিনি, সে সময় বাংলার বহু মুসলমান মনসা পূজা, লক্ষ্মী পূজা, সরস্বতী পূজা অর্চণার সাথে সম্পৃক্ত থাকতো। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) ফরিদপুর জেলার কোনো কোনো জায়গায় মাহফিলে মুসলমানদেরকে বিভিন্ন পূজাকরণ হতে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাতেন। তৎকালীন মুসলমানরা পূর্বপুরুষদের ধর্মত্যাগ সম্ভব নয় বলে শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ)-কে অপমান করেছিল।

এ কারণে তিনি ফরিদপুরের কোনো এক মাহফিলে বলেছিলেন, আমি তো এ অঞ্চল হেদায়েত করতে পারলাম না, তবে আমি আমার একজন গোলামের গোলাম দিয়ে এই অঞ্চলের জনপদকে হেদায়েত করাব।

শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) ফরিদপুর হতে কলকাতায় হিজরত করলেন। কলকাতা শহরের গোবরাবাগে মোজাদ্দেদীয়া খানকা শরীফ নির্মাণ করে সপরিবারে সেখানেই বসবাস শুরু করেন এবং এ খানকা শরীফকে নিশানা করে তিনি বাংলা, বিহার ও আসামে তরিকা প্রচার শুরু করলেন। স্বল্প সময়ে তার অসংখ্য রুহানী সন্তান হয়ে যায়, লাখ লাখ ভক্ত মুরিদান নিজকে জানবার জন্য, আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর নৈকট্য লাভের জন্য মানুষ সত্যের সন্ধানে তার গোবরাবাগ পাক দরবার শরীফে আসতে থাকে। পাবনা জেলা হতেও অসংখ্য সত্যসন্ধানী মানুষ শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর নিকট বায়াত গ্রহণ করেছিলেন।
বায়াত গ্রহণকারীগণের মধ্যে পাবনা জেলার এনায়েতপুরের আমাদের দাদাপীর শাহসূফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (র.) ছিলেন মেধাসম্পন্ন অনন্য এক ব্যাক্তিত্ব। তার আদব বুদ্ধি মহব্বত ও সাহস ছিল লক্ষ করার মতো। অচিরেই তিনি শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.)-এর নিকট অতি প্রিয়ভাজন হন। শাহসুফি সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রা.) শাহসূফী সৈয়দ এনায়েতপুরী (র.) কে তাহাজু-এত্তহাদি বলে একজন কামেল মোকাম্মেল ওলির দরজায় পৌঁছে দেন। অতঃপর তাকে তার নিজ গৃহ এনায়েত পুরে অবস্থান করেই তরিকা প্রচারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

জামানার ওলিকুল সম্রাট, জামানার মুরাদ ফকির, হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব শাহসুফি সৈয়দ মাওলানা মো. ইউনুস আলী (রা.)-এরই রুহানী সন্তান। শাহসুফি সৈয়দ এনায়েতপুরী (রা.)-এর নির্দেশক্রমে হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার একটি নিভৃত গ্রাম আটরশিতে প্রেরিত হন।

১৩৫০ বঙ্গাব্দে হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব ফরিদপুরের সদরপুর থানাধীন আটরশি গ্রামে মহসীন খানের বাড়িকে কেন্দ্র করে প্রথমে একটি টিন শেড ঘর জাকের ক্যাম্প এবং পরবর্তীকালে জাকের মঞ্জিল, পরিশেষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল নামে একটি বিশ্ব ইসলাম প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করে ফরিদপুর, তথা সারা বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে আল্লাহ প্রদত্ত একটি মহামিশন বাস্তবায়ন ও সত্য ইসলামের দাওয়াত প্রদানের দায়িত্ব পালন করলেন। বস্তুত, হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব সারা বাংলায় তথা সারা বিশ্বে সত্য ইসলামের বাতি প্রজ্বলিত করে মানবজাতিকে একটি আলোকময় পথের সন্ধান দিয়ে মহামিলনের মিলন মেলায় মিলিত হয়ে বিশ্বমানুষের হৃদয় মনে চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন। মানবজাতি তিনার এই প্রতিষ্ঠান বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের কল্যাণ কামনা করে।