০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
ক্ষমতার ছায়াতল থেকে পলাতক জীবন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায়

অগ্নিপ্রহর প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 519

দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সাধারণ জনগণের মুখে মুখে যাদের নাম শোনা যেতো, এখন তারা চলে গেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর নানা সন্দেহ-শঙ্কা পেরিয়ে এবছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন । তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে। বিরোধীদলের শিবিরে জামায়াত-এনসিপি সহ অন্যান্যরা। দেশে রাজনীতির এই নয়া বন্দোবস্তের পর সেইসব দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতারা এখন কে কোথায় রয়েছেন? কি করছেন তারা? এই প্রশ্নের কৌতুহল থেকেই পাঠকের জন্য সেইসব ডাকসাইটে নেতার এই হালখাতা।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রবীণ নেতা প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরুল্লাহ পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের জুলাই থেকে ছাত্রজনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের একদিন আগেই ৪ আগস্ট ফরিদপুরের দখল নেয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা। ওইদিন দুপুরের পর থেকে জেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও তাদের সহগামীরা আত্মগোপনে চলে যান। দোর্দন্ড প্রতাপশালী স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের দোর্দন্ড ক্ষমতাসীন সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ, শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম নাসির, জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রাহাত খান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিদুল রশীদ রিয়ান, সাধার‌ণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইমান আলী সহ বেশ কয়েকজন নেতার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দেয়। প্রাণের ভয়ে তখন থেকেই তারা চলে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে।

২০০৯ সালে ক্ষমতালাভের পর ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন সাবেক বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ২০২০ সালে মোশাররফ হোসেনের ক্ষমতার পতন হয় নানান বিতর্কে। এরপর জেলার আওয়ামী রাজনীতিতে আধিপত্য বাড়ে ফরিদপুর-৪ আসনের তৎকালীন স্বতন্ত্র এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নিক্সন চৌধুরীর। খন্দকার মোশাররফকে তিনিই হটিয়েছেন বলে দাবি করে বিভিন্ন সভাসমাবেশে বক্তব্য দেন। এসময় জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়াও ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এমনকি জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেনের বিপরীতে নিক্সন চৌধুরী তার অনুগত প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করতে গোপনে আর্থিক লেনদেন সহ নানান তৎপরতা চালান।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উগ্র কায়দায় তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে কর্মীদের হিটলারের মতোই ক্ষেপিয়ে তুলতে পারঙ্গম ছিলেন নিক্সন চৌধুরী। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপরে যুবলীগের হামলায় একইদিনে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী হতাহত হন। ওই ঘটনায় নিক্সন চৌধুরী নেতৃত্ব দেন বলে খবর পাওয়া যায়।

এছাড়াও গত জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহুর্তে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনে নামে এলাকাবাসী। এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, হাইওয়ে থানা ভবন, লোকাল থানা, পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট চালায়। এমনকি মসজিদেও হামলা করা হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। নিক্সন চৌধুরীর নির্দেশেই এ হামলা হয় বলে পরে এক ফোনালাপে তিনি নিজেই স্বীকার করেন। রাজনীতির মাঠের পাকা খেলোয়ার নিক্সন চৌধুরী শেখ হাসিনার পতনের একদিন আগেই ইমিগ্রেশন পেরিয়ে দেশ ছাড়েন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নিক্সন চৌধুরীর পাশাপাশি খন্দকার মোশাররফবিহীন ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের আরেক শীর্ষ নেতা হিসেবে ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের এমপি আব্দুর রহমান। তিনিও লন্ডনে রয়েছেন বলে জানা যায়। হল্যান্ড শামীম নামে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ৫ আগস্টের পর প্রায় ৬ মাস নিরাপদ অবস্থানে নিজেকে গোপন রাখার পর দেশ ছাড়েন। এখন তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে আত্মগোপনে চলে গেলেও দেশ ছাড়েননি সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ। ৫ আগস্টের পর কিছুদিন তিনি এক নেতার আশ্রয়ে ফরিদপুরেই ছিলেন। পরে ঢাকা চলে যান। মাঝেমধ্যে তাকে ফরিদপুরে গাড়িতে চড়ে ঘুরতে দেখা যায় বলে জানা যায়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের অন্যতম অর্থ সরবরাহদাতা ছিলেন তৎকালীন পৌর মেয়র অমিতাব বোস। শেখ হাসিনার পতনের পর আন্দোলনকারীরা তার বাড়ি অভিমুখে হানা দিলে সেসময় স্থানীয় নেতাদের বাধার মুখে ফিরে আসে। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই অমিতাব বোসকে দেখা যায় পৌরসভার মেয়রের চেয়ারে বসে দ্বায়িত্ব পালনকালে। অবশ্য পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের সবক’টি পৌরসভার পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করলে আর দেখা যায়নি তাকে। এরপরপরই তিনি দেশ ছেড়ে পাশের দেশ ইন্ডিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন এই নেতা।

