০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

“সাংবাদিকের জন্য প্রেসক্লাব না প্রেসক্লাবের জন্য সাংবাদিকতা?” প্রশ্ন বিচারপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 153

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেছেন, “প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক, কার জন্য কে? সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব, না প্রেসক্লাবের জন্য সাংবাদিক? কার জন্য কে? আমি জানিনা, আমি জানতে চাই।” তিনি বলেন, “প্রেসক্লাব যদি সাংবাদিকের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সেই অধিকার হচ্ছে সাংবাদিকের অধিকার, কোন প্রেসক্লাবের অধিকার না। এইখানে ফরিদপুর প্রেসক্লাব, কোন সাংবাদিকদের ইউনিয়ন নাই! প্রেসক্লাবের কাজ কি? ইটস এ প্রাইভেট ক্লাব।”

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবদিকবৃন্দের জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত “গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম একথা বলেন।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন,২০০৭ সালের শ্রম আইনে সাংবাদিকদের ইউনিয়নের কথা বলা আছে। ওয়ার্কিং জার্নালিস্টরা কোথা থেকে আসে আমি জানি। তারা আসে সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে। সারাদেশের ১৮টি জেলায় তারা প্রেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে দেশের প্রাচীন একটি জেলা ফরিদপুর জেলায় সাংবাদিকদের কোন ইউনিয়ন নাই!

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে এমন, তারা সাংবাদিকতা করেন না, সংবাদ তুলে ধরেন। কারণ সাংবাদিকতার একটা প্লাটফর্ম আছে যে, কারা সাংবাদিক হবেন। সেক্ষেত্রে যারা ইউটিউব বেজড্ তথ্যগুলো তুলে ধরেন, আপনারা সতর্ক থাকবেন যেনো কারো ব্যক্তিগত আক্রোশ, কারো প্রতি ক্ষোভ, কারো চরিত্র হণন করার জন্য করা না হয়। তাহলে কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) মো: আব্দুস সবুর। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট মিন্টু বিশ্বাস, সিনিয়র জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হোক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক মূদ্রিত ‘প্রশিক্ষণ সহায়িকা’ নামক পুস্তক প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে ৩০ জন সংবাদকর্মীর অংশগ্রহণে এ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা তথ্য অফিস থেকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মাধ্যমে তাদের একটি তালিকাও সংগ্রহ করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সকালে কর্মশালায় ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবে সদস্য পরিচয়ে আরো ১৪ জন সেখানে উপস্থিত হন। এ অবস্থায় প্রেস কাউন্সিলের সচিব তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত হলে তাদের কি কি সমস্যা হয় তা তুলে ধরেন।

তবে ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সদস্যদের কর্মশালায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সেখানে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের মাঝে সমালোচনা তৈরি হয়। তারা কিছু সময়ের মধ্যেই কর্মশালাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুরো কর্মশালা জুড়ে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন নিয়েই আলোচনা করেন ঢাকা থেকে আগত অতিথিগণ। প্রধান অতিথির বক্তব্য চলাকালে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। অবশ্য পরে আবার তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে যেয়ে কর্মশালার সনদ গ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

“সাংবাদিকের জন্য প্রেসক্লাব না প্রেসক্লাবের জন্য সাংবাদিকতা?” প্রশ্ন বিচারপতির

আপডেট সময় : ১২:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেছেন, “প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক, কার জন্য কে? সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব, না প্রেসক্লাবের জন্য সাংবাদিক? কার জন্য কে? আমি জানিনা, আমি জানতে চাই।” তিনি বলেন, “প্রেসক্লাব যদি সাংবাদিকের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সেই অধিকার হচ্ছে সাংবাদিকের অধিকার, কোন প্রেসক্লাবের অধিকার না। এইখানে ফরিদপুর প্রেসক্লাব, কোন সাংবাদিকদের ইউনিয়ন নাই! প্রেসক্লাবের কাজ কি? ইটস এ প্রাইভেট ক্লাব।”

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবদিকবৃন্দের জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত “গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম একথা বলেন।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন,২০০৭ সালের শ্রম আইনে সাংবাদিকদের ইউনিয়নের কথা বলা আছে। ওয়ার্কিং জার্নালিস্টরা কোথা থেকে আসে আমি জানি। তারা আসে সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে। সারাদেশের ১৮টি জেলায় তারা প্রেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে দেশের প্রাচীন একটি জেলা ফরিদপুর জেলায় সাংবাদিকদের কোন ইউনিয়ন নাই!

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে এমন, তারা সাংবাদিকতা করেন না, সংবাদ তুলে ধরেন। কারণ সাংবাদিকতার একটা প্লাটফর্ম আছে যে, কারা সাংবাদিক হবেন। সেক্ষেত্রে যারা ইউটিউব বেজড্ তথ্যগুলো তুলে ধরেন, আপনারা সতর্ক থাকবেন যেনো কারো ব্যক্তিগত আক্রোশ, কারো প্রতি ক্ষোভ, কারো চরিত্র হণন করার জন্য করা না হয়। তাহলে কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) মো: আব্দুস সবুর। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট মিন্টু বিশ্বাস, সিনিয়র জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হোক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক মূদ্রিত ‘প্রশিক্ষণ সহায়িকা’ নামক পুস্তক প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে ৩০ জন সংবাদকর্মীর অংশগ্রহণে এ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা তথ্য অফিস থেকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মাধ্যমে তাদের একটি তালিকাও সংগ্রহ করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সকালে কর্মশালায় ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবে সদস্য পরিচয়ে আরো ১৪ জন সেখানে উপস্থিত হন। এ অবস্থায় প্রেস কাউন্সিলের সচিব তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত হলে তাদের কি কি সমস্যা হয় তা তুলে ধরেন।

তবে ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সদস্যদের কর্মশালায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সেখানে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের মাঝে সমালোচনা তৈরি হয়। তারা কিছু সময়ের মধ্যেই কর্মশালাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুরো কর্মশালা জুড়ে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন নিয়েই আলোচনা করেন ঢাকা থেকে আগত অতিথিগণ। প্রধান অতিথির বক্তব্য চলাকালে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। অবশ্য পরে আবার তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে যেয়ে কর্মশালার সনদ গ্রহণ করেন।