মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও উপর জি-সেভেন এর চাপ !
- আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / 39
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি- সেভেন দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস ও অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, রুবিওর ওপর পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি- সেভেন এর অন্যান্য সদস্য দেশ—যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান—এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়তে অনাগ্রহী।
ফ্রান্সে যাওয়ার পথে রুবিও বলেন, জি সেভেন দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান কার্যত এই প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।তিনি আরও বলেন, “আমি কাউকে খুশি করতে যাচ্ছি না। যারা আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুত্ব দেয়, তাদের এ বিষয়ে কিছু করা উচিত।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বৈঠকে প্রবেশের সময় বলেন, “আমরা এই সংঘাতের দ্রুত সমাধান চাই, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও স্বাভাবিক করবে।”
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জি-সেভেনের মন্ত্রীরা এর আগে জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: জোহান ওয়াডেফুল বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যৌথ অবস্থান তৈরি করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একই অবস্থান পোষণ করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের সদস্যরা কার্যত কোনো সহায়তা করেনি।
এই বৈঠকে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি বৈঠকের ফাঁকে রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাজা কাল্লাস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ইউক্রেন যুদ্ধ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তিনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থামাতে চায়, তবে রাশিয়ার ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে হবে।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই রাশিয়া ইরানকে ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছিল।