তবে স্বল্পসময়ে অমিতাব বোসের জনসম্মুখে আসার এই ঘটনার চেয়েও দুর্দান্ত নাটকিয়তা দেখান জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক গোলাম নাসির। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত বর্ধিত সভায় শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে দেখা যায় গোলাম নাসিরকে। সেই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর প্রায় সাতমাস আত্মগোপনে থাকা নাসির গত বছরের ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন।

এদিকে, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের অনুপস্থিতিতে দলীয়নেত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন সহ-সভাপতি মো: ফারুক হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব দেন বলে সোসাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। ৩ নভেম্বর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে ফারুক হোসেন নিজেকে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’ পরিচয় দিয়ে লেখেন, ‘ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সব থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকুন। ১০-১১-১২ তারিখ স্ব স্ব এলাকায় অবস্থান করে মিছিল করুন। বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন—অবৈধ ট্রাইব্যুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় শহরের ঝিলটুলীর একটি ফ্লাট থেকে গত বছরের ১০ নভেম্বর যুব মহিলা লীগের নেত্রী নাসরিন সহ বোমা ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক একাধিক মামলার আসামি শাহাদত হোসেন এখন ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। জাদুমন্ত্র বলে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী নেতা যশোদাজীবন দেবনাথ এখন দেশ ছেড়ে অবস্থান করছেন কানাডায়।
চব্বিশের আন্দোলনে স্বয়ংক্রিয় আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে রাজপথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উপর হামলা করে ভাইরাল হওয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নেতা দীপ বন্ধু সাহা গ্রেফতার এড়াতে এখন ভারতে চলে গেছেন। একইভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের উপর গুলি বর্ষণকারী স্থানীয় কাউন্সিলর মোবারক খলিফা আত্মগোপনে থেকেই এবার ঈদ শুভেচ্ছার ফেস্টুন টাঙিয়ে নজরে এসেছেন। বায়তুল আমানের আওয়ামী লীগ নেতা স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল হক ভাঙ্গা থানায় গ্রেফতার হন। টেপাখোলায় নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে রয়েছেন যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফয়সাল।

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের আমলে গজিয়ে ওঠা হেলমেট বাহিনী-হাতুড়ি বাহিনীর তৎপরতা মিলিয়ে গেছে । শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রেখেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বহুল আলোচিত দেবাশীষ নয়ন। ফরিদপুর-গোয়ালন্দ মহাসড়কে শেখ হাসিনার জন্য রাতের বেলায় প্রথম ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে নজরে আসেন তিনি। এরপর ভাঙ্গার আলগী-হামিরদি রক্ষা আন্দোলনে দেশীয় অস্ত্রসহ মহাসড়কে দাঙ্গার ঘটনায় দেবাশীষ নয়নকে সাতসকালেই রাস্তায় নেমে হুঙ্কার ছাড়তে দেখা যায়। বেশকিছু মামলার এই আসামি এখনো পুলিশের রধরাছোঁয়ার বাইরে। ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শামচুল হক চৌধুরী ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাপুটে নেতা রেজাউল হক বকু এখন চট্টগ্রামে কাজকর্ম করে খাচ্ছেন।

