নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি
- আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 7
নবাবি আমলে স্থানীয় একজন জমিদার ছিলেন প্রতাপ সিংহ। তার মেয়ে মালঞ্চ নদীতে নৌকাডুবিতে মারা গেলে তার নাম অনুসারেই এই নদীর নাম হয় ‘মালঞ্চ’। নিবিড় প্রকৃতির মাঝে বয়ে চলা মালঞ্চ নদীর অপরূপ দৃশ্য সকলকে আকৃষ্ট করে।
নিঃসর্গের বুক চিড়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বয়ে গেছে এই মালঞ্চ নদী। নয়ানাভিরাম নিঃসর্গ আর দারুণ মনকাড়া নামটি থাকলেও ছিলোনা সরকারিভাবে নদী হিসেবে কোন স্বীকৃতি। তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ছোট্ট এই নদী। বর্তমানে বাংলাদেশের নদ-নদীর তালিকায় ১১১২ নম্বর নদী হিসেবে তালিকাভুক্ত নদী এই মালঞ্চ। যার নামটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে খবরের পাতায় প্রথম উঠিয়ে এনেছিলেন প্রিয় সম্পাদক সাংবাদিক মো: হারুন আনসারী। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা গুরুত্ব দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেন তাদের মিডিয়ায়। যোগাযেুাগ করা হয় ফরিদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে। এরপর গত বছরের পহেলা বৈশাখে সরকার নতুন করে দেশের নদনদীর তালিকা প্রকাশ করলে সেখানে দেখা যায় এই মালঞ্চ নদীর নাম।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদর বাজার ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মালঞ্চ ফরিদপুরের শহরের কোলজুড়ে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী কুমার নদের একটি শাখা নদী। যার অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে কয়েকশ বছরের ইতিহাস। আর তাঁর নামকরণের সঙ্গে রয়েছে এক শোকগাথা।
জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবনের ভেতর মালঞ্চ নামে একটি নদী রয়েছে। এই নামে নদী রয়েছে রাজশাহীতেও। সেসব নদীর মতো সুদীর্ঘ না হলেও ফরিদপুরের মালঞ্চ নদী অনেক পুরোনো। সালথার গট্টি বাজারে কুমার নদ থেকে উৎপত্তি লাভ করে সিংহপ্রতাপ, গৌড়দিয়া, সলিয়া, সেনহাটি, খাগৈড়, গোয়ালপাড়া, গোবিন্দপুর, দুর্গাপুর এই আটটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মালঞ্চ নদী। বিভিন্ন জনপদ ও গ্রাম ছাপিয়ে নদীটি ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আবারও কুমার নদের সঙ্গে মিশেছে। এজন্য অনেকে এটিকে কুমার নদের অংশ মনে করে। কেউ ভাবে খাল!
শুকনো মৌসুমে খরায় পানি শুকিয়ে জেগে উঠে মালঞ্চ নদীর উদাম শরীর। নদীটি সম্প্রতি খনন করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে হাঁটু জল থাকে কোথাও। বর্ষায় পানিতে ভরে উঠে নদীর বুক। ফরিদপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট জাগ দেওয়া হয় বর্ষা মৌসুমে। পাটের পচা হাজামজা পানি নিয়েই বয়ে চলে সে। গ্রামের সহজসরল প্রকৃতির মতোই স্নিগ্ধতা মেশানো তার ছুটে চলা। সুন্দর স্নিগ্ধতা জড়ানো এই নদী যেন সকলের অগোচরে ধরে রেখেছে তার অস্তিত্ব।
৬০ থেকে ৮০ দশকেও এই নদীতে দেশীয় জাতের প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করে রাখা হতো। এটি কোনো রূপকথা নয়, বাস্তব। সেই ভরা ঐশ্বর্যের মালঞ্চ নদী আজ শুধু তার নাব্যতাই হারায়নি, নামটিই হারাতে চলেছে। স্থানীয়দের মতে, নদীমাতৃক বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে আরো অনেক নদ-নদীর মতো মালঞ্চ নদীর রূপলাবণ্য ফিরিয়ে আনা সময়ের অপরিহার্য দাবি। নদীমাতৃক বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে আরো অনেক নদনদীর মতো মালঞ্চের রুপলাবণ্য ফিরিয়ে আনা সময়ের অপরিহার্য দাবি।













