সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দেন এবং এসি ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করেন
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সকলকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- / 68
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দিনের আলো ব্যবহার করতে জানালার পর্দা সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, আলোকসজ্জা পরিহার, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের (এয়ার কন্ডিশনার) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখাসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়। সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, করপোরেশনসহ সব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সব মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। লাইট কম ব্যবহার করেদিনের বেলা অফিস বা বাড়িঘরের পর্দার জানালার সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দেন এবং এসি ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধনের পর পুরো সচিবালয় জুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পন্থা অবলম্বন শুরু হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাপত্রে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা প্রয়োজন। সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, করপোরেশনসহ সব অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য নিচের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১১ দফা নির্দেশনা:
১. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
২. বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।
৫. অফিসকক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
৬. অফিসের করিডর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
৮. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
১০. গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
১১. জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাপত্রে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর বা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বলা হয়। নির্দেশনাপত্র সব সচিব, কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সব কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়।