জেলা যুবলীগ আহবায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু, যুগ্ম আহবায়ক শাহ সুলতান রাহাত, শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আসিবুর ফারহান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানজিদুল রশিদ রিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জনি, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ জনি সহ আরো অনেকেই ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনার জন্য রাজপথ গরম করে তোলা যুব মহিলা লীগের জেলা সভাপতি রুকসানা আক্তার মেহেবী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী রাবেয়া বৃষ্টি ঢাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক ব্যবসায়ী নেতাদের শেল্টারে স্বাচ্ছন্দেই দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এদের মধ্যে জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার, রুকসুর সাকে ভিপি ছাত্রলীগ নেতা কাওসার আকন্দ জামিনে রয়েছেন। হার্টের রিং পরানোর কারণে অসুস্থ্য শামীম তালুকদারকে জামিন পেতে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও সহায়তা করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতাদের বাইরে সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিরবভাবে দিন পাল্টানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। হাইব্রিডদের একটি বড় অংশ রাতারাতি ভোল পাল্টে বিভিন্ন দলে জায়গা খুঁজছেন। এসব নিয়ে বিএনপির রাজপথের কর্মীদের এখন ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের অনেকেই এখন ক্ষমতাসীন নেতাদের বাড়িতে আনাগোনা করতে দেখা যাচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, বিএনপি কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনা। আমরা গণমানুষের রাজনীতি করি। তাই প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে হামলা-মামলা, হয়রানির রাজনীতি যেনো আবার ফিরে না আসে, সেটাই আমাদের কাম্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশে এখন তারুণ্যের অহংকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউকে আমরা নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেবোনা। পাশাপাশি নিরীহ কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রয়েছে। আমরা শান্তিপ্রিয় জনগণ সকলকে একসাথে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে চাই।

এবিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের নামে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেদিকে জেলা পুলিশের সার্বিক নজরদারি রয়েছে। বিগতদিনে যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন এবং যাদের নামে মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছেনা। যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ রয়েছে এবং যারা নাশকতার সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওয়ায় আনা হবে।

শেয়ার করুন

ক্ষমতার ছায়াতল থেকে পলাতক জীবন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায়

আপডেট সময় : ০২:৪২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সাধারণ জনগণের মুখে মুখে যাদের নাম শোনা যেতো, এখন তারা চলে গেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর নানা সন্দেহ-শঙ্কা পেরিয়ে এবছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন । তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে। বিরোধীদলের শিবিরে জামায়াত-এনসিপি সহ অন্যান্যরা। দেশে রাজনীতির এই নয়া বন্দোবস্তের পর সেইসব দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতারা এখন কে কোথায় রয়েছেন? কি করছেন তারা? এই প্রশ্নের কৌতুহল থেকেই পাঠকের জন্য সেইসব ডাকসাইটে নেতার এই হালখাতা।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রবীণ নেতা প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরুল্লাহ পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের জুলাই থেকে ছাত্রজনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের একদিন আগেই ৪ আগস্ট ফরিদপুরের দখল নেয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা। ওইদিন দুপুরের পর থেকে জেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও তাদের সহগামীরা আত্মগোপনে চলে যান। দোর্দন্ড প্রতাপশালী স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের দোর্দন্ড ক্ষমতাসীন সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ, শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম নাসির, জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রাহাত খান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিদুল রশীদ রিয়ান, সাধার‌ণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইমান আলী সহ বেশ কয়েকজন নেতার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দেয়। প্রাণের ভয়ে তখন থেকেই তারা চলে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে।

২০০৯ সালে ক্ষমতালাভের পর ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন সাবেক বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ২০২০ সালে মোশাররফ হোসেনের ক্ষমতার পতন হয় নানান বিতর্কে। এরপর জেলার আওয়ামী রাজনীতিতে আধিপত্য বাড়ে ফরিদপুর-৪ আসনের তৎকালীন স্বতন্ত্র এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নিক্সন চৌধুরীর। খন্দকার মোশাররফকে তিনিই হটিয়েছেন বলে দাবি করে বিভিন্ন সভাসমাবেশে বক্তব্য দেন। এসময় জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়াও ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এমনকি জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেনের বিপরীতে নিক্সন চৌধুরী তার অনুগত প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করতে গোপনে আর্থিক লেনদেন সহ নানান তৎপরতা চালান।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উগ্র কায়দায় তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে কর্মীদের হিটলারের মতোই ক্ষেপিয়ে তুলতে পারঙ্গম ছিলেন নিক্সন চৌধুরী। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপরে যুবলীগের হামলায় একইদিনে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী হতাহত হন। ওই ঘটনায় নিক্সন চৌধুরী নেতৃত্ব দেন বলে খবর পাওয়া যায়।

এছাড়াও গত জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহুর্তে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনে নামে এলাকাবাসী। এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, হাইওয়ে থানা ভবন, লোকাল থানা, পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট চালায়। এমনকি মসজিদেও হামলা করা হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। নিক্সন চৌধুরীর নির্দেশেই এ হামলা হয় বলে পরে এক ফোনালাপে তিনি নিজেই স্বীকার করেন। রাজনীতির মাঠের পাকা খেলোয়ার নিক্সন চৌধুরী শেখ হাসিনার পতনের একদিন আগেই ইমিগ্রেশন পেরিয়ে দেশ ছাড়েন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নিক্সন চৌধুরীর পাশাপাশি খন্দকার মোশাররফবিহীন ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের আরেক শীর্ষ নেতা হিসেবে ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের এমপি আব্দুর রহমান। তিনিও লন্ডনে রয়েছেন বলে জানা যায়। হল্যান্ড শামীম নামে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ৫ আগস্টের পর প্রায় ৬ মাস নিরাপদ অবস্থানে নিজেকে গোপন রাখার পর দেশ ছাড়েন। এখন তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে আত্মগোপনে চলে গেলেও দেশ ছাড়েননি সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ। ৫ আগস্টের পর কিছুদিন তিনি এক নেতার আশ্রয়ে ফরিদপুরেই ছিলেন। পরে ঢাকা চলে যান। মাঝেমধ্যে তাকে ফরিদপুরে গাড়িতে চড়ে ঘুরতে দেখা যায় বলে জানা যায়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের অন্যতম অর্থ সরবরাহদাতা ছিলেন তৎকালীন পৌর মেয়র অমিতাব বোস। শেখ হাসিনার পতনের পর আন্দোলনকারীরা তার বাড়ি অভিমুখে হানা দিলে সেসময় স্থানীয় নেতাদের বাধার মুখে ফিরে আসে। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই অমিতাব বোসকে দেখা যায় পৌরসভার মেয়রের চেয়ারে বসে দ্বায়িত্ব পালনকালে। অবশ্য পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের সবক’টি পৌরসভার পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করলে আর দেখা যায়নি তাকে। এরপরপরই তিনি দেশ ছেড়ে পাশের দেশ ইন্ডিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন এই নেতা।

তবে স্বল্পসময়ে অমিতাব বোসের জনসম্মুখে আসার এই ঘটনার চেয়েও দুর্দান্ত নাটকিয়তা দেখান জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক গোলাম নাসির। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত বর্ধিত সভায় শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে দেখা যায় গোলাম নাসিরকে। সেই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর প্রায় সাতমাস আত্মগোপনে থাকা নাসির গত বছরের ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন।

এদিকে, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের অনুপস্থিতিতে দলীয়নেত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন সহ-সভাপতি মো: ফারুক হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব দেন বলে সোসাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। ৩ নভেম্বর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে ফারুক হোসেন নিজেকে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’ পরিচয় দিয়ে লেখেন, ‘ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সব থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকুন। ১০-১১-১২ তারিখ স্ব স্ব এলাকায় অবস্থান করে মিছিল করুন। বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন—অবৈধ ট্রাইব্যুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় শহরের ঝিলটুলীর একটি ফ্লাট থেকে গত বছরের ১০ নভেম্বর যুব মহিলা লীগের নেত্রী নাসরিন সহ বোমা ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক একাধিক মামলার আসামি শাহাদত হোসেন এখন ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। জাদুমন্ত্র বলে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী নেতা যশোদাজীবন দেবনাথ এখন দেশ ছেড়ে অবস্থান করছেন কানাডায়।
চব্বিশের আন্দোলনে স্বয়ংক্রিয় আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে রাজপথে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উপর হামলা করে ভাইরাল হওয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নেতা দীপ বন্ধু সাহা গ্রেফতার এড়াতে এখন ভারতে চলে গেছেন। একইভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের উপর গুলি বর্ষণকারী স্থানীয় কাউন্সিলর মোবারক খলিফা আত্মগোপনে থেকেই এবার ঈদ শুভেচ্ছার ফেস্টুন টাঙিয়ে নজরে এসেছেন। বায়তুল আমানের আওয়ামী লীগ নেতা স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল হক ভাঙ্গা থানায় গ্রেফতার হন। টেপাখোলায় নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে রয়েছেন যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফয়সাল।

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের আমলে গজিয়ে ওঠা হেলমেট বাহিনী-হাতুড়ি বাহিনীর তৎপরতা মিলিয়ে গেছে । শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রেখেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বহুল আলোচিত দেবাশীষ নয়ন। ফরিদপুর-গোয়ালন্দ মহাসড়কে শেখ হাসিনার জন্য রাতের বেলায় প্রথম ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে নজরে আসেন তিনি। এরপর ভাঙ্গার আলগী-হামিরদি রক্ষা আন্দোলনে দেশীয় অস্ত্রসহ মহাসড়কে দাঙ্গার ঘটনায় দেবাশীষ নয়নকে সাতসকালেই রাস্তায় নেমে হুঙ্কার ছাড়তে দেখা যায়। বেশকিছু মামলার এই আসামি এখনো পুলিশের রধরাছোঁয়ার বাইরে। ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শামচুল হক চৌধুরী ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাপুটে নেতা রেজাউল হক বকু এখন চট্টগ্রামে কাজকর্ম করে খাচ্ছেন।

জেলা যুবলীগ আহবায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু, যুগ্ম আহবায়ক শাহ সুলতান রাহাত, শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আসিবুর ফারহান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানজিদুল রশিদ রিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জনি, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ জনি সহ আরো অনেকেই ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনার জন্য রাজপথ গরম করে তোলা যুব মহিলা লীগের জেলা সভাপতি রুকসানা আক্তার মেহেবী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী রাবেয়া বৃষ্টি ঢাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক ব্যবসায়ী নেতাদের শেল্টারে স্বাচ্ছন্দেই দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এদের মধ্যে জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার, রুকসুর সাকে ভিপি ছাত্রলীগ নেতা কাওসার আকন্দ জামিনে রয়েছেন। হার্টের রিং পরানোর কারণে অসুস্থ্য শামীম তালুকদারকে জামিন পেতে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও সহায়তা করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতাদের বাইরে সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিরবভাবে দিন পাল্টানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। হাইব্রিডদের একটি বড় অংশ রাতারাতি ভোল পাল্টে বিভিন্ন দলে জায়গা খুঁজছেন। এসব নিয়ে বিএনপির রাজপথের কর্মীদের এখন ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের অনেকেই এখন ক্ষমতাসীন নেতাদের বাড়িতে আনাগোনা করতে দেখা যাচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, বিএনপি কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনা। আমরা গণমানুষের রাজনীতি করি। তাই প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে হামলা-মামলা, হয়রানির রাজনীতি যেনো আবার ফিরে না আসে, সেটাই আমাদের কাম্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশে এখন তারুণ্যের অহংকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউকে আমরা নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেবোনা। পাশাপাশি নিরীহ কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রয়েছে। আমরা শান্তিপ্রিয় জনগণ সকলকে একসাথে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে চাই।

এবিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের নামে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেদিকে জেলা পুলিশের সার্বিক নজরদারি রয়েছে। বিগতদিনে যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন এবং যাদের নামে মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছেনা। যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ রয়েছে এবং যারা নাশকতার সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওয়ায় আনা হবে।